somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মনিরা সুলতানা
চলে গেলে- তবু কিছু থাকবে আমার : আমি রেখে যাবোআমার একলা ছায়া, হারানো চিবুক, চোখ, আমার নিয়তি

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত চিত্র ও অলংকরণ শিল্পী ফাহমিদা আজিম এর সম্মানজনক পুরুস্কার পুলিৎজার পুরুস্কার জয়।

২৩ শে আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকে এতসব বিভিন্ন ধরনের গ্রুপে কিভাবে কিভাবে যে সদস্য হয়ে যাই টের পাই না, এরমাঝে কিছুকিছু গ্রুপ সত্যি বেশ তথ্য নির্ভর।তেমন' ই কোন একটা তে শেয়ার করা খবরে চোখ গেলো - " দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড" পত্রিকার শিরোনাম এসছে Bangladeshi-born illustrator and storyteller Fahmida Azim wins Pulitzer Prize ! বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত চিত্র ও অলংকরণ শিল্পী ফাহমিদা আজিম এর সম্মানজনক পুরুস্কার পুলিৎজার পুরুস্কার জয়।


আহা কী দারুণ চোখ শীতল করা একটা সংবাদ !!!!!! সাথে সাথে গুগোলে সার্চ দিয়ে ঘুরে এলাম এমন একজন হীরক জ্যোতি' র স্বর্ণ কন্যা' র , টুইটার , ইনস্টাগ্রাম সব গুগোল তথ্য গুলো। চায়না বন্দীশিবির থেকে পালানোর দৃশ্যের সচিত্র প্রতিবেদন, যা " How I Escaped a Chinese Internment Camp " শিরোনামে, ২৮ শে ডিসেম্বার, ২০২১ ইনসাইডার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। সেই সচিত্র প্রতিবেদন অলংকরণের জন্যে এই সম্মাননা পেয়েছেন ফাহমিদা আজিম। " ইলাস্ট্রেটেড রিপোটিং এন্ড কমেন্টারি' র পুলিৎজার বিজয়ী দলের একজন এই সুকন্যা। ফাহমিদা ছাড়াও বিজয়ী দলে অ্যান্থনি ডেল কোল, জোশ অ্যাডামস এবং ইনসাইডারের ওয়াল্ট হিকি। ​​সাংবাদিকতা এবং প্রকাশনা' র জগতে সবচাইতে মর্যাদা​​পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় এই পুলিৎজার পুরস্কার।


পুলিৎজার এর মত মর্যাদাপূর্ব সম্মাননার এই স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে ফাহমিদা কে বেশ চড়াই উৎরাই পার করতে হয়েছে অবশ্যই। শুরু থেকে ই ভিন্নধর্মী কাজের আগ্রহ তাকে অনন্য করেছে।শিশু সাহিত্য নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন, মুসলিম মেয়েদের সম্পর্কে যে প্রথাগত ধারনা, সে প্রথা ভাঙার জন্য প্রথা বিরোধী কাজ করেন যে মেয়েরা তাদের নিয়ে ও কাজ করেন, এবং করেছেন।এ বছরের শুরুতে সে ধারাবাহিকতায় " সামিরা সার্ফ " বইয়ের চিত্রাঙ্কন এর জন্যে " গোল্ডেন কাইট " এ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ফাহমিদা ।




২০২০ সালে প্রথাগত নিয়ম ভাঙার - সাহস অনুপ্রেরণা এবং দুঃসাহসিকতার গল্প নিয়ে সীমা ইয়াসমিনের রচনা এবং ফাহমিদার অলংকরণে প্রকাশিত " মুসলিম উইম্যান আর এভ্রিথিংস" বই এর জন্যে (Winner of American Book Fest's 2020 Best Book Awards in Women’s Issues) অ্যামেরিকান বুক ফেস্ট এ উইম্যান ইস্যু বিভাগে সেরা বই বিবেচনায় পুরস্কার জেতেন। ২০২১ সালে জিতেন ইন্টার ন্যাশনাল বুক এওয়ার্ড Winner of the 2021 International Book Awards। এবং ২০২১ সালে আমিরা' স পিকচারস ডে বই এর প্রচ্ছদের জন্যে পুরস্কারে ভূষিত হন।


বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসি' র সিয়াটলে বসবাস রত ফাহমিদা, বাংলাদেশ হতে ছয় বছর বয়সে মা বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া তে বসবাস করতে শুরু করেন। সিয়াটলে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত আছেন। কর্ম সূত্রে ই নিজের শিল্পকে দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস,The (New York Times), এন পি আর( NPR), , গ্লামার (Glamour),সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান (Scientific American), দ্য ইন্টারসেপ্ট (The Intercept), ভাইস(Vice). এমনি সব প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।


এখন পর্যন্ত যে সব তথ্য নিয়ে এ পোষ্ট সাজিয়েছি, সেসব মোটামুটি সব সংবাদ মাধ্যমেই পাওয়া যাবে, আমি নিজেও ইন্টারনেট ঘেটেই সাজিয়েছি লেখা। যেটুকু লেখা হয়নি তা হচ্ছে আমার দেখা ফাহমিদার দেশ প্রেম, একজন মুসলিম নারী হিসেবে নিজের পরিচয়ে পরিচিত হবার গর্বিত উচ্চারণ, আগ্রহ। পুলিৎজার পুরস্কারের ওয়েবসাইটে ফাহমিদা কে নিয়ে লেখা হয়েছে - ​​​​​​​​​​
Fahmida's work centers on themes of identity, culture, and autonomy,


আমাদের কল্পকাহিনী, সাহিত্য উপন্যাসের পাতায় উঠে আসা চরিত্র যারা অসম্ভব সুন্দর একটা অতি সাধারণ জীবন যাপন করছেন অথবা আমাদের পাশেই বাস্তব জীবনে সাধারণ হয়ে ও অসাধারণ জীবন যাপন করেন ! এমন সব মানুষের জীবনের ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তিনি। শিল্পী জীবন কে শখ থেকে কর্ম ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে পরিবারের সাথে, জীবনের সাথে! কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছেন এবং সার্থক হয়েছেন এ যেন এলেন দেখলেন জয় করলেন।

ফাহমিদার করা কিছু চিত্রঃ



অনেক অনেক অভিনন্দন ভালোবাসা তোমার জন্যে ফাহমিদা আজিম!

সকল তথ্যঃ উইকি পিডিয়া, এবং বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড থেকে নেয়া।
সকল ছবিঃ ফাহমিদা আজিমের ইনস্টাগ্রাম থেকে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:৩৬
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

শিশুর অধিকার রক্ষা অবশ্যই সভ্য সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কেউ ধর্ষণ বা হত্যার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×