somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার স্ত্রী আর তিন তিনটি সন্তান রয়েছে তার।

নামাজ-কালাম যারা নিয়মিত পড়েন তাদের কারো কারো কপালে কুখ্যাত এস আলমের কপালে যে ধরণের কালো দাগ আছে সে প্রকৃতির দাগ দেখা যায়। হাজি সাহেবের কপালেও তেমন দাগ স্পষ্ট। এ বিবেচনায় তাকে ভাগ্যবান বলতেই হয়, কারণ, আমাদের অনেকে পাঁচ-ছয় ওয়াক্ত নামাজ পড়েও কপালে সেই কাঙ্খিত দাগটি ফেলতে পারিনা। এ দাগ যাদের কপালে আছে তারা যে নিয়মিত নামাজ পড়েন সে কথা আলাদা করে বলে দিতে হয়না।

দেশবিদেশে বিভিন্ন প্রকারের ব্যবসা আছে হাজী মামুনের। সে কারণে বিদেশ ভ্রমন তাকে একপ্রকার নিয়মিতই করতে হয়। সে ধারায় কিছুদিন আগে তিনি চায়না গেলেন এক কোম্পানির আমন্ত্রণে। কোম্পানি তাকে তাদের প্রোডাক্ট দেখাবে, আর, সে প্রোডাক্ট মনঃপুত হলে মামুন তা বাংলাদেশে আমদানি করে বাজারজাত করবেন - এমনই পরিকল্পনা।

চীন দেশে অনেক বাংলাদেশী কাজ করে আজকাল। সেই চীনা কোম্পানি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত এক টগবগে বাংলাদেশী তরুণকে দায়িত্ব দিলো মামুন সাহেবের দেখভাল করার। এ তরুণ দেশ থেকে এমবিএ করে চায়না গিয়ে সেখানে চাইনীজ ভাষা শিখে কোম্পানির মার্কেটিং টীমে কম বয়সেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান করে নিয়েছে।

তরুণ এয়ারপোর্টে এসে শ্মশ্রুশোভিত বয়স্ক ভদ্রলোক মামুন সাহেবকে রিসিভ করে আগে থেকে তার জন্য বুক করা এক হোটেলে নিয়ে গেলো। এর আগে ভিডিও কলে কয়েকবার কথাবার্তা বলে তরুণ মামুন সাহেবের ধার্মিক মনমানসিকতা নিয়ে বেশ ভালো একটা ধারণা পেয়েছিল। একারণে সে যথাসম্ভব মুসলমানবান্ধব একটা হোটেল তার জন্য বুক করেছিল। একইসাথে, হোটেলে খাবারদাবারও যেন হালাল হয় সেদিকেও তরুণ নজর রেখেছিল।

হাজি মামুন হোটেলে তার কক্ষে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে তরুনের কাছে জানতে চাইলেন সেখানে ভালোমানের বার আছে কিনা।

মেহমানের চাহিদা শুনে তরুণ যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না। তাই, সে আরেকবার জানতে চাইলো, তিনি আসলেই মদ পান করা যায় সে ধরনের বার-এর কথা বলছিলেন কিনা।

কিছুটা বিরক্তির সুরে মেহমান বললেন, 'হ্যাঁ, তাই বলছি।'

তরুণ তাৎক্ষণিক জবাব দিলো, 'সমস্যা নেই, আমি হোটেলকে সেভাবে বলে দেব।'

উত্তর শুনে মামুন বললেন, 'এই হোটেলে কি একটু আনন্দ-ফুর্তি করার ব্যবস্থা আছে? মানে বুঝলে তো, দেশে আমরা অনেক খাটাখাটুনি করি, কিন্তু, সেখানে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা সেভাবে নেই, আর, থাকলেও সবাই সেখানে যেতে পারেনা ...'

তরুণ বললো, 'জী, বুঝেছি; তবে আপনি ঠিক কি ধরনের আনন্দ-ফুর্তি করতে চাচ্ছেন তা নিয়ে সরাসরি হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে পারেন, আমি সে ব্যবস্থা করে দেব। আর, আপনি চাইলে আমি দোভাষীর কাজটিও করতে পারি।'

ঠিক এ সময়ে মেহমানের অনুমতি নিয়ে তরুণ হোটেলের ম্যানেজারকে ফোন দিয়ে চাইনিজ ভাষায় জানতে চাইলো মেহমানের জন্য কি কি ধরনের আনন্দফুর্তির ব্যবস্থা বা নাইট-লাইফের ব্যবস্থা তারা করে থাকে।

হোটেল ম্যানেজারের সাথে আলাপ শেষে তরুণ মেহমানকে যা জানালো তা শুনে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে তরুণকে বললেন, 'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে, আজকাল জামাতের লোকজনও তো এসব হোটেলে থাকে না, এখানে তো বলতে গেলে এমিউজমেন্টের কিছুই নেই? সোজা কথা, আমার আজ রাতেই মে*** লাগবে।'

অবস্থা বেগতিক দেখে তরুণ তার ম্যানেজারের সাথে জরুরি কথা বলে মামুন সাহেবের জন্য তড়িঘড়ি অন্য একটা হোটেলের বুকিং দিলো। - -

প্রিয় পাঠক, আপনার বিশ্বাস হউক বা না হউক, এটি একটি সত্য ঘটনা। তরুণ নিজেই আমার সাথে কিছুদিন আগে এ কাহিনী শেয়ার করেছে।

- এম এল গনি - কানাডীয় অভিবাসন পরামর্শক, প্রকৌশলী, কলামনিস্ট ও কথাসাহিত্যিক। https://www.facebook.com/moh.l.gani/
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×