আমি তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। শুনলাম জেলা শহরে ‘বাহাদুর’ নামে সর্ম্পূণ যাদুনির্ভর একটি বাংলা সিনেমা এসেছে। আমরা ক’জন সিনেমা পাগল বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যেভাবেই হোক সিনেমাটি দেখতে হবে। টাকা জোগাড়ের জন্য প্রয়োজনে নিজের বাড়িতে চুরি করা যাবে। মনে আছে, সে রাতে প্রায় অর্ধেক বস্তা গম ফড়িয়া ব্যবসায়ী এক গ্রাম্য চাচার বাড়িতে রেখে এসেছিলাম। পরদিন গম বিক্রির টাকা আনতে গেলে গ্রাম্য চাচা জানান, মাত্র পনের সের গম হয়ছে (তখন কেজির স্থলে সের প্রচলতি ছিল)। তখন বাজার মূল্য থেকে সের প্রতি আট আনা কম হারে গমের মূল্য পরিশোধ করেন। অর্থাৎ নিজের জিনিস চুরি করে দু’ভাবে ঠকালাম; ওজনে ও দরে। এখন সেই আমি সংসারের মালিকানা পদে দায়িত্ব পালন করছি। দোকান থেকে কোনো জিনিস কেনার সময় যথেস্ট দর কষাকষি করি। বন্ধুদের পিছনে আগরে মতো অযথা টাকা অপচয় করি না। সমগ্র দেশের দূর্ণীতির চিত্র দেখে বাল্যকালরে ঘটনাটি মনে করে ভাবছি মালিকানা শুধু প্রচারের বিষয় নয়, এটা রক্ষার জন্য কতকগুলো দায়িত্ব ও কতকগুলো অলঙ্ঘনীয় শর্ত রয়েছে। বিট্রিশ ও পাকিস্তান আমলে তৎকালীন শাসকদের শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের পূর্ববতী নেতারা বলতনে- ‘শাসকেরা বিদেশি, সেজন্য এদেশের প্রতি তাদের কোন মায়া মমতা নেই। তাদের তাড়িয়ে আমাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নেতাদের আহবানে এদেশের মানুষ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করছে। সর্বশেষে ৭১ সালে পাকিস্তানের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেতে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন উৎর্সগ করেছে, প্রায় ২লক্ষ মা-বোন ইজ্জত বিসর্জন দিতে হয়েছে। কিন্তু আজও কি আমাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় তারা ব্রিটিশ, পাকিস্তান হায়েনাদের থেকে কম। আজ দেশের সম্পদ কারা খায়, আজ দেশের র্স্বাথ জলাঞ্জালী দিয়ে রামপাল। কার স্বার্থে। আজ তাদের দ্বিতীয় আবাসস্থল আমেরিকা নয়তো লন্ডন। তাই আমাদরে আজ পাহারাদার ঠিক করতে হবে নতুবা এই সম্পদ হরিলুট হবেই।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




