somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলা

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বইমেলা।
বাঙালীর প্রাণের মেলা। গতকাল গেলাম বই মেলায়। দেখলাম মিডিয়ার দৌরাত্ব। চ্যানেল আই-এর লাইভ, বাংলা ভিশনের লাইভ।

এছাড়াও সাংবাদিক ও সাংঘাতিকদের ভীড়। কিছু তারকার ভীড় কিছু অ-তারকার ভীড় এছাড়াও রয়েছে কিছু সামরিক আর কিছু অসামরিক মানুষের ভীড়। কিছু র্যাব কোনায় বসে (মুক্তধারার পিছনে) ধুমপানে ব্যস্ত। কিছু সাদা পোশাকের পুলিশ বাথরূমের কাছে সাদা মাইক্রোবাসে বসে আড্ডা দিচ্ছে সেইসাথে শুভ্রদন্ড নিয়ে মশগুল। কিছু কিছু স্টলে সুন্দরী রমনী, কিছু কিছু ষ্টলে কিশোরী মেয়েরা বসে আছে কোন কাজ নেই বইয়ের বিক্রিও নেই। কিন্তু তারা খুব উৎফুল্ল। নিজের মোবাইল ফোনে কথায় ব্যস্ত কিন্তু নতুন পড়তে শেখা শাড়ীর কোন ঠিকানা হচ্ছে না শরীরে। কিছু লোক সেদিকে কেবলার মত তাকিয়ে আছে আর কিছু লোক হ্যাবলার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে বই মেলায়। কিছু তরুণের তরুনীদের পিছে ঘুরে বেড়ানো আর কিছু তরুন তরুণীর উশৃংখল চলাফেরা। মনে হচ্ছে হলিউডে আছি।

সকলেই বই দেখছে। কিনছে কম। কিন্তু বই এর মেলা যেহেতু কোথাও উৎসবের কমতি নেই। তবে কফিওয়ালা চামে কিছু বাজে জিনিষ বিক্রি করছে। অবশ্য পাবলিক সানন্দেই তা খাচ্ছে। এর মধ্যে দু'জনকে দেখলাম বই চুরী করছে। তাতে আমার এতটুকু খারাপ লাগেনি। বই আসলেই চুরির জিনিষ।(তবে অবশ্যই পড়ার জন্য হলে ভালো)।

মাঝখানে আবার শুনলাম চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরাম্যান নিখোজ। তাকে খোজা হচ্ছে ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে। মজাই লাগলো। দেখলাম লিটল ম্যাগাজিনের স্টল ছেড়ে রবীনের নিজস্বস্টল দেয়া। দেখলাম প্রকাশকদের বই এলে কেমন বাচ্চা হয়ে যান তারা। লেখকরা একটু প্রফেশনালিজম দেখাচ্ছেন বটে তবে যাদের নতুন এবং প্রথম বই আসছে তাদের কাছে প্রথম সন্তানের মতো। কিছু কিছু স্টলে নিরস বদনে বসে কিছু বিক্রেতা। তাদের দেখে কষ্টই পেলাম। কিন্তু কিছুই করার নেই। ভাল লাগলো কিছু কিছু প্রকাশকের ভালো বিক্রি দেখে। মানুষ বই কিনছে। এটা অবশ্যই একটা পজেটিভ দিক। কিন্তু ইনফরমেশন ডেস্কের মহিলাটি কেন যেন বিরস। কথায় কোন মধু নেই। অবশ্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বকবক করলে মধু কি আর অবশিষ্ট থাকে ? খুবই ভালো লাগলো বই মেলায় ভাষ্কর্য দেখে। দেরীতে হলেও ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে বাঙালী। তারপরও কত কথা। আর সব সৈনিকরা গেল কোথায়? এটা েকোন ভাস্কর্য হলো ? ইত্যাদি নানা বিশেষন। ব্যাটা নাই মামার থেকে কানা মামা ভাল।

বেশ কিছুসিসি ক্যামেরাও চোখে পড়লো। অনেক সুগঠিত মনে হলো এবারের বই মেলাকে। কিন্তু সেই মেলা কোথায় গেল ? রাস্তায় কোন স্টল নেই। লোকজন খুব শৃংখলভাবে মেলায় ঢুকছে। ব্যাগ চেক হচ্ছে। ভাল লাগলো। অনেক পরিবর্তন পরিবর্ধন তবুও বই মেলাতো। আসুন সবাই অন্তত একদিন হলেও বইমেলায় যাই এবং বিপুল পরিমান বই কিনি।

বলছিলাম মিডিয়ার কথা। সবচোরদের ধরে ধরে লকাপে ঢোকানো হলো। ফালুর ফালাফালি, সাকার চোখ রাঙ্গানি কিংবা নাসিমের বসা গলাটাকে উঠানো এবং চিৎকার করা- কোনটাই আর কাজে লাগছে না। মিডিয়ায় কারো ছবি আর অপ্রকাশিত নেই। হঠাৎ করে অবশ্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু'র কোন ছবি নেই এবং এসম্পর্কে কোন তথ্যও নেই। কিহলো বুঝলাম না। বিশ্ব ব্যাংক এবং আমেরিকার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশের এই গণতন্ত্র কি আদৌ টিকবে ? কেন যেন মিডিয়া একটু দুর্বল হয়ে পড়লো। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। একুশে টেলিভিশন আসছে 21শে ফেব্রুয়ারিতে। তাতেও কি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রভাব বা শক্তি বাড়বে? আজ পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কোন ঐক্যবদ্ধ সংগঠন নেই। বন্ধ হয়ে যাবে বাংলা ভিশন, আর টিভি, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান বা বৈশাখী টিভি। এতোগুলো লোক কোথায় যাবে। কেমনে চলবে তাদের ফ্যামেলী। হয়তো আরো টিভি চ্যানেল আসবে। তাতে কি আদৌ এই স্কিল (কোন কোন েেত্র স্কীল না) লোকগুলোর চাকরী হবে ? আসলে আমরা কোনদিকে যাচ্ছি মিডিয়া কি আমাদের একটু গাইড করতে পারে না? পারে না একটি পথের নির্দেশনা দিতে। শুধুতো খুন মারামারি বা হত্যা-রাজনীতিই মিডিয়ার সাবজেক্ট হতে পারেনা। দেশে এতোগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান, আসছে বাহিরের ইনভেস্টমেন্ট, চলছে পিএইচপি বা নাসির গ্লাসের মতো কোম্পানী গুলো যাদের ইনভেস্টমন্ট 1000-2000 কোটি টাকা। তাহলে কেন আজো পিছনে পড়ে থাকা। কেন বিদ্যুৎ না থাকলে এর বিকল্প না ভেবে মন্ত্রীদের গুষ্টি উদ্ধার করা। কেনো যানজট কমানোর ব্যবস্থা না করে যানজট নিয়ে রিপোর্ট। আমরা কি আর কোনো জইমামুন বা মুন্নী সাহা বা শাকিলদের তৈরী করতে পারিনা?

বিশ্বে 192টি দেশে গণতন্ত্র আছে। যার মধ্যে 129টি দেশে আছে বাংলাদেশের মতো গণতন্ত্র। তাহলে কি আমরা আসলেই গণতন্ত্রের চর্চায় ব্যস্ত নাকি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলতে বাধ্য। সবই বুঝতে পারছি তারপরেও কেন জানি উদাস লাগতাছে হালায়। হালায় লুথা হয়া গেলাম নাকি ? এখন চলছে ট্রাবল শুটিং, এরপর জাতিয় সরকারের আগমন এরপর দেশের ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে, বাড়বে উন্নয়নের সূচক। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে দেশ চলে যাবে অন্যের কবজায়। হায় সেলুকাস! আমরা তো হালায় আগেও লুথা ছিলাম এখনও লুথা আবার ভবিষ্যতেও লুথাই রয়া গেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×