
শিক্ষা এমন এক আলোকবর্তীকা যা মানসিক,আত্মিক, নৈতিক গুনাবলির উন্নয়ন সাধন
চরিত্র গঠনে সয়ায়ক ভূমিকা পালন করে।তাই একজন শিক্ষিত মানুষের মনন আমরা উন্নত উদার,নৈতিক ও আদর্শের প্রতিচ্ছবি বলে মনে করি।
ছাত্ররাজনীতি একটি আদর্শিক ও ত্যাগী প্রতিষ্ঠান যা দলগঠন নেতৃত্ব দান সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও মানবিকতার দীক্ষা দেয়।শিক্ষা দেয় ভাসানী,সোহরাওয়ার্দী,বঙ্গ বন্ধুর মত নেতা হওয়ার।
ভার্সিটিতে একাধিক ছাত্র সংগঠন থাকবে আদর্শের চার্চা হবে,এখান থেকে বেড়িয়ে আসবে বাগ্মী, আত্মত্যাগী,নির্ভীক, নীতিবান নেতা।কিন্তু আজ ভালো একটা চাকুরী পাওয়ার লোভে এসব সংগঠনের সাথে যুক্ত হচ্ছে ছাত্ররা ।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের নীতি আদর্শের বাইরে একক আধিপত্য বিস্তার,হল দখল,চাঁদাবাজী,খুন,ধর্ষনের মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে দেখেছি।দেখেছি শিক্ষকের মত মহান ব্যক্তিকে লাঞ্চিত হতে।তাদের উপর হাত তুলতে।
আজ নির্যাতন ও নিপীরনে সংগঠনের নীতি নৈতিকতার ব্যত্যায় লক্ষিত হয়েছে।
দেখা গেছে এক ছাত্র অন্য ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করতে,ঘটা করে হচ্ছে দেশিয় ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া।কলঙ্কিত হয়েছে ছাত্ররাজনীতির আদর্শ ও লক্ষ্য।
কিছু নেক্কারজনক ঘটনায় বিষিয়ে উঠেছে মানুষের মন।সাম্প্রতিক সময়ে সাতটি সরকারি কলেজের অধিভুক্তির প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন,সহিংসতা,আরোপিত উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধে উপাচার্যকে মুক্ত করতে
ছাত্রলীগ কর্মীদের পুলিশের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়ায় বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ছাত্রদের অহিসংস আন্দলন ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে সহিংস হয়ে ওঠে।আনেকেই এখন বলছে অদূর ভবিষ্যতে হয়তোবা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে ছাত্রলীগকে দেখবে জনগন।

ঢাবি ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর বস্ত্রহরণকারী ঢাবি বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শ্রবণী শায়লা কর্তৃক এক ছাত্রীকে পিটুনি ও বস্ত্রহরন ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাইরাল।ছাত্রী হয়ে অন্য এক ছাত্রীকে মারধর ও বস্ত্রহরণ একটি লজ্জা অপমান ও চরম নৃশংসতার দৃষ্টান্ত বটে।
মহাভারতের কাহীনিতে দুর্যোদনের আদেশে দুঃশাসন পঞ্চপাণ্ডবের স্ত্রী দ্রোপদীর বস্ত্রহরনে অগ্রসর হলে দ্রোপদীর প্রার্থনায় কৃষ্ণ অবতার রুপে শত কাপড় দিয়ে সম্ভ্রম রক্ষা করে। কৌরব ও পা- বদের যুদ্ধে ভীম দুঃশাসনের রক্তপান করে দ্রোপদীর আপমানের প্রতিশোধ নেন।
কিন্তু ঢাবির এমন ঘটনায় দলীয় পরিচয় থাকায় প্রতিশোধ দূরে থাক সাধারন শিক্ষার্থীরা নির্যাতন ও নিপীড়নের আদৌ প্রশাসনিক কোন ন্যায় বিচার পাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ।
ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে না আসলে হয়তোবা শিরোনাম হত ছাত্রী লাঞ্চনায় জড়িত জামাত শিবিরের কর্মী।তখন দশ বারো সদস্যের তদন্ত কমিটি হত,তদন্ত হত।ছাত্র ও ছাত্রী লাঞ্চনায় জড়িত সন্দেহে দাড়ি টুপি পরিহিত ছাত্রদের জামাত শিবির তকমা দিয়ে বিচারে শ্রীঘরে স্থান হত।
বিদ্যাপিঠে বিদ্যা শিক্ষা আজ কলুষিত হয়ে লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছে ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ কিসের চার্চা চলছে;নীতি নাকি অনৈতিকতার আদর্শ নাকি অনাদর্শের?অদূরে ভবিষ্যতে কেমন নেতৃত্ত্ব অপেক্ষা করছে তা আজ নিজ লোচনে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে আমাদের।
আজ যদি নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া বেঁচে থাকতো তবে স্বয়ং নারী শিক্ষার বিরোধীতা করে হয়তো বলতো
মাতা ভগ্নীদিগরা মুখরোচক ব্যঞ্জন রন্ধন করিতে পারে,নান্দনিক উলের কাপড় বানাইতে পারে,শশুর শাশুড়ি বাচ্চাদিগের যত্ন-আত্তি শুশ্রুষা করিতে পারে,তাহারা পতিসেবা করিতে পারে বাচ্চা উৎপাদন করিতে পারে তাহাদের উচ্চশিক্ষার দরকার কি?
ইহাতেই তাহাদের মঙ্গল।
যে গাভী প্রতিবছর বাছুড় দেয়, দুধ দেয় সেই গাভী দিয়ে আর যাই হোক হালচাষ সম্ভব নয়।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


