রাত দেড়টা, জরুরী বিভাগে দাঁড়িয়ে। ডাক্তার দেখাবেন কিংবা দুর্ঘটনায় কবলিত রোগী জরুরী বিভাগে ভর্তি করাবেন। টেনশান মাথায়। গেলেন টিকেট কাউন্টারে..
টিকেটের মূল্য ১০ টাকা। মাইকে একটা কন্ঠ বলে যাচ্ছে, অতিরিক্ত টাকা দিবেন না। আমি ২০ টাকা দিলাম,ফিরত দিলো না। জিগাস করলাম টিকেট কতো? বলে ২০ টাকা, কিছু বললাম না, আমার সময় কম, বাবার অবস্থা খারাপ।
মেডিকেল অফিসারের কাছে গেলাম, টিকেট থেকে নাম, বয়স এন্টি করে, আবার কাউন্টারে যেতে বললো। গেলাম, আবার ২০ টাকা চাইলো।
দিলাম।
এরপর ১৩ নং ওর্য়াডে গেলাম।
সিট খালি নেই। নিচে বেড দিলো।
এলো ইন্টার্নি ডাক্তার।
একজন অসুস্থ রোগী যার অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে এমন ভাবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করা হচ্ছে। যেনো এইমাত্র তিনি কোন মার্ডার করে আসলেন এবং ইন্টার্নি ডাক্তার একজন গোয়েন্দা পুলিশ।
তার কিছুক্ষণ পর, একটা প্রেসক্রিপশন লিখে ধরিয়ো দিলো এবং ২ ব্যাগ রক্তের কথা বললো।
প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওর্য়াড থেকে বের না হতেই, একজন কাছে এসে বললো,ঔষুধ লাগবে? আসেন আমার দোকান আছে।
লোকটাকে এভয়েড করতে চাইলাম। লোকটাকে এভয়েড করে, লিফট দিয়ে নামলাম। লোকটা আমার আগেই, লিফট নামার আগেই লিফটের দরজায় হাজির। লিফটম্যান লোকটাকে বললো, ভাই ওনার মনে হয় ঔষুধ লাগবে নিয়া যান দোকানে।
বুঝলাম এভয়েড যতই করতে চাচ্ছি, ততই একটা সিন্ডিকেটের ভিতরে ডুকে যাচ্ছি।
লোকটা আমার হাত থেকে, প্রেসক্রিপশন নিয়ে বললো, কিছু মনে করবেন না ভাই। রাতের বেলা, যাতে, মানুষের অসুবিধা না হয়, তাই ঘুরে বেড়াই ওর্য়াডে। চলুন, ঔষুধ নি। দোকানটা আমার মেডিকেলের বাহিরে।
গেলাম, ঔষুধ নিলাম। বিল দিলো ৭৯০ টাকা । দিলাম। খটকা লাগলো। এতো !
ওর্য়াডে এসে ওর্য়াড বয়ের হাতে দিলাম। বললো, কতো নিলো ?
টাকার কথা বলাতে, ওর্য়াড দিলো আমায় ধমক !
এখানে ৭৯০ টাকার ঔষুধ?
যান ফিরত দিয়ে মেডিকেলের ডিসপেনসারি থেকে নিয়া আসেন !
এখানে ৩০০-৪০০ টাকার বেশী হবেই না, বিল !
একে তো মাথা ঠিক নেই, বাবার অবস্থা খারাপ। তারউপর এই কাহিনী। এই সময় আম্মা দিলেন ভরসা। চল আমি যাবো, ফিরত দিতে ।
আম্মা আর আমি গেলাম। বললাম ডাক্তার বলছে, ঔষুধ এগুলো লাগবে না। ডিসপেনসারির লোকগুলার মুখে কালো ছাপ পড়লো। কেনো কালো ছাপ পড়লো বুঝলাম যখন মেডিকেলের ডিসপেনসারি থেকে ঔষুধগুলা ৪০৮ টাকা বিল দিয়ে নিলাম !
আমি হতাশ। কিছু করতে পারছি না। এতো অন্যায় ঘটে চলেছে চোখের সামনে।
লিফট দিয়ে উঠার সময় লিফটম্যান বললো, চা খাবো ! টাকা দিন। তখন রাত ২ টা। বিরক্তির শেষ সীমায় পৌছে দিলাম ১০ টাকা ।
ওর্য়াডে ডুকতে যাবো, এমন সময় ওর্য়াডের গেইটম্যান দিবে না ডুকতে। জোর করে ডুকলাম। মাথা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, আরেকটু হলে, মেরেই বসতাম।
আমাকে বের করার জন্য, সে ওর্য়াড অফিসে ক্লেইম করলো। পারলো না বের করতে।
পরে ওর্য়াড বয় বললো, ওরে ২০ টাকা দিতেন। তারপর বুঝতেন, ও আপনার প্রতি কতটা সদয় হতো !
ওর্য়াড বয় এবার বললো, ১০০ টা টাকা দিন।
আবার টাকা !
সে, স্যালাইন লাগাই দিছিলো। সেজন্য তারে সেলামি দিতে হবে।
কেনো ভাই, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি ওদের ফ্রীতে কাজ দিছে, হাসপাতালে ?
বাবাকে এখানে রাখবো না। চট্টগ্রাম মেডিকেলের সার্ভিস ভালো, কিন্তুু খুব ধীরগতি !
বের হবো, আয়া, গেইটম্যান থেকে শুরু করে, ওয়ার্ড বয় সবাইকে আমার খুশি করতে হবে !
মানে টাকা ছড়াতে হবে !
রোগী নিয়ে গেলাম নাকি টাকা ছড়াতে গেলাম।
এতো মানুষিক চাপে থেকে, এতো কিছু সহ্য করা, অসহ্য ।
মজার ব্যাপার মেডিকেলে পুলিশ ও আছে। আসলে পুলিশ হচ্ছে শো-পিচ ।
এতো অনিয়ম ঘটে চলেছে সরকারি একটা মেডিকেলে, সববুঝি চোখ এড়িয়ে যায় !?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



