somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বড় অবেলায় নীড়ে ফেরা

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(৫)
পরদিন পড়ন্ত বিকালবেলা ক্লাস শেষ করে মজনু নতুন কাজে যোগ দিলো।এই মদের বারে সপ্তাহে সাতদিন বিভিন্ন দেশের খাবার বিক্রি করা হয় তন্মধ্যে ইংলিশ,ইন্ডিয়ান,চাইনিজ,থাই,জাপানিজ,ইতালী ও ক্যারিবিয়ান কিচেনের রেসিপি পরিবেশন করা হয়।মজনুর জব রুল হলো ওয়েটারি।বিভিন্ন ধরনের কাস্টমারদের ফুড ও সাথে মদ পরিবেশন করা।প্রথমদিন এ কাজে নিজেকে তার বেশ ছোট মনে হলো।কোথায় তাকে দেখলে সবাই চেয়ার টেনে বসতে দিতো।সবাই তাকে কত সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদশর্ন করতো।আজ সে কিনা সামান্য একজন ওয়েটার।এসব ভেবে তার মনটা অনেক ভারী হয়ে গেলো।সেই সাথে বাবার কথা মনে পড়ে হৃদয়ের ঈশান কোনে কালবৈশাখীর ঝড়ের আঘাত শুরু হয়ে গেলো।
কাজ শেষে মিঃ হাওলাদারকে বললো তার আসলে মনটা অনেক ভারী।কোন কিছু ভালো লাগছে না,কোন কিছু খেতে মন চাচ্ছে না।শেষেমেষ মিঃ হাওলাদার বললেন, শোন বাবা আমি তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। তোমার মতো আমিও একদিন আবোলতাবোল কত কিছু ভাবছি।যেহেতু বিদেশে চলে আসছো তাই তোমাকে বুঝতে হবে এটা পরবাস এবং এই পরিবেশে মানিয়ে নিতে হবে। মানিয়ে নেয়াটাই হচ্ছে আসল আর অযতা চিন্তা করে শরীর মন নষ্ট করা হচ্ছে কাপুরুষতা। এদেশে বলা হয় "নো জব টু স্মল"(No job too small) কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নেই আর সপ্তাহের শেষে বেতন পেলে মনটা ভালো হয়ে যাবে।এখানে টিপসের টাকাটা ওয়েটার ও ওয়েট্রেস পেয়ে থাকে তাই বেতনের সমান টিপস হয়ে যাবে।
আংকেলর কথা শুনে বেশ হালকা লাগলো সে খেয়েদেয়ে সোজা রুমে চলে গেলো।
- কিছুদিনের মধ্যে কাজটা তার কাছে সহজতর হয়ে ওঠে এবং আংকেলের সাথে মদ বারের উপরে থাকতে শুরু করে।যেহেতু তাকে রুম ভাড়া,খাবারের কোন বিল দিতে হয় না তাই সপ্তাহিক বেতন তিনশো পাউন্ড আর টিপস আরো আড়াইশো পাউন্ড মিলে তার সঞ্চয় বেশ ভালো হয়ে গেলো।এত তাড়াতাড়ি বেশ ভালো অবস্থায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরে পুলকিত হলো।এভাবে তার দিনগুলো বেশ সুখেই কাটতে থাকলো।
প্রতিমাসে বাড়িতে টাকা প্রেরণ,বাবা-মায়ের খেদমতের যেন কোন ঘাটতি না হয় সেজন্য ভাই ও বোনকে তাগিদ দেয়াসহ সব গুরুদায়িত্ব যথাযতভাবে পালন করে চলছে।এমনি করে নয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলো।

যদিও তার রুমে মিঃ হাওলাদারের একটা বেড আছে কিন্তু বলতে গেলে রুমে সে একাই থাকে।মিঃ হাওলাদার দিনে কখনো আসেন না। প্রায়দিন রাতে দুইটা বা তিনটার দিকে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বেলা মজনু ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগেই আবার কোথায় যেন চলে যান। কাজের সময়টা ছাড়া ওনার সাথে তেমন দেখা হয় না। মাঝে মাঝে ইংরেজী প্রত্রিকা নিয়ে এসে মজনুকে দিয়ে আজব কিছু জীবনবৃত্তান্ত শুনে যান।
প্রথম যেদিন মজনুকে বলেছিলেন কোপারফিল্ডের জীবনকীর্তিটা আমাকে বলে দাও।মজনু ভেবেছিলো মনে হয় বিখ্যাত যাদুকর ডেভিড কোপরফিল্ডের জীবনী কিন্তু সে দেখলো সেটা একটি ঘোড়ার কাহিনি,ঘোড়ার বয়স থেকে শুরু করে জীবনব্যাপী কতটা রেসে অংশগ্রহণ করে কতটাতে হারলো,কতটাতে জিতলো,কতটুকু স্পিডে দৌড়াতে সক্ষম এগুলোর বিশদ বর্ণনা।এভাবে প্রায়ই টমি,টনি, কার্লোস,রামোস সহ বিভিন্ন নামের কুকুর ও ঘোড়ার তথ্য শুনে যান মজনুর কাছ থেকে। যদিও মজনু এসবের কিছুই মিঃ হাওলাদারেের কাছে কখনো জানতে চায়নি এবং উনিও কিছু খুলে বলেন নি।
হাতে কিছু টাকা পয়সা জমা হওয়ার পর এবার মজনুর মনে হলো,বাবা কত কষ্ট করে তাদেরকে বড় করে তুলেছেন।বৈশাখ মাসে ঈষাণকোন থেকে দমকা হাওয়া এলে মনে হতো তাদের বাড়িসুদ্ধ উড়িয়ে নিয়ে যাবে।এখনো মাঘ মাসে কুয়াসায় ঢাকা পড়ে যায় হাওরের কুলঘেষে থাকা তাদের বাড়িটি।শীতে ও বৈশাখে বাবার অনেক কষ্ট হয়।একটা ঘর আর সাথে শানবাঁধানো পুকুর দিয়ে দেশে অবস্থানরত মা-বাবা, ভাই-বোনদের সুন্দর সম্মানজনক জীবন যাপন নিশ্চিত করার মনে তাগদা পেলো।তাই বড় ভাইকে বললো,বাড়িতে দু'তলা পাকা ঘর ও চারপাশে দেয়াল দেওয়ার জন্য কত খরচ হয় তা জানানোর জন্য।ইন্জিনিয়ারের হিসাব মতো মোট খরচের ষোল লাখ টাকার মধ্যে দশ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিয়ে ঘরের কাজ শুরু করতে বললে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৫৯
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলোমেলো ডায়েরী: শৈশবের ৯ টি সবচেয়ে স্বস্তির, মজার মুহূর্ত! আমার সাথে আপনারটা মেলে কি? :) :)

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৫



পূর্বের পর্বগুলো: এলোমেলো ডায়েরি: ঈদ ইন বিদেশ ভার্সেস বাংলাদেশ। দেশীয় ঈদের যে ৬ টি জিনিস প্রবাসে সবচেয়ে মিস করি!
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/samupagla007/30250594|এলোমেলো ডায়েরী (২): ৭ টি গা জ্বালানি বাংলাদেশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার মনিটরিং স্টেশন এর নিরবতাঃ কিসের আভাস?

লিখেছেন আর্কিওপটেরিক্স, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২২


৮ই আগষ্ট রাশিয়ান মিলিটারি টেস্টিং ফ্যাসিলিটিতে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর থেকে রাশিয়ার ৪টি নিউক্লিয়ার মনিটরিং স্টেশন থেকে ডেটা ট্রান্সমিশান বন্ধ হয়ে গেছে। এই মনিটরিং স্টেশনগুলো বাতাসে রেডিয়েশান লেভেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমন্বিতা

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:২০



সাহেবকে বলে আজ একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে বার হলাম। নাহ আজ আর অন্য কোথাও যাব না, তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরতে হবে। দ্রুত পা চালিয়ে স্টেশনে গেলাম। বেশিক্ষণ দাঁড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাটিতে পুতা কুরবানীর পশুর চামড়াই ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে ঝাপিয়ে পড়ুক চামড়াশিল্পের অশুভ সিন্ডিকেট বিনাশে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:০৭


ছবি সুত্র : Click This Link

পর্ব-১ : চামড়া শিল্পের পতনকে চামড়ার চাবুক মেরেই প্রতিকার

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে। কোরবানির চামড়ার বাজারে ধ্বস নামার নেপথ্য কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×