somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবর্তন যখন হিজাবে

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন বৈশাখী হাওয়া মাতাল করে দিচ্ছিলো প্রকৃতিকে। বৃষ্টি আসার পূর্বমুহূর্ত বিধাতা সৃষ্টি করে রেখেছেন এক অপরুপ মায়া নিয়ে। ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে আকাশে ধূলোর ঝড় দেখছি।

বাতাসের মাতাল হাওয়া উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে রহিম কাকার লুঙ্গি। অদূরের মুদি দোকানে হু হু করে ডুকছে ধুলো। শাহিনের ছোট বোন বেরিয়েছে, কেনো বেরিয়েছে কে জানে। আরেকটু বাতাস বইলে যেনো উড়িয়ে নিয়ে যাবে মিথিকে।মিথি শাহিনের বোন।আমাকে ভালো করেই চিনে সে। মিথিকে উড়িয়ে নিয়েই গেলে হয়তো ভালো হতো। কখনো দেখা হয় নি পরী উড়ছে আকাশে। সে দেখার স্বাদটা না হয় মিটিয়ে নিতাম। তার চুল উড়ছে বাতাসে। এ যেনো ধূলোর মাঝে অপ্সরীর আবর্তন।

বৃষ্টি শুরু হলো। মিথি চলে গেলো। কখনোই কথা হয় নি। ফেসবুকে কেনো জানি আজ তাকে নক দিতে মন চাইলো, দিলাম।

প্রথম ম্যাসেজটা দিলাম এই ভাবে " ধূলোর ঝড়টা তোমার কারণে, পূর্ণতা পেয়েছে "!

সে দিলো, দুটো লজ্জার ইমো। সাথে লিখলো, না গিয়ে উপায় ছিলো না। মোবাইলের রিচার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিলো। সেদিন থেকে মিথির সাথে অনেক কথা হতো। তার জীবনের সবকিছু শেয়ার করতো। সুখ দুঃখে আমাকে ফেসবুকে নক দিতো। হয়তো তার অনেক বন্ধু রয়েছে, কিন্তুু তাও সে আমাকে খুঁজে নিতো একজন পাশে থাকার বন্ধু ভেবে। শাহিনের সাথে যখন আড্ডা দিতাম, তখন ভুলেও মিথির সাথে চ্যাট করতাম না। শাহিন কি না কি ভেবে বসে আবার !

একদিন মিথি ফোনে ম্যাসেজ দিলো, আপনি একটু আসতে পারবেন? এক কাপ কফির সাথে না হয় বিকেলটা পার করলাম কিছুটা সময় !

আমি, বললাম TMT তে এসো, আসছি বিকেল ৪টায়,দেখা হবে। গিয়ে দেখলাম আমার আগেই সে উপস্থিত। অনেক কথাই হলো। এক পর্যায়ে বললো, ইদানিং কিছু সমস্যা মোকাবেলা করছি সমস্যাটা দিন দিন মনে হচ্ছে বেড়েই চলেছ।

মিথি তুমি চাইলে বলতে পারো। সে শুরু করলো, ইদানিং খুব বেশী প্রোপোজাল পাচ্ছি। আমি এতে খুব ডিস্টার্ব ফিল করছি। এমনকি রাস্তায়ও ছেলেরা একটু কেমন করে যেনো তাকায় !

স্বাভাবিক ব্যাপার এটা। তুমি এমনিতেই সুন্দর, তারউপর চুল যখন ছেড়ে হাঁটো। তখন মনে হয় রাস্তা দিয়ে কোন পরী হেঁটে যাচ্ছে। মনে হয় এই মাত্র নেমে এলো রুপকথার এক অপ্সরী।

আপনি মজা করছেন ! আমি একটা সল্যুশন চাচ্ছি। এভাবে ভালো লাগছে না থাকতে। ফেসবুকেও ম্যাসেজের উপর ম্যাসেজ আসছে।

আচ্ছা বুঝলাম। আমি তোমাকে একটা সাজেশন দিতে পারি, সেটা হচ্ছে তুমি হিজাব পড়তে পারো। হিজাবে তোমাকে বেশ স্মার্টও লাগবে। আর যদি, সাজেশন ফলোই করো, তাহলে বলবো ড্রেসের সাথে মিল রেখে কিনো।

সে হাসছে আর বলছে, আপনার কথা অনেক ভালো লাগলো। চলুন যাই, মার্কেটে। আজকে যেহেতু নীল ড্রেস পড়লাম, একটা নীল হিজাব কিনা যায় কিনা দেখি !

আমি তো তার কথায় অবাক। সে আরো বলছে প্রতি সপ্তাহে একবার বের হবেন আমার সাথে, আর একটা করে হিজাব কিনবো।

তারপরের কয়েকদিন কথা হয় নি। একদিন নক দিলো ফেসবুকে, আপনার কথায় অনেক কাজ হয়েছে। তাছাড়া বাসা থেকেও বাহবা পাচ্ছি। আমি নাকি অনেকদিন পর ভদ্র হলাম ! ভ্যাইয়া জিগাস করলো, কিরে তোর এতো পরিবর্তন কেনো ! আমি মনে মনে তখন আপনার কথাই ভাবছিলাম। আমি আগে থেকে অনেক শান্তি পাচ্ছি।

আপনাকে একটা দিন ট্রিট দিতে চাই। চলেন নেভাল যাই, সমুদ্রের হাওয়া আর মচমচে পেঁয়াজু খাওয়াবো আপনাকে।
আমি মনে মনে ভাবি, এমন মানুষের কথা কি না রেখে থাকা যায় !

নেভালের ব্লকে বসে, মিথি তার ফেসবুক অন করলো। টুং টাং শব্দে কান ঝালাপালা হওয়ার আগেই, সে মোবাইল সাইলেন্ট করে দিলো। আর বললো, কি এক যন্ত্রণা, মানুষের খাই দাই কাম নাই, শুধু ম্যাসেজ পাঠায়।

আমি হাসছি দেখে জিগাস করলো হাসেন কেনো ! আমি বললাম তুমি চাইলে, এটা থেকেও পরিত্রাণ পেতে পারো ! যদি তোমার ফেসবুকের ছবিগুলা সরিয়ে ফেলো।

সে বললো, কি বলেন এতোগুলা ছবি সরিয়ে ফেলবো ! ছবি দিলে লাইক কমেন্ট অনেক ভালো লাগে।

আমি বললাম, এটা তোমার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার সাজেশন ছিলো আরকি !

তার অনেকদিন খোঁজ নেই। একদিন চা দোকানে চা খাচ্ছি, মিথি কল দিয়ে বললো, বাহিরে আসেন আমি একটু সামনে দাঁড়াই আছি।
গেলাম সাথে সাথে বললো, ধন্যবাদ।

আমি দেখলাম, তার অনেক পরিবর্তন। ড্রেসের সাথে, হিজাব তো মিল করে পড়েছেই সাথে নেকাপও পড়েছে। মিথিকে দেখে এতো ভালো লাগছে, বলতেও পারছি না।

এখন ফেসবুকেও অনেক কম ম্যাসেজ পাই। রাস্তাঘাটে তেমন প্যারা খাই না। আপনি যে কি অসাধারণ সাজেশন দিয়েছেন বলার মতো না। প্রথম দুদিন খারাপ লাগতেছিলো, ছবিগুলা সব লুকিয়ে ফেলবো Only me options এ!
কিন্তুু, ছবি লুকিয়ে এতো ভালো ফলাফল পাবো, ভাবিনি কখনো। তারপর কয়েকদিন পর ফেসবুকে দেখলা ন্যাকাপ পড়া কিছু মডেলের ছবি। দেখে অনেক ভালো লাগলো। তারপর থেকে ন্যাকাপ পড়া শুরু করলাম। আস্তে আস্তে অনেক পরিবর্তন শুরু হলো। অনেক শান্তি লাগে সেটা ফেসবুকে কিংবা রাস্তায় চলাচলে।

যাক মিথি, শুনে ভালো লাগলো, একটা সমস্যা থেকে বের হতে পারলে। সাথে তোমারও অনেক ভালো লাগছে, শান্তি পাচ্ছো। এইটুকু শুনেই মনটা খুশিতে ভরে উঠলো।

চলো তোমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে হাসি..

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:০৭
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×