somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

লাল স্কচটেপ
দেরীতে হলেও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এর পথ খুঁজে পেয়েছি। বাকি জীবনে যা-ই হোক না কেন, আল্লাহর রাস্তা আমি ছাড়ব না। ভাবতে অবাক লাগে আমি কত হীন, অকৃতজ্ঞ ছিলাম আমার জীবনের প্রথমাংশে, তা সত্ত্বেও আল্লাহ্‌ কত রহমত বর্ষণ

* মেজর স্পয়লার ফ্রি* এনিমেটেড মুভি রিভিউ - "হোম"

১১ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০ সেঞ্চুরি ফক্সের সর্বশেষ এনিমেটেড মুভি - হোম। এ মুভির কত আয় হয়েছে, ক্রিটিক রিসেপশন কি এসব ব্যাপারে গুগল করলেই জানতে পারবেন। তাই আর এসব নিয়ে লিখছি না।

আমি লিখব মুভিটির একটি সংক্ষিপ্ত রিভিউ এবং আমার অভিমত।

হোম মুভিটির প্লট নিয়ে যদি খুব সংক্ষেপে বলতে বলা হয়, তাহলে বলব এর প্লট হচ্ছে আর কয়েকটা হলিউড মুভির মতই - এলিয়েন ইনভেসন। কিন্তু শুধু এটি পড়েই নিরাশ হবেন না। যদিও এ টপিকের উপর প্রচুর পরিমাণে মুভি নির্মাণ করে হলিউড শুষে ফেলেছে, হোম মুভিটি এ টপিককেই একটি নতুন মাত্রা দান করেছে।

কাহিনীর শুরু মুভির নায়ক "ওহ" কে নিয়ে। তাকে দেখে তার সব জ্ঞাতিভাইরা বিরক্ত হয়ে "ওহ" বলে, আর তাই তার নাম ওহ। বিগ ব্যাং থিওরির শেলডন কুপার চরিত্রের জিম পারসন্স কণ্ঠ দিয়েছেন এ চরিত্রের।
ওহ এবং তার জ্ঞাতিভাইরা "বুভ" নামক একটি এলিয়েন স্পেসিস (প্রজাতি)। তারা এমন এক জাতি যারা নিজেদের খুব দ্রুত পালানোর ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করে। তাদের মতে এটি ই তাদের জীবিত থাকার প্রধান সক্ষমতা। তাদের প্রজাতির প্রধান শত্রু "গর্গ"। এ প্রজাতির এলিয়েন সবসময় বিশালাকার স্পেসশিপ নিয়ে বুভদের উপর হামলা চালায় ও তাদের একমাত্র লক্ষ্য বুভদের ধ্বংস করা। বুভদের সর্বশেষ প্ল্যানেট ধ্বংস করে গর্গ, আর তাই বুভরা বেরিয়ে পড়ে নতুন বাসস্থানের সন্ধানে।

এবং, স্বাভাবিকভাবেই (!), বুভদের রাডারে ধরা পড়ে পৃথিবী। বুভরা সিদ্ধান্ত নেয় তারা পৃথিবীতেই আবাস গাড়বে। এ লক্ষ্যে সকল বুভদের কে বুভদের নেতা "স্মেক" বলে যে পৃথিবী হচ্ছে নিম্ন-বুদ্ধিমত্তার ও খুবই পুরনোপন্থী "মানুষ" দ্বারা পরিপূর্ণ। সাধারণ বুভরা ভাবতে থাকে তারা আসলে মানুষদের পৃথিবীতে এসে তাদের সাহায্যই করছে।

মানুষদেরকে তাদের বাসস্থান থেকে সরিয়ে নতুন তৈরিকৃত "স্মেকটাউন" এ পুনর্বাসন করা হয়। বুভরা প্রকৃতিগত ভাবেই অসামাজিক, কিন্তু ওহ একটু ভিন্ন ধরনের। সে চায় পার্টি করতে, হাউজ ওয়ার্মিং পার্টি। সেটার ইনভাইটেশন পাঠানো থেকে সৃষ্টি হয় একটি বিশাল সমস্যা যার ফলে কিনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে পুরো বুভ জাতি।

ওহ হয়ে যায় ফেরারি আসামী। ওর সাথে এর মধ্যে পরিচয় হয় একটি ১৬ বছরের কিশোরী "গ্র্যাচুইটি" এর সাথে। এ চরিত্রে কণ্ঠদান করেন গায়িকা রিহানা। গ্র্যাচুইটি লুকিয়ে ছিল একটি ভবনে। তার মা "লুসি" (কণ্ঠ দানকারী - জেনিফার লোপেজ) কে বুভদের মানুষ সংগ্রহকারী মেশিন ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করে স্মেকটাউন এ পাঠিয়ে দিয়েছে। গ্র্যাচুইটির প্রধান লক্ষ্য এখন তার মাকে খুঁজে বের করা। আর সকল বুভের প্রতি ঘৃণা ধারণকারী গ্র্যাচুইটির এ অসম্ভব অভিযানের সঙ্গী হয় ফেরারি ওহ।

দুজনে মিলে মুখোমুখি হয় অসংখ্য বুভের। ওহ এর বুদ্ধি আর গ্র্যাচুইটির উপস্থিত বুদ্ধিতে বেশ কয়েকবার ই তাদের প্রাণ বাঁচে।

মুভির শেষ পর্যায়ে চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স হিসেবে হাজির হয় গর্গ, আর তাদের এবারের লক্ষ্য পৃথিবী ধ্বংস করা। যথারীতি বুভরা পালিয়ে গেল আর মানুষেরা পড়ল সমস্যায়। সকল সমস্যার সমাধান শুধুই ওহ আর তার বন্ধু গ্র্যাচুইটির হাতে। তারা কি পারবে পৃথিবী সফল করতে?
স্পয়লার দিবনা, মুভিটি ডাউনলোড করে দেখে নিবেন। এনিমেশন মুভি লাভার হলে মাস্ট সী।

মুভিটিতে কিশোর বয়সের টানাপোড়েন, ওহ এর নিজেকে নতুন ভাবে মানবীয় গুণাবলীসহ আবিষ্কার, নিজের উপর আর বন্ধুর উপরে বিশ্বাস - এ দিকগুলিই প্রধান হয়ে উঠেছে। আমি একজন খুবই ইমোশনাল লোক, আমার কাছে ভালই লেগেছে মুভিটি। আপনি যদি অতটা ইমোশনাল না হন, আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে।

এনিমেশনের দিক দিয়ে মুভিটি তেমন নতুন কিছু আনতে পারেনি যা কিনা ডিজনি তাদের ফ্রোজেন দিয়ে করেছে। মোটামুটি স্বাভাবিক মানের এনিমেশন। কিন্তু মুভিটিতে জিম পারসন্সের কণ্ঠ ছিল একটি ট্রিট, যা যেকোনো বিগ ব্যাং থিওরির ফ্যান মাত্রই পছন্দ করবেন। আর রিহানার দুইটি গানের কয়েকটি লাইনের সাথে খুব ভাল দৃশ্যায়ন ও হয়েছে।

ওভারঅল রেটিং - ৮/১০
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×