somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হযরত আলী কার্‌রামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক-১

০৯ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিচিতি:
নাম আলী, উপনাম আবূল হাসান (হাসানের পিতা) ও আবূ তুরাব (মাটির পিতা)। পিতার নাম আবূ তালিব, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ। বিশেষ উপাধি আসাদুল্লাহ (আল্লাহ পাক-উনার সিংহ), হায়দার (বাঘ), মুরতাদ্বা (সন্তষ্টি-প্রাপ্ত)। তিনি আব্দুল্লাহ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাত ভাই। কুরাইশ বংশের হাশেমী শাখায় জন্ম। পিতৃকূল ও মাতৃকূল উভয় দিক থেকে তিনি হাশেমী বংশদ্ভূত।

বিলাদত শরীফ:

রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নুবুওয়াত লাভের দশ বছর পূর্বে বিলাদত লাভ করেন। জন্মের সময় পিতা আবূ তালিব অত্যন্ত অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পিতৃব্যের আর্থিক সঙ্কট লাঘবের উদ্দেশ্যে বালক আলীকে নিজে প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অপর পুত্র জাফরকে পিতৃব্য হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অভিভাবকত্বে সোপর্দ করেন। (তাবারী)
ইসলাম গ্রহণ:
একদা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে নামায পড়তে দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা কি করছেন? উত্তরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা আল্লাহ পাক-উনার দ্বীন। হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, তোমাকেও আমরা সেই দায়িত্ব দিচ্ছি। তখনই তিনি ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কালিমা শরীফ পাঠ করেন। ইসলাম গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক দশ বছর ছিল। তিনি হলেন সর্বসম্মতিক্রমে বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুলকারী।

কিশোর ও যৌবন কাল:
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর চৌদ্দ কিংবা পনের বৎসর বয়সকালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট-আত্মীয়দিগকে ইসলামের দিকে আহবান করার জন্য নির্দেশ পান। এতদুদ্দেশ্যে তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সকলকে একত্র করবার ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেন; হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বেশ উক্তমরূপে এর ব্যবস্থা করেন। দস্তরখানে খাসীর পায়া এবং দুগ্ধ রাখা হয়েছিল। উপসি'ত মেহমানদের সংখ্যা ছিল ৪০ জন। আহার সমাপনের পর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের আহবান জানান। এই সমাবেশে কেবল হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুই তাঁকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান এবং ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন । (তাবারী)

মক্কা শরীফে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সঙ্কট ও অগ্নি পরীক্ষার তেরটি কঠিন বৎসর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। এর মধ্যে আবূ তালিব গিরি সঙ্কটে তিন বৎসরের নির্বাসিত জীবন ছিল সর্বাপেক্ষা সঙ্কটপূর্ণ। সে সময় উনার ভ্রাতা হযরত জাফর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্ত্রী সহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। কিন' হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এরূপ কঠিন মুহূর্তেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসাবে মক্কা শরীফে অবস্থান করেন, যতদিন না তিনি মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ হিজরত করার অনুমতি পেলেন।

মক্কা শরীফের মুশরিকদের যে সব সম্পদ আমানত হিসেবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নিকট রক্ষিত ছিল, এমতাবস্থায়ও শত্রুর গচ্ছিত সম্পদ মালিকদের নিকট প্রত্যার্পনের কথা তিনি ভূলেননি। তিনি সেই সব গচ্ছিত সম্পদ প্রত্যার্পনের দায়িত্ব হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অর্পন করেন এবং বলেন যে, তিন দিন পর এই সব গচ্ছিত সম্পদ এর মালিকদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে মদীনা শরীফে আসবে। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিন দিনের মধ্যেই সেইগুলি প্রাপক ব্যক্তিদেরকে পৌঁছিয়ে দিয়ে পরে কুবাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সঙ্গে মিলিত হন। (ইবনে কাছির)

জিহাদের ময়দানে বীরত্ব:

দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমাদ্বান বদরের জিহাদে মুসলমান ও মুশরিক উভয় বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি হয়। তৎকালীন যুদ্ধরীতি অনুযায়ী মক্কা শরীফের মুশরিকদের পক্ষ হতে উতবা, শায়বা এবং ওলিদ নামক তিন জন সদর্পে ময়দানে অবতরণ করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিকে যুদ্ধে আহবান জানালে তাদের মোকাবেলায় হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠানো হয়। হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে তাঁদের স্ব স্ব প্রতিদ্বন্দ্বি নিহত হয়। কিন' বার্ধক্য জনিত কারণে হজরত উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তখন সফল না হওয়ায় হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার সাহায্যার্থে অগ্রসর হন এবং প্রতিপক্ষ শায়বা নিহত হয়। অতঃপর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই যুদ্ধে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বীরত্বের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন। (তাবারী)

হিজরী তৃতীয় সালে সংঘটিত উহুদের জিহাদে মুশরিকগণ মুসলমানদেরকে আক্রমণ করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কিন' হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের সকল অভিসন্ধিই ব্যর্থ করে দেন। মুশরিক বাহিনীর পতাকাবাহী আবূ সা’দ ইবনে আবি তালহা তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহবান জানালে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এক আঘাতেই তাকে ধরাশায়ী করেন; কিন' তার অসহায়তা ও হতবিহ্বলতা দেখে তিনি তাকে হত্যা করেন নি। (ইবনে হিশাম)

হিজরী ৭ম সনে খাইবারের জিহাদ সংঘটিত হয়। এই জিহাদে খাইবরের সর্বাধিক সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কামুস্থ’ এর অধিকর্তা মারহাব নামক এক বিখ্যাত ইয়াহুদী বীরকে হত্যা করে তিনি অতুলনীয় বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দান করেন। অত:পর কয়েকদিন অবরোধের পর তিনি দুর্গ অধিকারে সক্ষম হন। এই জিহাদে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সূদৃঢ় দুর্গ ‘‘কাছরে মারহাব’’ জয় করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন । (ইবনে হিশাম)

রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পর্ক :
একদিকে তিনি রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার চাচাতো ভাই। অপরদিকে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আদরের দুলালী হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর স্বামী। দ্বিতীয় হিজরীতে তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

খিলাফত লাভ:
খিলাফত লাভের পূর্বে তিনি হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফত আমলে পরামর্শদাতা ছিলেন। হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর শাহাদতের পর হিজরী ৩৫ সনে খিলাফতের মসনদে সমাসীন হন। প্রায় চার বছর সাড়ে আট মাস যাবত এ দায়িত্ব যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×