somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

লাল স্কচটেপ
দেরীতে হলেও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এর পথ খুঁজে পেয়েছি। বাকি জীবনে যা-ই হোক না কেন, আল্লাহর রাস্তা আমি ছাড়ব না। ভাবতে অবাক লাগে আমি কত হীন, অকৃতজ্ঞ ছিলাম আমার জীবনের প্রথমাংশে, তা সত্ত্বেও আল্লাহ্‌ কত রহমত বর্ষণ

ভালোবাসার রকমফের - কৈশোরের ভালোবাসা আর পরিণত ভালোবাসা :!> :#> :!>

২৬ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৈশোরের শেষ সময়ে পা দেয়া মানুষ আমি তখন। ঢাকা কলেজে সবেমাত্র ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছি। ম্যাথ প্রাইভেট পড়তাম "বি" স্যারের কাছে। সেখানেই মেয়েটাকে দেখলাম। :D :)
প্রথমবার দেখে আহামরি কিছু লাগলো না। তবে ভিতরে একটা জিনিস খুব কাজ করত, তা হল- মেয়েদের সাথে বসে ক্লাস করাটা কেমন জানি লাগতো। আমি বয়েজ স্কুল থেকে আসা বালক। তো স্বাভাবিকভাবেই একটু অদ্ভুত অদ্ভুত সব ফিলিংস হতে লাগল। B-)
আমার সাথে আমার আরো দুই বেস্ট (স্কুল ও কলেজ)ফ্রেন্ড পড়ত। নিয়মিত ক্লাস হতে লাগলো আর মেয়েটার প্রতি দুর্বল হতে লাগলাম। তার হাঁটা-চলা, এলানো চুল, ভারি ফ্রেমের চশমা, রাশভারি চাহনি, বাঁকা হাসি - সব কিছুই কেন যেন ভাল লাগা শুরু হল। :#> B:-/
আমি তখন ও জানতাম না ওইটা কি ভালোবাসা ছিল নাকি অন্য কিছু। সে ছিল খুব ই ব্রিলিয়ানট একটি মেয়ে। আমি বরাবর ই গাধা টাইপ ছাত্র ছিলাম। সে তুমুল ভাল ভাবে অঙ্ক কষে ফেলত। যাই হোক, আমি একটু খোঁজ খবর করে খবর পেলাম যে সে আমাদের স্কুল এর ই বালিকা বিভাগের নামকরা ছাত্রী। নাম "জ" আদ্যক্ষরের। আমি তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে আলাপ আরম্ভ করি। এক পর্যায়ে কিছুটা ক্লোজনেস হয়। কিন্তু, সে নিজের টাকা খরচ করে আমাকে রাতে ফোন ও দিত আবার বলত যে তার নাকি বয়ফ্রেন্ড আছে।প্রথম কিছু দিন ছাড়া আমার একটা টাকা ও তার পিছে খরচ হয় নাই। কিন্তু আমি তার মাইন্ড গেমে বিরক্ত হয়ে এক দিন কথা বলার সময় মোবাইল আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলি। আর যোগাযোগ করি নি। পড়ে শুনেছি মেয়েটি নাকি ইন্টার না দিয়েই কোন এক ছেলের সাথে ভেগে গিয়েছে! তার মা-বাবার কথা ভেবে খারাপ লাগলো। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের। মেয়েটি ছিল আশার আলো। মেয়েটি পড়ালেখা করলে শিউর ভাল কিছু হতে পারত।

কিন্তু কথা এটা নয়। কথা হল- তাকে ভালবাসলে এ রকম নিউজ শুনে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আমার সেটা হল না। আমি ভাবলাম- তাহলে আমি কি তাকে ভালবাসতাম না, সেটা কি ছিল শুধুই সাময়িক Infatuation। এখন মনে হচ্ছে আসলে ওটা তাই ছিল। তার জন্য আমি এই নিউজ শোনার দিন ও কোন টান ফিল করি নাই,আজ ও করতেছি না। বুঝলাম যে কৈশোর এর ভালোবাসা বেশিরভাগ ই মোহ।

পরের ঘটনা ভার্সিটির। এখন আমি ঢাকা ভার্সিটির একটি নামকরা সাবজেক্টে পড়ি। এখানে কয়দিন আগে এক সহপাঠিনীরকে বললাম তার উপর আমার ক্রাশ আছে এবং তা বেশ ভয়াবহ। সে "না" বলে ...... B:-/ :-&
.........আমি জিজ্ঞেস. করি কেন না? সে বলে তার বান্ধবী তাকে বলছে ভার্সিটিতে এইগুলা ভাল না!!!!....... X( X( X(( X( X((
আমি এক পর্যায়ে তাকে বললাম আমাকে এক্ষুনি তোমার এফবি একাউন্ট থেকে রিমুভ দাও! নাইলে তোমার সাথে তো প্রেম করুম ই , তোমার বান্ধবীর সাথে ও করুম। সে Sorry বলে সাথে সাথে রিমুভ দিল।

এবং কেন জানি না,আমি অনেক ভারমুক্ত অনুভব করলাম। পূর্বে আমি এফবি তে তার সাথে লম্বা লম্বা সময় ধরে চ্যাট করেছি, সাথে ক্লাসে হালকা কথাবার্তা আর তুমুল চোখাচুখি তো ছিল ই। কিন্তু, তার বান্ধবীটা(আমাদের ব্যাচে সবচেয়ে ব্রিলিয়ানটদের একজন) উল্টা আমার দিকে লজ্জাহীনভাবে হাঁ করে চেয়ে থাকত এবং এখন ও থাকে। তার Motive কি তা এখন ও বুঝে উঠতে পারি নাই।

এই যে দুইটা ঘটনা বললাম দুইটাই সত্য। এবং দুইটাই আমার জীবনের ঘটনা। আমার কথা হল তাহলে কি এই দুইটার একটা ও কি ভালোবাসা ছিল না?! দুইটাই কি মোহ?! আপনাদের কি মত? আমার মনে হয় দুইটাই মোহ।

এখন আবার হইছে আরেক কাহিনী। বাপের ব্যবসার কাজে সেমিস্টার ব্রেকে অফিস করতে হয়। কত্ত ভাল ভাল মেয়ে অফিসে আসে ব্যবসায়িক কাজে। আমি শিউর যে কলেজ অথবা ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিকে এদের দেখলে ফিদা হয়ে যেতাম। কিন্তু এখন কোন অনুভুতি ই কাজ করে না, শুধু মনে হয় - " আরেহ! মেয়েটা চরম তো!" এর বেশি কিছুই না। কোন ভাবনার ও উদয় হয় না মাথায়। শারীরিক সৌন্দর্য, স্টাইলিশ জামা কাপড়, স্টাইলিশ কথা বার্তা, স্টাইলিশ Attitude - কোনটাই আর তেমন টানে না আমাকে। আমার শুধু জানতে ইচ্ছা করে ভিতরটা, মনটা।

আমি অবশেষে বিশ্বাস করতে আরম্ভ করেছি- বাহির নয় ভিতরটাই আসল আর প্রকৃত ভালোবাসা চেয়ে নিতে হয় না, সেটা হয়ে যায়।

বিঃদ্রঃ আমি কিন্তু বেশি বয়স্ক নই। আমার বয়স ১৯ বছর ১১ মাস। :P :P
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×