somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পড়াশোনা নেই তো কি হয়েছে?

১০ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পড়াশোনা নেই তো কি হয়েছে? =

আমার এক মুরুব্বির কথা বলি আজ। সত্য ঘটনা; অন্য মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি।

খুব ছোট বেলায় তিনি তাঁর বাবার সাথে হেঁটেহেঁটে শহর এলাকায় কাপড় বিক্রি করতেন। বাবা কিভাবে কোথা হতে কাপড় কিনে এনে লাভে বেচতেন, কাপড়ের কোয়ালিটি কিভাবে পরখ করতেন, ক্রেতার সাথে কিভাবে কথা বলতেন, ইত্যাদি গভীর আগ্রহভরে শিখে ধীরে ধীরে কাপড়ের ব্যবসা রপ্ত করে একসময় কাপড়ের ব্যবসায় বাবাকেও ছাড়িয়ে যান তিনি। পড়ালেখা কেবল উচ্চমাধ্যমিক। তাও আবার টেনেটুনে পাশ। কারণ, তাঁর মন পড়ে থাকতো কাপড়ের ব্যবসায়।

আশির দশকে যখন বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিস্তার লাভ হতে থাকে তখন সে সুযোগটা তিনিও নিয়েছিলেন। এক গার্মেন্টসে মাত্র দেড়হাজার টাকা বেতনে চাকুরী শুরু করে কালের আবর্তে তিনি কয়েকটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক হয়েছেন কেবল বছর বিশেকেই। বিএ, এমএ পাশ লোকজনসহ হাজার হাজার নারীপুরুষ কাজ করতেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তিনি অবশ্য মালয়েশিয়ায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন।

যৌবনে মুরুব্বি বেশ সৌখিন স্বভাবের মানুষ ছিলেন। বিয়ে করেছেন এক বড়ো ব্যাংকারের সহোদরাকে। এতে তাঁর ব্যবসার সুবিধাও হয়েছিল বেশ। তাঁর স্ত্রী ছিলেন নজরকাড়া সুন্দরী। এই মুরুব্বি যখন স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেতেন তখন তাঁর স্ত্রীকে দেখতে এলাকায় ভিড় জমে যেত। দামি চকচকে গাড়িতে চড়ে ম্যাডাম গ্রামে যেতেন। তাঁর গাড়িকে ফলো করতো আরো দুটি গাড়ি। একটিতে প্রাইভেট সিকিউরিটির লোকজন, অপরটিতে একদল নারী বিউটিশিয়ান। রীতিমতো রাজকীয় কারবার!

ম্যাডামের হাতের কাছেই থাকতেন নারী বিউটিশিয়ানরা। তাঁর গলা-বুক জড়িয়ে অজস্র মণিমুক্তো। যেন সাক্ষাৎ প্রিন্সেস। মাথার উপর ডায়মন্ডখচিত একটা পাতলা ওড়না পড়তেন। ওড়নাটি ছিল অন্ততঃ হাত পাঁচেক লম্বা। তাঁর দুপাশে দুই তরুণী ওড়নাটির দুপ্রান্ত হাতে ধরে তাঁর পেছনে হাঁটতেন। দুই বিউটিশিয়ান খানিক পরপর ম্যাডামের মুখ গলা মুছে রিফ্রেশ করে দিতেন। এমনই সৌখিন চলাফেরা ছিল এ পরিবারের।

এতো ইনিয়ে বিনিয়ে মুরুব্বির গল্প করার উদ্দেশ্য, তিনি কোন অবস্থান হতে নিজের চেষ্টায় নিজেকে কোথায় নিয়ে গেছেন তার খানিক ধারণা দেয়া। মোটকথা, মাথায় ঘিলু থাকলে এবং পরিশ্রমী হলে কম পড়াশোনায়ও জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়।

বর্তমানে তিনি সপরিবারে মালয়েশিয়া থাকেন। এক ঘনিষ্ঠের মুখে শুনেছি, মালয়েশিয়ায় তিনি যে আলিশান বাড়িতে থাকেন তাঁর দাম দেশি টাকায় পঞ্চান্ন কোটি। খবর সঠিক হয়ে থাকলে এ তো বিশাল অর্জন। [মালয়েশিয়ায় এতো দামি কোন বাড়ি আদৌ না থাকলে মালয়েশিয়া প্রবাসী বন্ধু/ভক্তরা দয়া করে আমাকে মাফ করবেন।]

প্রায় তিন কোটি টাকা চাঁদা দিয়ে এ মুরুব্বি সিআইপি'ও হয়েছিলেন। সে সুবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। এক কথায় তাঁর জীবনে কোনকিছুরই কমতি ছিল না, বা নেই। অথচ পড়ালেখা কেবল টেনেটুনে ইন্টারমিডিয়েট! - - -

আমার আরেক ঘনিষ্ঠের কাহিনী শুনুন। তিনি বর্তমানে ঢাকা শহরে দুইটি গার্মেন্টসের মালিক। আলিশান ফ্ল্যাটও কিনেছেন কয়েকটি। পড়াশোনায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকায় তিনি নামের আগে বিএ , এমএ, না লিখে লিখেন 'আলহাজ্ব' এবং 'লায়ন', এ দুটো বিশেষণ। পড়াশোনা কেবল চতুর্থ শ্রেণী।

এই সুহৃদের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীও চাকুরী করেন। তাঁর সাথে আমার মাঝেমাঝে কথা হয়। সেদিন আক্ষেপ করে তিনি বললেন, 'ইংরেজিটা জানলে আমি ব্যবসায় আরো অনেক আগাতে পারতাম।'

কথাটা শুনে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, 'আপনি ব্যবসাবাণিজ্য কিভাবে সামলান, বা বিদেশিদের সাথে কিভাবে কথা বলেন?'
অন্যের সহযোগিতা নিয়েই তাঁর কাজ চলে বলে জানালেন। তবে, এতে নাকি ব্যবসার গোপনীয়তা নষ্ট হয়।

কথাটা অমূলক নয়। একারণেই তিনি নাকি বাসায় প্রাইভেট টিউটর রেখে ইংরেজি শেখার চেষ্টা করছেন। বয়স তাঁর খুব বেশি নয়। ইংরেজিটা শিখে ফেললে একদিন তিনিও হয়তো ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করে আরো অনেক বড়ো ব্যবসায়ী হবেন, দেশের বাইরেও সহায়-সম্পদ গড়বেন। দেখুন, এই সুহৃদের পড়াশোনা কেবল চতুর্থ শ্রেণী!

বলেছি তো, মাথায় ঘিলু থাকলে এবং পরিশ্রমী হলে নামমাত্র পড়াশোনায়ও জীবনে অনেকদূর আগানো যায়। তাই, নানা কারণে যাঁদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গালভরা ডিগ্রি নেয়া হয়ে উঠেনি তাঁদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। মাথা ঠান্ডা রেখে চেষ্টা চালিয়ে যান। স্কাই ইজ ইউর লিমিট!
ML Gani, Canada
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:৫৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×