somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মাহমুদুর রহমান
আমার নাম- মাহমুদুর রহমান।কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না।যে কোন ধরনের সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করি।নিজের ধর্ম ইসলামকে খুব ভালোবাসি।ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা মানুষকে মানবিক হতে শিখায়,সহনশীল হতে শিখায়,সামাজিক হতে শিখায়।নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি।

হোম কোয়ারেন্টিনের দিনগুলো-১

০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



করোনা পরিস্থিত নিয়ে উদ্রেক আর উতকন্ঠায় দিবস-রজনী পার করছি।দেশের অবস্থা প্রতিদিনই ভয়াবতায় রুপ নিচ্ছে।আমি চিন্তিত।আমি শঙ্কিত ভীষন।করোনা নিয়ে মানুষ এখনও পুরোপুরি সচেতন হয়ে উঠেনি।মানুষ এখনও অবজ্ঞা আর অবহেলায় দিন পার করছে।আমার এক সিনিওর সেদিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছিলেন,৫-৬ জন আক্রান্ত নয় বরং সরকারে বলা উচিৎ ৫ লক্ষ আক্রান্ত।তাহলেই বাঙ্গালী ঘরে ঢুকে যাবে, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী বেদম প্রহার করবে সবাইকে।আমি তার এই স্ট্যাটাসে মন্তব্যে রাখি আগে উচিৎ হবে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া।তাহলে সমস্যা সমাধান হবে।তিনি আমার এই কথার কোন উত্তর দেন নি।আগ্রহ নিয়ে তার প্রোফাইলে ঢুকলাম।বায়োতে লিখা ছিলো, Judge me, I will prove you wrong.আমি দেরী না করে বন্ধু তালিকা থেকে তাকে বিদায় জানাই।আমার মাথামোটা লোক একদমই পছন্দ না।

আমাদের এই সোনার দেশে অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করেন।ধনী যারা গরীবদের দেখে তাদের অবস্থা ধরি মাছ না ছুই পানি।অথচ তারা যদি আমাদের প্রতি সত্যিকার অর্থে করুণার সুরে তাকাতো আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাঙ্গালীর ভাত নিয়ে কোন চিন্তা করতে হতো না।ধনীরা গরীবদের মূল্যায়ন করতে চান না।সমস্যা এই জায়গাতেই।আমার একজন সিনিওর একদিন তার স্ট্যাটাসে তার অফিসের চেয়াম্যান সাহেবের একটি উক্তি তুলে ধরেন সেখান লিখা ছিলো, আপনার পরিবারের সকল চাহিদা পূর্ণ করার পর বেঁচে থাকা অর্থ জনগণের।কতই না মেধাবী তিনি।তার মতো সকল ব্যাক্তিগন যদি এভাবে ভাবতো আমাদের ভিন্ন কোন দেশের কাছে টাকার জন্য দুহাত বাড়াতে হতো না।আর আল্লাহ সেই ব্যক্তি সেই জাতিকে ভিক্ষার রাস্তা খুলে দেন যারা অভাবের রাস্তা খুলতে চান নিজেদের জন্য।ইশ মানুষ যদি বুঝতো।

ব্লগার রাজীব নূর তার একটি স্ট্যাটাসে বলেছেন, আমাদের মতো দরিদ্র দেশে এক বছর না, তিন বছরের খাবার মজুত রাখা দরকার। খরা, বন্যা ও ঝড় তো প্রতি বছরই লেগে আছে। হোমো সেপিয়েন্স নামের এই প্রজাতিটা পৃথিবীজুড়ে অশান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছে । এটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে অন্য সব প্রজাতি অনেক ভালো থাকবে”।বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকতের সাথে আমি এক অসাধারন মিল খুঁজে পেয়েছি তার এই কথাগুলোর সাথে। বিগত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের দরিয়া কূলে হরেক রকম প্রান দেখা গেছে।কোথাও হরিন হরিণী নৃত্য করছে,কোথাও কাঁকড়ার দলো উৎসব আয়োজন করছে আবার দরিয়ার পানিতে হরেক রকমের মাছেদের আনাগোনা শুরু হয়েছে।এই দৃশ্যগুলো কতই না নজর কাড়া।প্রানীগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে,তারা স্বস্তির সাথে শ্বাস ফেলছে।আমি এক নাগাড়ে তাকিয়ে ছিলাম সেগুলোর দিকে।মানুষ কত জালিম হতে পারে চিন্তা করা যায়?আপন মাতৃভূমির নিরিহ প্রানীদের সাথে কি ধরনের আচরন করতে হয় তারা আজও সেটা শিখেনি।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তিনি এসব প্রানীগুলোকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে জাতির বিবেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

আজ সকল অত্যাচারী সীমালঙ্ঘনকারী শাসকগণ কোথায়?তারা নাকি অমুক জাতিকে তমুক জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন।পৃথিবীতে রাজত্ব করবেন।আজ তারা সবাই পালিয়ে গিয়েছেন।তাদের মনে ভয় ঢুকেছে।তারা বোঝে, আল্লাহর আযাব বড্ড কঠিন।এদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দিন আগে বলেছিলেন,লক্ষধিক মৃত্যু না হলে তিনি খুশী হবেন।একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি নিজ জাতির প্রতি এমন একটি অবজ্ঞামূলক কথা বললেন কি করে আমি এটা ভেবেই ক্লান্ত।আসলে তিনি দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবেন না এটাই হবে হয়তো।কারন একজন মানুষ যখন দায়িত্ব নেন তখন তার প্রধান কর্তব্য হচ্ছে নিজেকে মানবতার স্বার্থে বিলিয়ে দেয়া।আর এই কাজটা করেছেন, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।যিনি মৃত্যুকে সামনে রেখে মানবতার কল্যানে আপন পেশায় ফিরে গিয়েছেন।তার প্রতি আমার অবিরত শ্রদ্ধা ।

চলবে-
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:২৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগার হিসাবে মানুষের প্রতি আপনার কর্তব্য কী?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৪৩



একজন ব্লগার একজন সাধারন মানুষের চেয়ে আলাদা।
একজন সাধারন মানুষ কাজ করে। সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে শুধু তার কাজ এবং সংসার নিয়েই ভাবে। দেশ বা সমাজ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বড় কন্যা (ছবি ব্লগ) - ০৫

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:২৩


ছবি তোলার স্থান : সোনাকান্দা দূর্গ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ২৪/১২/২০১৭ ইং

আমার বড় কন্যা সাইয়ারা নাজিবা সোহেন বেশশান্ত আর লক্ষী মেয়ে ছিলো ছোট বেলায়, এখনো আছে। দেখতে দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূতের রানীর জন্মদিনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:৫০


ভূতের রানীর জন্ম দিনে !!
(মজা দেই, মজা লই)
নূর মোহাম্মদ নূরু

উৎসর্গঃ ভূতের রানীসহ সকল ভূতদেরকে!

ভূতের রানীর জন্ম দিনে ব্যপক আয়োজন,
পঁচা মাছের কোপ্তা কাবাব মরা মুরগীর রান।
নাতীন জামাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

''আফগানিস্তানে তালেবান" - শাসনের এক বছর । তালেবান শাসনের এক বছরে কি পেল আফগানিস্তান এবং কোথায় ও কেমন আছে এখন !!! ( তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৯ )।

লিখেছেন মোহামমদ কামরুজজামান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:২৫


ছবি - আল জাজিরা

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বের অবমাননাকর পশ্চাদপসরণ এবং কাবুল থেকে বিশৃঙ্খল প্রস্থান করার পর তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে ২০২১ সালের ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

গায়ে হলুদ নামক অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানের কোন দরকার আছে কি?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:২৪


একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে লিনা।

চাটগাঁতে অধিকাংশ বৃহস্পতিবার যন্ত্রনাদায়ক হয়ে ওঠে গায়ে হলুদের জন্য। বিয়েটা সহজ ভাবে হয়ত নেয়া যায় কিন্তু গায়ে হলুদ রিসেপশান বা ওয়ালিমা খুবই অপ্রয়োজনীয় মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×