somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেডিকেল হেনস্থা

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত দেড়টা, জরুরী বিভাগে দাঁড়িয়ে। ডাক্তার দেখাবেন কিংবা দুর্ঘটনায় কবলিত রোগী জরুরী বিভাগে ভর্তি করাবেন। টেনশান মাথায়। গেলেন টিকেট কাউন্টারে..

টিকেটের মূল্য ১০ টাকা। মাইকে একটা কন্ঠ বলে যাচ্ছে, অতিরিক্ত টাকা দিবেন না। আমি ২০ টাকা দিলাম,ফিরত দিলো না। জিগাস করলাম টিকেট কতো? বলে ২০ টাকা, কিছু বললাম না, আমার সময় কম, বাবার অবস্থা খারাপ।

মেডিকেল অফিসারের কাছে গেলাম, টিকেট থেকে নাম, বয়স এন্টি করে, আবার কাউন্টারে যেতে বললো। গেলাম, আবার ২০ টাকা চাইলো।
দিলাম।
এরপর ১৩ নং ওর্য়াডে গেলাম।

সিট খালি নেই। নিচে বেড দিলো।
এলো ইন্টার্নি ডাক্তার।

একজন অসুস্থ রোগী যার অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে এমন ভাবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করা হচ্ছে। যেনো এইমাত্র তিনি কোন মার্ডার করে আসলেন এবং ইন্টার্নি ডাক্তার একজন গোয়েন্দা পুলিশ।

তার কিছুক্ষণ পর, একটা প্রেসক্রিপশন লিখে ধরিয়ো দিলো এবং ২ ব্যাগ রক্তের কথা বললো।

প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওর্য়াড থেকে বের না হতেই, একজন কাছে এসে বললো,ঔষুধ লাগবে? আসেন আমার দোকান আছে।

লোকটাকে এভয়েড করতে চাইলাম। লোকটাকে এভয়েড করে, লিফট দিয়ে নামলাম। লোকটা আমার আগেই, লিফট নামার আগেই লিফটের দরজায় হাজির। লিফটম্যান লোকটাকে বললো, ভাই ওনার মনে হয় ঔষুধ লাগবে নিয়া যান দোকানে।
বুঝলাম এভয়েড যতই করতে চাচ্ছি, ততই একটা সিন্ডিকেটের ভিতরে ডুকে যাচ্ছি।

লোকটা আমার হাত থেকে, প্রেসক্রিপশন নিয়ে বললো, কিছু মনে করবেন না ভাই। রাতের বেলা, যাতে, মানুষের অসুবিধা না হয়, তাই ঘুরে বেড়াই ওর্য়াডে। চলুন, ঔষুধ নি। দোকানটা আমার মেডিকেলের বাহিরে।

গেলাম, ঔষুধ নিলাম। বিল দিলো ৭৯০ টাকা । দিলাম। খটকা লাগলো। এতো !

ওর্য়াডে এসে ওর্য়াড বয়ের হাতে দিলাম। বললো, কতো নিলো ?
টাকার কথা বলাতে, ওর্য়াড দিলো আমায় ধমক !
এখানে ৭৯০ টাকার ঔষুধ?
যান ফিরত দিয়ে মেডিকেলের ডিসপেনসারি থেকে নিয়া আসেন !
এখানে ৩০০-৪০০ টাকার বেশী হবেই না, বিল !

একে তো মাথা ঠিক নেই, বাবার অবস্থা খারাপ। তারউপর এই কাহিনী। এই সময় আম্মা দিলেন ভরসা। চল আমি যাবো, ফিরত দিতে ।

আম্মা আর আমি গেলাম। বললাম ডাক্তার বলছে, ঔষুধ এগুলো লাগবে না। ডিসপেনসারির লোকগুলার মুখে কালো ছাপ পড়লো। কেনো কালো ছাপ পড়লো বুঝলাম যখন মেডিকেলের ডিসপেনসারি থেকে ঔষুধগুলা ৪০৮ টাকা বিল দিয়ে নিলাম !

আমি হতাশ। কিছু করতে পারছি না। এতো অন্যায় ঘটে চলেছে চোখের সামনে।

লিফট দিয়ে উঠার সময় লিফটম্যান বললো, চা খাবো ! টাকা দিন। তখন রাত ২ টা। বিরক্তির শেষ সীমায় পৌছে দিলাম ১০ টাকা ।

ওর্য়াডে ডুকতে যাবো, এমন সময় ওর্য়াডের গেইটম্যান দিবে না ডুকতে। জোর করে ডুকলাম। মাথা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, আরেকটু হলে, মেরেই বসতাম।

আমাকে বের করার জন্য, সে ওর্য়াড অফিসে ক্লেইম করলো। পারলো না বের করতে।

পরে ওর্য়াড বয় বললো, ওরে ২০ টাকা দিতেন। তারপর বুঝতেন, ও আপনার প্রতি কতটা সদয় হতো !

ওর্য়াড বয় এবার বললো, ১০০ টা টাকা দিন।
আবার টাকা !

সে, স্যালাইন লাগাই দিছিলো। সেজন্য তারে সেলামি দিতে হবে।

কেনো ভাই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি ওদের ফ্রীতে কাজ দিছে, হাসপাতালে ?

বাবাকে এখানে রাখবো না। চট্টগ্রাম মেডিকেলের সার্ভিস ভালো, কিন্তুু খুব ধীরগতি !

বের হবো, আয়া, গেইটম্যান থেকে শুরু করে, ওয়ার্ড বয় সবাইকে আমার খুশি করতে হবে !
মানে টাকা ছড়াতে হবে !

রোগী নিয়ে গেলাম নাকি টাকা ছড়াতে গেলাম।
এতো মানুষিক চাপে থেকে, এতো কিছু সহ্য করা, অসহ্য ।

মজার ব্যাপার মেডিকেলে পুলিশ ও আছে। আসলে পুলিশ হচ্ছে শো-পিচ ।
এতো অনিয়ম ঘটে চলেছে সরকারি একটা মেডিকেলে, সববুঝি চোখ এড়িয়ে যায় !?
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×