somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহমুদুর রহমান
আমার নাম- মাহমুদুর রহমান।কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না।যে কোন ধরনের সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করি।নিজের ধর্ম ইসলামকে খুব ভালোবাসি।ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা মানুষকে মানবিক হতে শিখায়,সহনশীল হতে শিখায়,সামাজিক হতে শিখায়।নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি।

করোনা ভাইরাস ইস্যুতে বাকবিতণ্ডার শেষ নেই

২১ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



" বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? "

বাঁশ বাগানের মাথার ওপর এখন ভাইরাস।করোনা ভাইরাস।তাই শোলক বলা কাজলাদিদির মত আমাদের প্রবাসীরাও এখন অনেকেই ভালোবাসার স্ট্যাটাস দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।অনেক অনেক প্রবাসীদের বলতে শুনেছি,"দেশের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত; নিজে না খেয়ে পরিবারকে খাওয়াবো"।এখন দেখছি দেশের জন্য তারা মরন দিতে প্রস্তুত।করোনা একটি মহামারী রোগ।আক্রান্তের সংস্পর্শে আসলেই এটা আক্রমন করে।আর আমাদের প্রবাসীরা এসব জানা সত্ত্বেও দেশে ফিরার জন্য তোড় জোড় লাগিয়ে দিয়েছেন।কেন ভাই?আপনি আক্রান্ত দেশে আছেন যেহেতু আপাতত সেখানেই না হয় অবস্থান করুন আপন পরিবারের কথা ভেবে,দেশ ও জাতির কথা ভেবে।কিন্তু নাহ আপনি সেটা করবেন না।দেশের মায়া যেন কিছুতেই আপনাকে পিছু হটতে দিচ্ছে না।তাহলে বোঝাই যাচ্ছে,আবেগ আর বাস্তবতার মাঝে এক আকাশ পার্থক্য রয়েছে।আবেগের বশে আপনাদের মতো লোকেরা দেশকে ভালোবাসেন এই মর্মে দেশের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত বলে যেসকল স্ট্যাটাসের পাপড়ি ছড়ান তা নিঃসন্দেহে মিথ্যা।ক্ষমা করবেন, আপনাদের আবেগের স্থানে কাঁটা বিছানোর জন্য।

জুম্মন সাহেবকে দেখলাম এই ধরনের একটি স্ট্যাটাস ফেসবুকে দিতে।আমি অবাক হয়ে সেখানে মন্তব্য করেছিলাম,

তারা তো আমাদেরই ভাই।তাদের জন্য এই ধরনের ভাবনা হৃদয়ে পোষণ করা কতটুকু যৌক্তিক?প্রতিউত্তরে জুম্মন সাহেব বলেছেন,আমি জানি তারা আমাদের ভাই কিন্তু তারা ভাবে না আমরা তাদের কিছু হই।তাদের কথা হলো মরলে একা কেন মরবো,সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মরবো।আমার মরতে চিন্তা নেই কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো,কোন বিবেকে তারা আমাদের মারতে চায়?আমাদের অপরাধীই বা কি?সত্যি বলতে তারা আমাদের ভালোবাসে না।তারা চায় না স্বজাতি নিরাপদ থাকুক।

আমি বললাম, নিরবতা উত্তম।আপনি শান্ত হউন, স্যার।আপনি রাগান্বিত হলে আমার খারাপ লাগে।কিছুক্ষনের মধ্যেই জুম্মন সাহেব স্ট্যাটাসটা মুছে দেন। আমি নিউজ ফিডে মনোযোগ দিলাম। লক্ষ্য করলাম,একটি পত্রিকার হেডলাইনে লিখা আছে, থানকুনি পাতাতেই মিলবে মুক্তি।আমি আগ্রহের বশে ভিতরে গিয়ে যা দেখলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।কারন অতীতেও খারাপ মুহূর্তে এই ধরনের হেডলাইন আমি পড়েছি।পত্রিকায় লিখা ছিলো, "একজন স্বপ্ন দেখেছে, ফজর নামাজের আগে কেউ যদি তিনটি থানকুনি পাতা খায় তাহলে করোনা থেকে মুক্তি পাবে সে"।যদি সত্যিই তাই হয় তাহলে এটার চর্চা শুরু হোক সেই ব্যক্তির মাধ্যমে যিনি এই কথাটা বলেছেন।তাকে এক্ষুনি করোনায় আক্রান্তদের পরিচর্যার জন্য নিয়োগ দেয়া হোক ।না হলে তাকে সরাসরি হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পিটানো হোক।আমি চাই,এসকল মানুষ যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের শিক্ষা হোক।আশ্চর্য লাগলো,পরদিন একজনের কাছ থেকে যখন শুনলাম, একটি থানকুনি পাতার দাম ১০ টাকা।এই তো গেল থানকুনি পাতা আরেকটি হলো লেবু।বাজারে ছোট ছোট লেবুর হালির দাম এখন কয়েকগুন।কোন একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লেবু খেলে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।কারন এর রয়েছে বহুগুনাগুন।বাঙালী তারপর থেকেই লেবুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

আচ্ছা, করোনা প্রতিরোধের জন্য বাঙ্গালীর ভরসা কিসে?বাঙ্গালীর ভরসা কিসে কেউ জানেন?আমি তো মনে করি সবাই জানেন।হ্যা সবাই জানেন।করোনা প্রতিরোধে বাঙ্গালীর প্রথম ও শেষ ভরসা আল্লাহ।এটাই আমাদের এক নম্বর দাওয়াই যার দরুন করোনা নিয়ে আমাদের অত মাথা ব্যাথা নেই।এই একটি দাওয়াইয়ের কারনে অতীতেও বহুরোগ শোক থেকে আমরা উদ্ধার পেয়েছি।হ্যা বর্তমান ও ভবিষ্যতে আরও পাবো।কাজেই আমাদের ভয় নাই।তবে এর পাশাপাশি আমাদের একটি কথা অবশ্যই মেনে চলা উচিৎ, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সূরা বাকারাহে ১৯৫ নম্বর আয়াতে বলেন,"তোমরা নিজেদেরকে ধবংসের দিকে ঠেলে দিও না"।সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাগুলো আমাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।কারন , "যে নিজেকে সাহায্য করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করে"।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪২

প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×