মেহেদী হাসান
শুক্রবার এলেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বাংলাদেশিদের আতঙ্ক বেড়ে যেত। এই বুঝি জুমার নামাজের পর তাঁদের ডাক পড়ে! ২০০৮ সালে মামলার রায় হওয়ার পর এভাবেই আতঙ্কের প্রহর কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের শফিকুল ইসলাম। গত শুক্রবার দুপুরে রিয়াদে শিরশ্ছেদ হওয়া আট বাংলাদেশির একজন তিনি। তাঁর মামাতো ভাই শাহজাহান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার সকালেও ফোন করেছিলেন শফিকুল। তিনি বুঝতে পারেননি যে আর কোনো দিন কথা বলার সুযোগ পাবেন না। কাঁদতে কাঁদতে শফিকুল বলেছিলেন, 'দোয়া কোরো। শুক্রবার আস্লেই ভয় লাগে।'
শাহজাহান বলেন, 'গত কয়েকটা বছর সরকারের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী_কারো সঙ্গে দেখা করতে পারি নাই। কত জনরে বলছি, একজন আইনজীবী নিয়োগ দেও। হ্যারা একতরফা রায় পাইতাছে। একজন আইনজীবী পাওয়ার অধিকার কি নাগরিক হিসেবে আমাদের ছিল না?'
শাহজাহান বলেন, 'আমরা আপস করতে চাইছি। ওই পক্ষ বলেছে, এক কোটি টাকা লাগব। আমরা এত টাকা পাব কই? ২০০৯ সালে ওই টাকার জন্য আমরা সংবাদ সম্মেলনও করছি। কিন্তু টাকা দিচ্ছি, দেব করে আর দেয় নাই।' শাহজাহান বলেন, 'আমরা নিজেরাই সৌদিতে উকিল ঠিক কইরা আপসের উদ্যোগ নিছিলাম। কিন্তু এর মধ্যে শিরশ্ছেদ কইরা দিল।'
শাহজাহান বলেন, 'এমন না যে, ওই বাংলাদেশিরা মিসরীয় গার্ডরে ইচ্ছা কইরা মারছে। মামলার কাগজ দেইখা আমি যা বুঝছি তা হইল, ওরা তার চুরি করতেছিল গোডাউনে। এর মধ্যে মিসরীয় গার্ড আইসা পড়ে। সে ধাওয়া দিলে বাংলাদেশিরা তারে চড়-থাপ্পড় দিয়া বাইন্ধা রাখে। পরদিন গিয়া দেখে মইরা রইছে।'
শাহজাহান আরো বলেন, 'ওই পক্ষের একজন লোক মরল। আর এর জন্য আটজন বাংলাদেশিরে শিরশ্ছেদ করল। কার কী ভূমিকা ছিল রায়ে বলা হয় নাই। সবাই সাক্ষী দিছে, ওরা ঘটনার সময় ছিল। আর এর মধ্যেই রায়।'
বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শাহজাহান বলেন, নিম্ন আদালতের রায়েই তাঁদের শিরশ্ছেদ হয়েছে। আদালতে ওই রায় আইনগতভাবে পুনর্বিবেচনার সুযোগটুকুও তাঁরা পাননি।
শাহজাহান বলেন, ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাংলাদেশিদের স্বজনরা সবাই জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি সরকারের কাছে অভিযুক্তদের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেছিল। এরপর সৌদি সরকার নিহত মিসরীয়র সঙ্গে আপস করার জন্য সুযোগও দিয়েছিল। কিন্তু টাকা জোগাড় করা আর আপসের প্রস্তুতির মাঝেই সব শেষ হয়ে গেছে।
মূল লেখাঃ কালের কণ্ঠ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


