ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পুরাতন জায়গায় ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবীতে দুই সপ্তাহ যাবৎ আন্দোলন করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।তাদের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি , এই প্রথম শিক্ষার্থীদের কোনো আন্দোলনে ব্যক্তিগত সমর্থন করতে পারছি না। কিছুটা হলেও এটা আমার জন্যে দুঃখের। কিন্তু ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক স্মৃতি বহন করছে এটি।এমনিতেই আমাদের ঐতিহাসিক স্থাপনা খুব একটা নেই।মোগল আমল এবং বৌদ্ধ সভ্যতার সাথে সংশ্লিষ্টতা ছাড়া। অথচ একটি দেশকে ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ ও বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তোলে ইতিহাসের স্মৃতি বহন করা স্থাপনাগুলো। সেই বিচারে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ৬৯'র গণ অভ্যুত্থান, ৭৫'র জেল হত্যাকান্ড, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে ১/১১ সময়কালীন জাতীয় নেতৃবৃন্দের জেল জীবনের ইতিহাসের স্মৃতি বহন করছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। তাই এটাকে সংরক্ষণ করা সরকারের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই জায়গায় ছাত্রাবাস নির্মাণের আন্দোলন সমর্থন না করলেও তাদের দীর্ঘদিনের দাবী বা শুধু দাবী বললেও ভুল হবে বলতে হবে ছাত্রাবাস পাওয়ার অধিকার অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা উচিৎ। বিভিন্ন সময়ে পত্রিকার খবরের মাধ্যমে জেনেছি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ছত্রাবাস ভবনগুলো প্রভাবশালী দখলবাজ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা দখল করে রেখেছেন।সরকারের উচিৎ অবিলম্বে সেই ভবন মুক্ত করে আধুনিক ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হোক।
দ্রষ্টব্যঃশিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ যে টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জ করছে তা কোনো ক্রমেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের নিপীড়ন সরকারের অগণতান্ত্রিক চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


