আমি আমার বাবাকে অনেক ক্ষেত্রেই অনুসরণ করি,বাবা এমন একটা মানুষ যিনি আজ পর্যন্ত কারো সাথে ঝগড়া করেননি। আমার বাবার লোভ লালসাও আমি দেখিনি! বাবা দোকান করে এসে ১০ টাকার নোট গুলো গুনতো,অনেক টাকা মনে হত আমার কাছে! ছোট বেলায় বাবার ১০ টাকার নোটের মোটা একটা বান্ডিল দেখে মনে মনে ভাবতাম, বাবার বুঝি অনেক টাকা!!
বড় হওয়ার সাথে সাথে ধারণা পাল্টালো,টাকা চিনতে পারলেও টাকা রাখতে পারিনা! বাবার প্রতিদিনের আয় থেকে এখনো নতুন নতুন নোট গুলো জমা করেন,আমাদের ভাই বোনদের কোনো কাজে লাগলে সেগুলো বের করেন। গতবার পুরো ফর্মফিলাপের টাকা গুলো নতুন ছিল!
বাবা একসময় সিগারেট টানতো,পান খেতো,সিগারেটের দাম যেদিন এক টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল সেদিন থেকে আর সিগারেট খায়না! আজ পর্যন্ত না!!
বাবার এই গুণটা আমার সারাজীবন মনে থাকবে,বাবার সাথে মাঝে মধ্যে কিছু মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেই,আমি ইচ্ছে করেই পরিচয় করাই,কারণ বাবা হয়ত এতটুকু শান্তি পায়,গর্ববোধ করে,হ্যাঁ আমার ছেলেটা ভালো মানুষের সাথে মেলামেশা করছে।
সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার থেকে সমাজে সম্মানবোধটা অনেক জরুরী,যেটা আমার বাবার যথেষ্ট আছে বলে আমি মনে করি। আমার বাবার মত অনেক বাবা আছেন,যারা দিন রাত পরিশ্রম করে সন্তানকে বড় করেছেন,একটা সময় সন্তানরা বাবা মাকে ফেলে রাখেন,অন্যত্র চলে যান নতুবা আলাদা থাকেন!
বাবারা পরিশ্রম করে,আমি/আমরা যখন বাবা হবো তখনো আমরাও হয়ত এরকমি হবো,তবে বাবাদের মত হতে পারবোনা! কারণ জন্মদাতা হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক,তাঁর মত আর কেউ হতে পারবেন না।
আমার বাবা আদর্শগতভাবে একজন সৎ মানুষ,বাবাকে অনুসরণ করি অনেক ক্ষেত্রেই,আমার বাবার অঢেল টাকা পয়সা না থাকলেও আমাদেরকে বড় করেছেন,শুধু বড়ই করেননি,যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন শিক্ষিত করার। অথচ আমার বাবা মা পড়া লেখা জানেন না।
প্রতিদিন রাতে মা যখন চুলোর পাড়ে রান্না করত,আমরা তখন চুলোর পাড়ে বই পড়তাম! সেইদিন গুলো এখন আর নেই,হেরিকেনের বদলে বিদ্যুৎ,পড়াশোনাও বেশ শেষের দিকে,সবমিলে গতানুগতিক সময়টা পার হয়েছে।
বাবা আজও পরিশ্রম করে,বাবা হয়ত আরো পরিশ্রম করবে,বাবা প্রায়ই বলে,পড়া লেখা শেষ হলে কিছু একটা করতে হবে। আমিও তো সেটাই চাই,কিছু একটা করতে হবে। বাবাকে আর কতদিন কষ্ট করতে দেখবো! সেইদিনের আশায়,যেদিন বাবাকে বলবো,থাক আর দোকান করতে হবেনা.....
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


