
প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।
গত ১৫ জুলাই-২৬ তারিখ রোজ বুধবার সকাল ৬:৩০ ঘটিকার সময় আমার বাবা সেনাবাহিনীর সাবেক মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার, মোঃ আব্দুল জলিল সরকার মৃত্যুবরণ করেন।
সকাল ৭:৩৯ মিনিট মেয়ে নিয়ে স্কুলে যাব সবে বাসার দরজা খুলে বের হবো ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল। একটা অজানা আতঙ্কে মন শিউরে উঠল। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশে আমার কাকিমা কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, তোমার বাবা আর নাই, তাড়াতাড়ি আসো।
হঠাৎ যেন পৃথিবীটা থমকে গেলো। তিন চার সেকেন্ড আমি বুঝে উঠতে পারলাম না আমি কি শোনলাম। মোবাইলে হাতে রেখেই কান্না শুরু হলো, আমার কান্নার শব্দে পাশের রুম থেকে ছেলেকে কোলে নিয়ে স্ত্রী এসে বুঝে গেলো ঠিক কি ঘটেছে। আমাদের কান্না দেখে ছেলে মেয়ে দুটো না বুঝে ওরাও হালকা কান্না করছে।
আমার পায়ের নীচে কোন মাটি নেই, আমি শরীরে শক্তি পাচ্ছি না, কি করবো বুঝতে পারছিনা । কাকিমা বলেছিল ছোট ভাইকে জানাতে, শোক করার সময় নেই, ফোনে ভাইকে জানাতেই সেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। আমাদের বাড়ি যেতে হবে, আমাদের শান্তনা দেবার কেউ নেই, গুছ গাছ, যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবার কেউ নেই। ভাঙ্গা মন নিয়ে সবাই চললাম বাড়িতে।
গাড়ির মধ্যে ফোন আমরা কখন পৌছবো ? বিকাল পর্যন্ত লাশ রাখতে সমস্যা হবে। আমার একটাই কথা বাবাকে শেষবারের মত না দেখে মাটি দিতে দেব না।
বিছানায় পড়া ছিল দুমাস। শেষবারের মত কোরবানীর ঈদে গোসল করিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর জুন মাসে বাড়ি গিয়ে শেষ বারের মত ঢাকা সিএমএইচ-এ নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বলে দিয়েছেন, শেষ সময়ে বাসায় রাখেন, সেবা করেন, যা খেতে পারে খাওয়ান।
ফলের রস, ভাত ব্লেন্ডার করে শেষ পর্যন্ত খাওয়াতে পেরেছি। তারপর সমস্ত কষ্ট, দুঃখ, রোগ, শোক, জরা, জীর্ণকে পিছনে ফেলে অনন্তকালের জন্য অনন্তলোকে বাড়ি জমালেন। আমাদের এতিম করে দিয়ে গেলেন, আমাদের বাবহারা করে গেলেন, আমাদের পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করলেন, বাবা ডাক থেকে সরে গেলেন, স্পর্শের বাহিরে চলে গেলেন, মাথার উপর বটবৃক্ষের ছায়া সরিয়ে নিলেন, আজীবনের জন্য এক শোক উপহার দিয়ে গেলেন, একটা কষ্টের হাহাকার আর দুঃখের গোপন স্রোত নীরবে বইবে বেদনার ক্ষত নিয়ে বুকের ভিতরে।
বাবাকে দুপুরে গিয়ে শেষ বারের মত দেখলাম, ছুঁয়ে দেখলাম, চিরঘুমে তলিয়ে আছেন, তবুও যেন মনে হয় ঘুমিয়ে আছেন, একটা উজ্জল দ্যুুতি যেন ছড়িয়ে আছে সারা মুখে, কী জীবন্ত.................................
তবুও এই যে লিখতে পারি, এই যে আঁকতে পারি, এই যে গাইতে পারি, এই যে পৃথিবী দেখি সব সবই আপনার জন্য বাবা। আপনার অভাব কোনদিন পূরন হবে না। আপনি ভালো থাকুন ওপারে, আপনি ভালো থাকুন জান্নাতের বাগিচায়।
কিছুদিন আগে আমার মায়ের চাচাতো ভাই মারা গেলো এর পর মারা গেলো চাচাতো ভাই এর মেয়ে। আমাদের সমান বয়স, কত খেলা করেছি একসাথে। আর দুদিন আগে মারা গেলো আমার মায়ের বড় মামি। এতগুলো মৃত্যু আর শোক কাটিয়ে ব্লগে ফেরাটা খুবই কঠিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



