somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি পেশাদার

২৪ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ এক মাস হতে চলল মেয়েটার পিছু নিচ্ছি।
এখন পর্যন্ত মেয়েটার সাথে কথা হয় নি। আসলে কথা বলার ইচ্ছে ও আমার নেই।
প্রথম এক সপ্তাহ লুকিয়ে লুকিয়ে পিছু নিতাম। তারপর একটু জানান দিয়েই পিছু নিচ্ছি।
আসলে 'পিছু' কথাটা এখানে ঠিক হচ্ছে না। বলা উচিৎ মেয়েটা কি করছে সেটাই লক্ষ্য করছি - গত এক মাস ধরে।
.
প্রথম প্রথম - মেয়েটা কিছুটা বিরক্ত হত। কিন্তু আজ দুই তিন দিন ধরে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম লাগছে - মেয়েটা তেমন বিরক্ত হচ্ছে না। মাঝে মাঝে আবার একটু আড় চোখে তাকিয়ে - একটা মুচকি হাসি দেয়। সেই হাসিতে কেমন যেন একটা পশ্রয়ের ভাব আছে। দুইদিন মেয়েটার পিছু নেই নি - খুব জরুরী একটা কাজ করতে হয়েছে এই দুইদিনে। মেয়েটা দুইদিন আমাকে দেখে নি - তাই কেমন যেন একটু অভিমান ভরা চোখে তাকাল। ব্যাপারটা তেমন একটা পাত্তা দিলাম না - আসলে এই লাইনে এসব ব্যাপারে পাত্তা দিলে হয় না।
.
* * *
.
আজ শেষ দিন - আজ থেকে আর মেয়েটার পিছু নিব না। আজই মেয়েটার মুখোমুখি দাঁড়াব। গত এক মাস ধরে করা প্লেনটা আজ বাস্তবায়ন করব। মেয়েটাকে আজ কেমন যেন একটু বেশীই সুন্দর দেখাচ্ছে। একটু হালকা মেকাব, চোখে হালকা কাজল, জলপাই কালারের শারী, ছোট করে কপালে টিপ। টিপটা বোধহয় কাজল দিয়ে দেয়া।
.
অদ্ভুদ ব্যাপার মেয়েটা আজ আমার দিকেই আসছে - যাক কাজটা একটু সহজ হয়ে গেল। মেয়েটা যতই এগিয়ে আসছে ততই নার্ভাস হয়ে যাচ্ছি - আসলে এসব কাজে একটু নার্ভাস হওয়াই লাগে। মেয়েটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে - লাজুক চাহনি সেই সাথে লাজুক মুচকি একটা হাসি। বুঝতে পারছি আর দেরি করা ঠিক হচ্ছে না - আস্তে আস্তে পকেট থেকে জিনিসটা বের করলাম। এম.কে ফর্টি - একটা লুগার। সহজ ভাষায় একটা পিস্তল - কাছ থেকে গুলি করার জন্য আদর্শ একটা অস্ত্র!
.
মেয়েটা কেমন যেন একটা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল। আগে জানতাম - মেয়েরা ঘুমিয়ে থাকলে অথবা কাঁদলে অপূর্ব লাগে। কিন্তু এই মেয়েটাকে কেউ দেখলে বোধহয় বলবে - বিস্ময় চাহনিতে মেয়েদের তারচেয়ে অপূর্ব লাগে। ধুর ছাই কি সব ভাবছি - এসব ভাবার কাজ হচ্ছে কবি সাহিত্যিকদের - আমার মত ভাড়াতে খুনিদের এসব ভাবা সাজায় না। হুমম . . . . দশ লাক্ষ টাকার বিনিময়ে মেয়েটাকে খুন করতে যাচ্ছি। লুগারটা মেয়েটার বাঁ বুক বরাবর ধরা। এখনই ট্রিগার চাপতে হবে - এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছি ধিরে ধিরে ট্রিগারের চাপ বাড়ছে - এখন শুধু গুলির শব্দ শোনার অপেক্ষায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: ফেলে আসা এক সড়কের কথা

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×