somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় অবেলায় নীড়ে ফেরা

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রথমাংশ
(৪)
বাল্য বন্ধু শাহীন লন্ডন গেটউইক (Gatwick) বিমানবন্দরে মজনুকে রিসিভ করতে এলো।সেখান থেকে তাকে সোজা নিয়ে গেলো ইংল্যান্ডের কেন্টাবারী এলাকায়।
মজনু,লন্ডনে পা রেখে প্রথম প্রহরেই নিজে নিজেকে প্রশ্ন করলো,যে বয়সে বিয়ে করে সংসারী হওয়ার কথা সেই বয়সে আজ ভিন্ন পরিবেশে এসে নতুন করে সংগ্রাম করার কতটুকুই বা যৌক্তিকতা?বহিঃরাজ্যে জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে সে কোন অভীষ্ট লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছবে?যে পথ বেছে নিয়েছে তা কি স্বেচ্ছায় আত্মাহুতির সমতুল্য নয়?

যাবার পথে কেন্টের(Kent) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে বুঝলো কেন এই জায়গাটাকে ইংল্যান্ডের বাগান বলা হয়,কেন্টের রাস্তার চারদিকে ঢেউ তোলা পাহাড়ের দেয়ালে সবুজ আর সবুজ। গাছপালা ও পাহাড়ি পরিবেশে দিগন্ত ছোঁয়া সবুজের সমারোহ।চারিপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, দুর্গ,প্রাসাদ,ও গীর্জা যেন চোখ জুড়ানোর মতন স্বর্গীয় দৃশ্য।
বন্ধু শাহীন আরো যোগ করলো,ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় দুর্গ ডোভার ক্যাসেল কেন্টের অদূরে সমুদ্রতীরের খাঁড়া পাহাড়ের উপর অবস্থিত। আবার বিশ্বের দীর্ঘতম ইংলিশ চ্যানেল ট্যানেল এই কেন্টেই অবস্থিত।গভীর সমুদ্রের সুরঙ্গ পথ দিয়ে লন্ডন টু ফান্স ট্রেন চলাচল করে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দু' সপ্তাহের মধ্যে পরিচিত হলো কমর উদ্দীনের সাথে।অমায়িক ও বন্ধুবাৎসল কমর উদ্দীন কলকাতার তাড়াশংকর এলাকার ছেলে।সে বললো তার জানা মতে একটা (Pub)মদের বারে পার্ট টাইম কাজ আছে। মালিকে সপ্তাহে দু'দিনের জন্য ভালো লোক খোঁজছে।মজনুকে ঠিকানাটা দিয়ে বললো তুমি যোগাযোগ করে দেখতে পারো।
বিকালে ঠিকানা অনুযায়ী মজনু পৌঁছে গেলো সেই মদের বারে।ওয়েট্রেসের কাছে জানতে চাইলো মালিক আছে কি না?সে একটা কাজের জন্য এখনে এসেছে।ওয়েট্রেস তাকে অপেক্ষা করতে বলেই ভেতর দিকে চলে গেলো।

"কিছুক্ষণএকজন ভদ্রলোক এলেন যার ছিমছাম,শান্ত,বুদ্ধি-দীপ্ত চোখ,ছিপছিপে চেহারায় বাঙালীয়ানার ছাপ। বয়সের চেয়ে লোকটাকে অনেক বুড়ো দেখাচ্ছে।
আমার নাম সনজিত হাওলাদার সবাই আমাকে মিঃ হাওলাদার বলেই চিনে।
নিজের পরিচয় দিয়ে জানালেন এই মদের বারে সতের বছর থেকে শেফের কাজ করছেন।এরপর ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে মজনুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। মজনু সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিলো ঠিকই কিন্ত মনে মনে বেশ বিরক্ত হলো আর ভাবছিলো বুড়োটা এখানকার শেফের কাজ করে সে কেন তার ইন্টারভিউ নিবে? যার সাথে দেখা করতে আসলাম সেই আসল মালিকের খবর নাই!
-এই লোকটা আবার কোন পার্ট নিতেছে নাতো?
পরক্ষনেই মজনু বেশ বিচলিত হয়ে ওঠে লোকটার পাল্টা প্রশ্ন শুনে,
-কার রেফারেন্সে এখানে কাজের জন্য এসেছো?
- জ্ঞী,কমর উদ্দীনে নামের কলকাতার একজন লোক।
- Oh Yes,He told me about you,
- তুমি বাংলাদেশ থেকে এসেছো! Right.
-জ্বী
- Lets speak in Bangla.
এই ব'লেই লোকটি তৃপ্তির হাসি দিলেন।বেশ শুদ্ধ বাংলায় পরিষ্কার কথা বলতে লাগলেন সেই সাথে তার রুক্ষ-সুক্ষ চেহারার আমূল পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলার প্রতি এত ভালোবাসা সাথে বাঙালীয়ানার বিন্যাস দেখে মিঃ হাওলাদার সাহেবের প্রতি মজনুর সম্মান বহুগুণে বেড়ে গেলে।
- শোনা চাচা,আমার পূর্ব পুরুষ এখানে আসেনি,আমার বয়স যখন বিশ তখন এদেশে আসি।দু মেয়ের দুজনেই ডাক্তার।মেয়ে দু'টো দু'জন ভিনদেশি ছেলে বিয়ে করে সুখেই আছে ৷
- আমি সতের বছর আগে এখানে কিচেন পটার হিসাবে কাজ শুরু করি।
- আচ্ছা,তারপর এখনো পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন!
- যদিও সতের বছর একটানা একি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা খুবই কঠিন।
- তাতো অবশ্যই,
-সেই কঠোর পরিশ্রম ও অনেক সমালোচনা সহ্য করে আজ এখানকার পঁচিশ পাসেন্ট মালিক।
- যাক এই লোকটার তাহলে মালিকানা আছে।
- আমার পার্টনার একজন সম্মানিত ইহুদি ব্যক্তি যার আরো দশটি মদের বার আছে।মাঝে মাঝে এক-দুইবার দেখতে আসে।
- মূলত আমি ও ম্যানেজার এটার দায়িত্বে।
- তুমি কাল থেকে কাজ শুরু করো।
- কাল আমার ক্লাস আছে শেষ হবে বিকাল চারটায়।সপ্তাহে দুদিন আমার ক্লাস থাকে।
-কোন সমস্যা নেই ক্লাস শেষে করে আসো।
-বিকাল পাঁচটা থকে রাত এক ঘটিকা পযন্ত বিকেলের শিফট।
- যেহেতু তোমার ইংলিশে ভালো দখল আছে তাই তোমাকে ফুল টাইম কাজ দেওয়ার চেষ্টা করবো।
- আক্কেল আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিবো কোন ভাষা জানা নেই।
- আপনাকে বিদেশের মাটিতে বাবার আসনে বসালাম।
- বড় বেশি ভালোবাসায় জড়িয়ে ফেললে মজনু।
- এসে ডিনার করে তারপর রুমে ফিরে যাও।আর যেহেতু বাবার আসনে বসালে তাই আগামী সপ্তাহ থেকে আমার এখানে চলে আসে।এই বারের উপরেই আমি থাকি।এখানে বিশাল রুম আছে।তোমার কোন ভাড়া দেওয়া লাগবে না যা লাগবে শুধু আমাকে মাঝেমধ্যে ইংলিশে থেকে বাংলায় কিছু অনুবাদ করে দিবে।
- কি অনুবাদ?
- তেমন এই কিছু না নিউজপেপার থেকে কিছু অনুবাদ করে দিবে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:২৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকারের উচিত রোহিংগা ক্যাম্পগুলোকে 'এনজিও-মুক্ত' করা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪১



এনজিওগুলো ১১ লাখ রোহিংগা পালনকে 'পুরোপুরি রমরমা ব্যবসা' হিসেবে প্রতিষ্টিত করেছে, এরা এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করছে, এরা কৌশলে রোহিংগাদের ফিরে যাবার ব্যাপারে ভীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে জানালায় বসে ভ্যান গগ স্টারি নাইট এঁকেছিল-

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ২৩ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২০

কেউ যখন প্রজনন অঙ্গ দিয়ে সৌজন্যতা দেখায়
আমি তখন ষ্টারি নাইট শুনি আইবাডে আর
দু’টো শামুকের বিবর্তন পিরিয়ডের কেসহিষ্ট্রিতে নিমগ্ন
রই; যদিও পতাকার অন্যনাম এখানে অন্তর্বাস।
কিম্ভূত অগ্নি দাহ করে আমাজান- ব্রাত্যের লাশ ঠ্যালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১৬



সর্বনাশা পরকীয়া; অনৈতিক এই ফিতনা থেকে মুক্তির উপায় কি?

পরকীয়া আসলে কি?
ইদানিংকালে সংবাদপত্রের পাতাগুলোর অনেকটা অংশ জুড়ে থাকে পরকীয়া বিষয়ক নানান দু:সংবাদ। গনমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে পরকীয়া সম্পর্কে প্রায় প্রতিনিয়ত: বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খামারের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি বিষয়ক (ESF ও অন্যান্য):

লিখেছেন ching, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯



খামারের জন্য ঋণ প্রাপ্তির উপায়/নিয়ম-কানুন না জানার ফলে ঋণ গ্রহণে ভীতি, ব্যাংক সম্পর্কে অনেকেরই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। অনেকেই হয়তো ঋণের জন্য কোন দিন ব্যাংকের ধারে কাছেও যায়নি। যখনই কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্যরচনাঃ মোবাইল-ম্যানিয়া

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:১৯

ল্যান্ডফোনে কথা বলা সবার জন্য সহজলভ্য ছিলনা বলে একযুগ আগে আমাদের দেশে যখন মোবাইল ফোন এলো, তখন ধনী গরিব নির্বিশেষে সবাই এই যন্ত্রটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আমার মনে আছে, ২০০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×