যে দৃশ্য আমাকে আজো ভাবায় ...
জীবনে নিজের চোখে দেখা একটি দৃশ্য আমাকে খুব বিচলিত করে। মাঝেমাঝে স্বপ্নেও সে দৃশ্য দেখি। কালরাতেও দেখেছি। তাই, আপনাদের সাথে শেয়ার করে খানিক হালকা হতে চাই। ঘটনাটি প্রায় বাইশ বছর আগের।
প্যারিসের রাস্তায় হাটছিলাম। সাথে আরো তিনজন বাংলাদেশী ছিলেন। এঁদের একজন আরেফিন আপা। তিনি তখন বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ছিলেন। এদ্দিনে হয়তো অনেক বড়ো পদে। আরেকজন প্রয়াত হাফিজ ভাই। তিনিও সরকারের প্রশাসনে ছিলেন। অপরজনকে স্পষ্ট মনে নেই।
ফুটপাতে হেটে হেটে প্যারিস দেখছিলাম। মাঝে মাঝে পাতাল (ফুটপাতের লেভেলের নিচে) রাস্তায় প্রবেশপথও দেখা যায়। ফুটপাতের লেভেল হতে সুড়ঙ্গ বানিয়ে পাতাল রাস্তার প্রবেশমুখ তৈরী করা হয়েছে কিছুদূর পরপর। এমনই এক প্রবেশমুখের কাছাকাছি এক বাঙালি যুবককে দেখে আমরা সবাই থামলাম।
যুবকের নাম ভুলে গেছি, তবে তার বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায়। কথায় কথায় জানলাম, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাস্টার্স করে ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে এসেছিলো। পড়া শেষ করতে পারেনি। তাই, ফ্রান্স সে অবৈধ হয়ে গেছে। এখন রাতেদিনে যখন যা হাতের কাছে পায় চোরাগোপ্তা সে কাজ করেই তার চলে। দেশেও নাকি কিছু পাঠায়।
ফুটপাতের উপর একটা বড়ো তোয়ালে বিছিয়ে কিছু ফল বিক্রি করছিলো সে। আমরা খেতে না চাইলেও আমাদের হাতে কি একটা ফল কেটে এক টুকরো করে ধরিয়ে দিলো যুবক। কথা বলছিলাম তার সাথে তারই দেয়া ফল খেতে খেতে। হঠাৎই সে আমাদের উদ্দেশ্যে বললো, 'ভাই, পুলিশ আসছে, আমাকে পালাতে হবে।'
আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম সেখান থেকে শখানেক গজ দূরে এক পুরুষ আরেক মহিলা পুলিশ কোমরে পিস্তল আর হাতে লাঠি নিয়ে হেটে আসছে দেখতে পেলাম। যুবক ফুটপাতে বিছানো ফলমূল ওভাবে রেখেই একপ্রকার দৌঁড়ে পাতাল রেলের প্রবেশপথে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই পুলিশযুগল আমাদের পাশ দিয়ে হেটে চলে গেলেন।
পুলিশ যাবার পরও আমরা কিছুক্ষন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যুবক তখনো ফিরে আসেনি। হয়তো আরেকটু দেখেশুনে একসময় ঠিকই আসবে।
ML Gani/ Canada
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


