somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি সত্যিই এত ভয় পাওয়া যায়?
২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাবাজারে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টির ঘটনা নয় এটি বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা, ইতিহাসচর্চা এবং বই পড়ার স্বাধীনতার জন্যও একটি গভীর উদ্বেগের বার্তা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বইটি বিক্রির অভিযোগে বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয় এবং দুই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বইটি আর বিক্রি না করার শর্তের কথাও উঠে এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়া ও বিক্রি করাও অপরাধ হয়ে গেল?
এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের লেখা আত্মজীবনী। বইটিতে তাঁর শৈশব, পারিবারিক জীবন, কারাজীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনীতি এবং পাকিস্তানি শাসনের বৈষম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে। ইউপিএল বইটির প্রকাশক; এর বাংলা সংস্করণের একাধিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কেউ সমর্থন করতে পারেন, কেউ সমালোচনা করতে পারেন। সেটিই গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু একটি বইয়ের অস্তিত্বকে ভয় দেখিয়ে, বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দিয়ে কিংবা বই বিক্রির কারণে কর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ইতিহাসকে থামানো যায় না।
বইয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতের বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু তার উত্তর বই পোড়ানো, বই বিক্রি বন্ধ করা কিংবা প্রকাশকের কর্মীদের হয়রানি নয়। উত্তর হতে পারে আরেকটি বই, আরেকটি গবেষণা, আরেকটি যুক্তি, আরেকটি ইতিহাসের পাঠ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারপুস্তক হিসেবে দেখার মতো বই নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক দলিল।যেখানে একজন প্রধান রাজনৈতিক নেতার নিজের ভাষায় তাঁর সময়, সমাজ, পরিবার, কারাজীবন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। বইটির ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন সংস্করণ বাংলাদেশ ও দেশের বাইরেও প্রকাশিত হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়।
একটি বইকে এত ভয় কেন?
বঙ্গবন্ধুর লেখা কয়েকশ পৃষ্ঠার একটি বই যদি কারও রাজনৈতিক অবস্থানকে এতটাই অস্বস্তিতে ফেলে যে সেটি বিক্রি বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেই ভয় বইটির প্রতি নয় সম্ভবত বইয়ের ভেতরের ইতিহাস, স্মৃতি ও প্রশ্নের প্রতি।
ইতিহাসকে তালা দিয়ে বন্ধ করা যায় না।
বইয়ের দোকানে তালা দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের মনের দরজায় তালা দেওয়া যায় না।
একটি বইয়ের বিক্রি বন্ধ করা যায়, কিন্তু সেই বই নিয়ে মানুষের কৌতূহল বন্ধ করা যায় না।
একজন লেখকের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু তাঁর লেখা থেকে জন্ম নেওয়া প্রশ্নগুলোকে সহজে মুছে ফেলা যায় না।
আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে মতপ্রকাশ, বই প্রকাশ এবং ইতিহাসচর্চা নিয়ে যে কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে আইনগতভাবে কোনো বই নিষিদ্ধ কি নাসে টি নির্ধারণের দায়িত্ব কোনো দল, গোষ্ঠী বা জনতার নয়; রাষ্ট্রের আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।
তাই আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।
বইয়ের বিরুদ্ধে বই দিয়ে জবাব দিন।
ইতিহাসের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন।
রাজনৈতিক মতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিন।
কিন্তু বই বিক্রির অপরাধে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হয়রানি, বিক্রয়কেন্দ্রে তালা কিংবা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু তাঁর ছবি, নাম কিংবা স্লোগান ব্যবহার করা নয়; তাঁর লেখা পড়া, তাঁর সময়কে জানা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাও সেই শ্রদ্ধার অংশ।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একটি বই।
কিন্তু সেই বইয়ের পাতায় আছে একটি সময়ের স্মৃতি।
আছে একটি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের দলিল।
আছে একজন মানুষের নিজের জীবনের কথা।
বইয়ের পাতা বন্ধ করে ইতিহাসকে বন্ধ করা যায় না।
বরং আজকের ঘটনার পর আরও বেশি করে প্রশ্ন উঠবে।
“একটি বইকে এত ভয় কেন?”
বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে, ইতিহাস ও বই পড়ার স্বাধীনতার পক্ষে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
বই নিষিদ্ধের রাজনীতি নয়, বই পড়ার বাংলাদেশ চাই।
ভয় নয়, যুক্তির বাংলাদেশ চাই।
হয়রানি নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই।
ইতিহাস মুছে ফেলা নয় ইতিহাস জানার অধিকার চাই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×