
শিষ্টাচার
------------------------------------------------
শিষ্টাচার যাকে ইংরেজীতে বলে Etiquette; good manners; formality.
মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য নিরূপন হয় তার আচার ব্যবহার আর আচরণের মধ্যেই মার্জিত ব্যবহার,শালীন কথাবার্তা, নীতিমালার মধ্য থেকে কাজকর্মে, চলনে-বলনে, আচার-আচরণে অপরের সাথে সম্পর্কের যে সন্তুষ্টির পরিচয় দিয়ে থাকে,তাই শিষ্টাচার বা আদব-কায়দা বা ভদ্রতা আর এমনই লোককে বলা হয় ভদ্রলোক। আর
সেচ্ছাচারিতায় শিষ্টাচার খোঁজা বৃথা আস্ফালন।
বৃক্ষ তোর নাম কি, ফলে পরিচয়-A tree is known by its fruit.
রাষ্ট্রের সমগ্র বিভাগ থেকে সমাজ এমনকি পরিবার সর্বক্ষেত্রে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম।
পরিবারকে বলা হয় শিষ্টাচারের সুতিকাগার যেখান থেকে বড় ও বয়স্কদের সম্মান করতে শেখা হয় যার প্রভাব সারা জীবন বয়ে চলে।
উদাহরণসরুপ বলা যায়, একটি যৌথ পরিবারের বড় কে সম্মান দেয়া ও শ্রেনীভেদ রেখে কথা বলা শেখায় যেমন ছোট ভাই চাইলেও কখনো বড় ভাইকে বলতে পারবেনা "আমার একটা বিয়ে করার খুব দরকার " যা একান্ত নিজস্ব বন্ধুদের বলতে পারে এই মানবিক আচরণ যেখানে ঔদ্ধত্যকে পরিহার করে মার্জিত,রুচিসম্মত বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তা হলো পরিবার।আর পরিবারিক এই শিক্ষার দৈন্যতা অপরের সুবিধা-অসুবিধা, মতামত ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে বালখিল্যতা সৃষ্টি করে।
যে কোন সংগঠন, ক্লাব, কমিটি, চ্যানেল,ব্লগ, টিভি, প্রত্রিকা,চালাতে গুরুত্ব দেয়া হয় শিষ্টাচারের যেখানে ম্লান হয়ে উঠে একক সিদ্ধান্ত ফলে সৌজন্যতাবোধ, বিনীতভাব স্বার্থহীন ও কোমলতার বিকাশ ঘঠে ।
ঠিক তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নেতৃত্ব প্রদানে শিষ্টতার পরিচয় দেয়া ও তা মনেপ্রাণে বহন করা হলে কল্যানমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব যা বর্তমানে আমাদের একান্ত অপরিহার্য।
ইংল্যান্ডে কোন টিকিট, বাস বা ট্রেনে দেখা যায় কোন নির্দেশনা ছাড়া সবাই যার যার মতো করে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙখলা বজায় রাখে যেখানে কোন ঠেলাঠেলি নেই,নেই কোন মারামারি যা তাদের শিষ্টাচারের প্রকাশ করে।
কিছুদিন আগে ইংল্যান্ডের উপ-প্রধান মন্ত্রীর একটি কম্পিউটারে সেক্সুয়াল কিছু তথ্য পাওয়াতে উনি পদত্যাগ করে যা অবশ্যই দেশটির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচার মুলক আচরণ।
প্রকৃতপক্ষে এটা বলা হয় যে, শিষ্টতা ভীরুতা, শঠতা নয়, বা চারিত্রিক দুর্বলতাও নয়,
শিষ্টাচার মানব চরিত্রের একটি মহৎগুণ বা অন্তরের অলংকার যা বাহ্যিক ভাবে দেখা যায় না।
শিষ্টাচারের প্রয়োজনীয়তা ঃ
----------------------------------------
১)কথাবার্তায় ও আচার-আচরণে মার্জিত রুচি ও সুন্দর মনের পরিচয় দিতে,
২) পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সর্বাত্মক সুন্দর করে তুলার জন্যে।
৩)জাতিতে জাতিতে বিরোধ, দ্বন্দ্ব থেকে পরিত্রান পেতে।
৪) সমাজে ও রাষ্ট্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করার জন্যে
৫) অপরের সুবিধা-অসুবিধা, মতামত ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে চলার জন্য।
৬)শোভন, সুন্দর ও প্রীতিময় আদব-কায়দার অনুশীলন করতে।
৭)ব্যাক্তি স্বাধীনতা বজায় রাখতে ও গনতান্ত্রিক পথ সুগম করে তোলার জন্যে।
৮) জাতিকে নতুন প্রাণ স্পন্দনে অনুপ্রাণিত করে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজন সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অনুশীলন।
৯)মানব জীবনের সার্বিক কল্যাণে শিষ্টাচারের স্থান অতি উচ্চে।
১০)শিষ্টতার মধ্য দিয়েই আমরা আদর্শ সমাজ গঠন করতে পারি।
যে মানুষ যত বেশী জ্ঞানী সে মানুষই তত ভদ্র ও বিনয়ী, যা কোন অর্থ বা ঐশ্বর্যের সাথে তুলনা করা যায় না।
যদি সমাজের প্রতিটি শ্রেনী- পেশার মানুষ তার নিজ নিজ কর্মে শিষ্টতা বজায় রাখে তবেই আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুখ অর্জন করা সম্ভব।
"রহমান লতিফ "

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



