somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্দরবন ভ্রমণ

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(১)
অনেককে বলতে শুনেছি, সুন্দরবন ঘুরে আসা থেকে দার্জিলিং ঘুরে আসা অনেক সহজ, খরচও বেশ কম। কোথায় যাবো আগে দার্জিলিং নাকি সুন্দরবন! এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে, ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা দিলো, সুন্দরবন ভ্রমণ আসছে। আমার সাথে সাথে ভ্রমণপিয়াসু অনেক মুখ হাসছে।

সময়টা চলে এলো ১০ জানুয়ারী। ক্যাম্পাস থেকে ৮৩ জন নিয়ে ছুটে চলেছি বাঘ,বাঘীনির রাজ্যে।মাঝরাতে প্রায় ২ঘন্টা আটকে গেলাম মাওয়াতে। ফেরীতে অনেকেই নতুন উঠেছে। ফেরীতে উঠার আগে আমরা রাতের খাবার সারি বাসে।তারপর বাদাম খাওয়া নিয়ে রসিকতার কথা না বললেই নয়, নিজাম স্যারকে বাদাম দেওয়া হলো হাতে। হাতে হাত মোজা থাকায়, রাত খুলতেই পারলেন না বাদামের খোসা ! ওখানে একবাসে সবাই এসে যাই। স্যাররা অনেক মজা করেন। রফিক স্যারের কৌতুক, নিজাম স্যার এবং জসিম স্যারের গান। আহ ! ছাত্রদের মাঝেও কেউ কেউ গেয়ে উঠে গান।

বাস ফেরীতে উঠলো। কেউবা ফেরীর ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে বাসে ঘুমায়। কেউ বা চা খেয়ে গা গরম করে। কেউবা গলা ছেড়ে গান গায়।

(২)
পরদিন ভোরে পৌছে গেলাম খুলনা বন্দরে। গাইড আগেই দাঁড়িয়ে ছিলো।আমাদেরকে ছোট নৌকায় করে নিয়ে একটা লঞ্চে উঠায়, সকালের নাস্তার জন্য। এখানে আমাদের ৮ ঘন্টা বিরতি হয়। পরে বড় লঞ্চে আমাদের স্থানান্তর করা হয়। সেদিন কিছুই দেখতে পারি নি আমরা। রাতে আয়োজন করা হয় কালচারাল প্রোগ্রাম। লঞ্চে কেউবা ঘুমিয়েছে কেউবা আড্ডা দিয়েছে। পরদিন থেকে আমাদের ভ্রমণ শুরু, টাইগার পয়েন্টে যেতেই দেখি বানরের সম্ভাষণ। গাইড মানা করে দিয়েছে চুপচাপ থাকতে, না হলে হরিণ পালাবে। সামনে রাইফেল ম্যান। ন্যাশানাল জিওগ্রাফি তে দেখেছি বনে হরিণ কিভাবে দৌড়ায়। সেটা দেখলাম স্বচক্ষে। Just Amazing !

এরপর পৌছে গেলাম কটকা বীচে। ওখানে নাকি খুলনা বিশ্বাবিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র একসাথে ডুবে মারা যায়। ভয়ংকর বীচ। যেখানে বাঘের ভয় সেখানে বীচ কেড়ে নিলো অনেকগুলা তরতজা তাজা প্রাণ। সেখান থেকে ফিরে আমরা গেলাম আরেকটা জায়গায়, যেখানে হরিণের পাল। শতশত হরিণ, তাদেরকে গাছ থেকে পাতা দিলে, তারা গাছের পাতা খেতে চলে আসে, আমাদের খুব নিকটে। সেখান থেকে ফিরি লঞ্চে। তাকাই পাশে, বনের গাছগুলো দেখলে মনে হয়, কেউ খুব সুক্ষ্মভাবে গাছগুলোর পাতা কেটে সমান করেছে। আসলে, হরিণ যতটুকু পারছে, ততটুকু পাতা খেয়ে সব গাছকে ঝাউবনের মতো বানিয়ে ফেলেছে। না দেখলে এই অুভূতি বুঝানো অসম্ভব।

(৩)
হীরণপয়েন্টে দেখার মতো তেমন কিছুই ছিলো। দেখেছি দুটো মায়া হরিণ। হারবাড়িয়েতে পুকুরে শাপলা দেখে অভিভূত হয়েছিলাম। এখানেও বাঘ আছে। বাঘের পায়ের ছাপ দেখেছি এখানে। সবার মনে একটা ভয় কাজ করছিলো, এই না বুঝি এলো বাঘ !

দুবলার চরে স্যারদের এবং ছাত্রদের মনোমুগ্ধকর ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। এখানে নিউ মার্কেট নামক বাজার থেকে সবাই শুটকি কিনে নিয়ে প্রিয়জনের জন্য।
রাতে স্যারদের এবং ছাত্রদের গানের কলি খেলায় সবার মন উদ্ভাসিত হলো। টুরো লঞ্চ গানের কলির সাথে কেঁপে উঠতে লাগলো। রাতে খাবারে বার্বি কিউ আয়োজন করা হয়।

হাড়বাড়িয়াতে কুমিরের দেখা মিললো। বনের মাঝে এমন ভাবে রাস্তা তৈরী করা হলো যেনো দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখতে পারে। এখানে বানরের উৎপাত খুব বেশী। একটা কিছু পেলেই হইছে টেনে নিয়ে যাবে। সেদিন আরো দেখলাম ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং খান জাহান আলী মাজার।

এরপর ফিরা , মংলা থেকে যখন ছোট নৌকায় জেটির দিকে যাচ্ছি, বারবার লঞ্চের দিকে ফিরে চাইছে। গত ৩টা দিন একসাথে কতোগুলা মানুষ ছিলাম একসাথে। বিদায়....


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১১:৫৫
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×