somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই রোজায় ভেজাল খাবারকে “না” বলুন

১৬ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুষ্টিবীদরা সব সময় রঙিন শাক সবজী ও ফলমুলের গুরুত্ত্ব বর্ণনা করে এসেছেন। যা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদন হয় তাই শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। সেকারনেই সচেতন নাগরিকের কাছে অর্গানিক (ন্যাচারাল) খাদ্য দ্রব্যের চাহিদা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।

সবুজ শাক্ সবজীর মধ্যে ভিটামিন “সি”, হলুদ কিংবা রঙিন ফল মুল ও সবজীর (মিষ্টি কুমড়া, টমেটো ও গাজর ইত্যাদি) মধ্যে ভিটামিন “এ” প্রচুর পরিমানে থাকে যা গ্রহন করার ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

কিন্তু সাধারন জনগন হিসাবে আমরা নিত্য দিন কি খাচ্ছি, সেটা কতটুকুই বা স্বাস্থ্য সম্মত, তার খবর কি রাখি ?!

আপেল, কলা, আনা্রস, আম, কাঠাল, জাম, লিচু ও পেয়ারা ইত্যাদি সব কিছুতেই মেশানো হচ্ছে কেমিকেল। কিছু কেমিকেল কাঁচা কে পাঁকা করার জন্য আর কিছু কেমিকেল পোঁকামাকড়ের হাত থেকে এই সব ফলমুল কে রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। যার ফলে আমরা নিজের অজান্তেই এই সব খেয়ে বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যার সম্মুক্ষীন হচ্ছি।

রোজার সময়ে যাঁরা চাকুরীজীবী পরিবার আছেন তাঁরা অধিকাংশ খাবারই কিনে খেতে পছন্দ করেন। যেমন জিলাপী, জুস, হালিম কিংবা যে কোনো ভাঁজা পোড়া ইত্যাদি। অনেকে শখ করেও কিনে খান।

তেলের মধ্যে মবিল দেওয়া হচ্ছে যাতে করে পিয়াজু , সিঙ্গারা ইত্যাদি মচ মচে হয়। জিলাপির রঙ কমলা করার জন্য যে কেমিকেল কালার দেওয়া হচ্ছে তা শরীরের জন্য ভীষন ক্ষতিকর। রঙিন করার জন্য যে সমস্ত রঙ (textile colour) ব্যবহার হয় তাঁর মধ্যে কমলা রঙ সবচেয়ে ক্ষতিকর।

আমরা আমাদের বাচ্চাদের জন্য সখ করে কত কিছুই কিনে দেই যার মধ্যে এই সব ক্ষতিকর কেমিকেল ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ আইসক্রীম, চিপস্, বিস্কিট, ক্যান্ডি , চকলেট, কেক, চুইংগাম, রঙিন মিষ্টী এবং বিভিন্ন রকমের জুস ।

উন্নতশীল দেশে এই সব খাবারে সিনথেটিক কালার ব্যবহার করা হয় যা শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। তাঁরা একটা মানদন্ড অনুসরন করেন, যা আমাদের দেশে মানা হচ্ছে না। আমাদের কোক, মিরিন্ডা, পেপসি এবং যে কোন রঙিন পানীয়ের মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে কেমিকেল কালার।

বেগুন কেনার সময় দেখে কিনুন যে পোঁকা আছে কি……… না ! পোকাঁ নাই দেখে কিনলে আপনি সাময়িক লাভবান হবেন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এক ভয়ানক শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হবেন ।

আমাদের শরীরের ভিতরে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তা লুকায়িত থাকে বলে আমরা টের পাই না, কিন্তু যখন তা বেদনার আকারে প্রকাশ পায় তখন টের পাওয়া যায় …। ততদিনে অনেক দেরী হয়ে যায়। সব সবজী কেনার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।

মাছের বাজারে মাছ কেনার সময় খেয়াল করুন মাছি আছে কিনা, মাছের গন্ধ পান কিনা ! মাছের বাজারে মাছের গন্ধ থাকবে, মাছি থাকব্, এটাই স্বাভাবিক।

অসাধু ব্যবসায়ীরা শুধু মুনাফার লোভে যে ক্ষতি দেশ ও দশের করে যাচ্ছেন তাঁর বিচার নিশ্চয় একদিন হবে। দরিদ্র চাষী তাঁর ফসল নষ্ট হবার ভয়ে যে সমস্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছেন তাঁর বিরুদ্ধে গনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

আমার এই লেখা সাধারন জনগনের জন্য তাই ইচ্ছা করেই ফর্মালিন , কার্বাইড ইত্যাদি রাসায়নিক নামগুলো ব্যবহার করিনি।
ফর্মালিন পচন রোধ করে আর কার্বাইড দিয়ে কাঁচা ফলকে পাঁকা করার কাজে লাগানো হয় আর পানীয় জাতীয় খাবারে ব্যবহার হচ্ছে টেষ্কটাইল কালার।

সর্বোপরি নকল ভোজ্য তেল থেকে সাবধান থাকা খুবই জরুরী।


আসল রুপচান্দা বোতল ও প্যাকেটের এর নমুনা



নকল রুপচান্দা বোতলের নমুনা

বাংলাদেশে Bangladesh Standard and Testing Institution (BSTI) , Directorate of Consumers Rights Protection (DCRP) এবং Local government bodies আছে যারা এই সব নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে কাজ করার কথা। কিন্তু যথেষ্ট মানব সস্পদ ও সমন্বয়ের অভাবে এরাঁ কতটুকু কাজ করতে পারছে তা বলাই বাহুল্য। সরকার যদি নিয়মিত ভাবে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে মনিটরিং করেন তাহলে হয়ত কিছুটা হলেও ভেজাল রোধ করা সম্ভব।

কিন্তু বর্তমান তথ্য মতে এই ১৫ কোটি ২৫ লাখ জনসংখ্যাকে এই সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানব সম্পদ সমন্বয়ে গঠিত মাঠ প্রশাসন দরকার। তা কি আদৌ সম্ভব !

কুজা চিত হয়ে শুতে পারে না । নিজস্ব খাদ্য দ্রব্যের (যা আমরা নিত্যদিন গ্রহন করি) নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরকেই নিতে হবে। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। জ্ঞানের শুন্যতা আমাদের মধ্যেই বিদ্যমান। আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে।

জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে খাদ্য নিরাপত্তার দায়িত্ব ব্যাক্তি জীবন থেকেই মেনে চলতে হবে তবেই সমষ্টীগত ভাবে আমরা লাভবান হবো। না হলে ক্ষতির রাজ্যে আমারই বাস করব ।

সংযমের এই মাসে আমদেরকেই ভেজাল খাবার কে “না” বলতে হবে। আমরা যদি না কিনি তবেই এই সব অসৎ ব্যাবসায়ী ভেজাল বানানো এবং বিক্রি ও উৎপাদন বন্ধ করবে ।

Pure Food Ordinance(1959) অনুযায়ী ভেজাল খাবার বিক্রি করা আইন অনুযায়ী ভয়ানক অপরাধ ।
নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন। আমি, আপনি ও সবাই মিলে তৈরী করি বিষমুক্ত খাবার ব্যবস্থা ও পরিবেশ।

নিন্মের লিংক এর এই লেখাটিও পড়ে দেখতে পারেন।
Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৩১
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কখনোই ধন-সম্পদের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধের কথা বলে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:০৪



আমি পুরো কুরআন পড়েছি, এবং এখন পর্যন্ত যত দূর প্রিয় নবীজীর পথ শিখেছি, তা থেকে জানি যে, ইসলাম কখনোই আক্রমণ করার কথা বলে না। ইসলামের শেষ নবী (সাঁ)-এঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম শেখানোর সুযোগ পেলে কি শিখাবেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৯:৪০








কিছুদিন আগে নানু মারা যাওয়ায় জানাযারর সময় নিয়ে সমস্যা হলো,তা ছিলো ঐ দিনই বাড়ির খুব পরিচিত মুখও ক্যান্সারে অনেক মাস যুদ্ধ করে মারা যায়।মাঠ যেহেতু একটাই,পরে ঠিক হলো সকাল ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×