somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর "৬০০ একর" জমিঃ মিথ এবং প্রকৃত তথ্য

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইদানীং ফেসবুকে ঝড় উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহ ৬০০ একর জমি দিয়েছেন। অথচ তার জন্মবার্ষিকী এসব প্রতিষ্ঠান পালন করে না, পালন করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঢাকার নবাবদের আদৌ কি কোনো আর্থিক ভুমিকা ছিল? থাকলে সেটা কী? কত জমি ছিল তাদের? কত জমি তারা দান করেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতেই এই লেখা।


সরদার ফজলুল করিমের "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজঃ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা" বইয়ের ১৬-১৮ পৃষ্ঠা থেকে আমি এর সোজাসাপ্টা জবাব পাই।

""প্রশ্নঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্রদের প্রথম ছাত্রাবাসের নাম যে সলিমুল্লাহ হল রাখা হল এর কারণ কি? এতে নওয়াব পরিবারের কি কোন আর্থিক কন্ট্রিবিউশন ছিল?

উত্তরঃ আদৌ কোনো কন্ট্রিবিউশন ছিল না। আবদুল্লাহ 'সোহরাওয়ার্দী' লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট ছিল [সোহরাওয়ার্দীদের পদবী যে সোহরাওয়ার্দী ছিল না এটাও তিনি উল্লেখ করেন]। এরা আহসান মঞ্জিলের টাকায় পড়ালেখা শিখেছে। এরা সলিমুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করত। ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রায় দশ বছর পরে তার একটা মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নামে একটা ছাত্রাবাস করার প্রস্তাব এঁরা করেন। মুসলিম ছেলেদের জন্য হল তখন তৈরি হয়ে গেছে। প্রথমে এ হল ছিল এখনকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিল্ডিঙয়ে। আব্দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী বললেনঃ এই হলকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল করা হোক। কোন মুসলমান ধনীর কাছ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাইরেক্টলি কোন ফাইনেন্সিয়াল কন্ট্রিবিউশন পায় নাই। কথা ছিল গভর্ণমেন্ট অব ইন্ডিয়া ঢাকা ইউনিভার্সিটি করবে। সেই জন্য ১৯১০ থেকে কিছু টাকা ইন্ডিয়া গভর্ণমেন্ট আলাদা করে রাখত। ১৯২০-২১ এ এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ লক্ষ। কিন্তু এই ৬০ লক্ষ টাকা বেঙ্গল গভর্ণমেন্ট ডিড নট গিভ টু দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি। তারা সে টাকাটা পুরো নিয়ে নিল। সলিমুল্লাহ হল যে তৈরি হল তা পুরোটাই সরকারের টাকায়। নওয়াব পরিবারের টাকায় নয়; নওয়াব পরিবারের জায়গাতেও নয়। রমনার যে জায়গাটা ঢাকা ইউনিভার্সিটি-এর পুরাই খাসমহল, সরকারের জমি। সেটলমেন্ট রিপোর্ট-এ তাই আছে। .।.।.।..।.।ঢাকার নওয়াবদের জমিজমা এসেছে প্রধানত একটি সূত্র থেকে। ঢাকার স্থানীয় মুসলমানরা মৃত্যুর সময় কোন কোন সম্পত্তি নওয়াব আবদুল গণি ও আহসানউল্লাহকে ওয়াকফ করে দিয়ে যেত। ঢাকার নওয়াবদের জমির উৎস এই। তাও বেশি কিছু জায়গা জমি নয়। এটার ভেরিফিকেশন তো সোজা। যে কেউ ইন্টারেস্টেড, সে ঢাকা কালেক্টরেটে যেয়ে দেখে আসতে পারেন। কাজেও নওয়াব পরিবার যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়কে জমি দিবে, এমন জমি কোথায় ছিল? আহসান মঞ্জিলের কোন জমি ছিল না।


প্রশ্নঃ ঢাকার লোকের সঙ্গে ঢাকার নওয়াবদের সম্পর্ক কিরুপ ছিল?
ঢাকার মুসলমানদের সঙ্গে এদের কোন সম্পর্ক ছিল না। মুসলমানরা এদের পরিবারকে নিজেদের সমাজের কোন বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বলে যে গ্রহণ করেছিল, এমনও নয়। ......

স্যার সলিমুল্লাহ ওয়াজ ইনস্টলড এজ নওয়াব, ইট ওয়াজ বিকজ অব দি গভর্ণমেন্ট। আতিকুল্লাহর নওয়াব হবার কথা ছিল। ""

সুতরাং যারাই এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তারা ঢাকা কালেক্টরেটে গিয়ে ঠিক খবর নিয়ে আসেন। না পারলে ক্ষমা চেয়ে আপনার পোস্টটি ডিলিট করে দেন। আর প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকরে যদি আপনি না চিনেন 'শিক্ষিত বাঙ্গালী মুসলমান' আপনি অহনো হইবার পারেন নাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ দুপুর ২:৩৮
৪০টি মন্তব্য ৪৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুই হাজার বছরের এক খেলা কীভাবে জমিদারি হয়ে উঠল

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯



১৮৮৩ সালের ৩১ মার্চ, লন্ডনের কেনিংটন ওভাল। এফএ কাপের ফাইনাল।

এক দলের নাম ওল্ড এটোনিয়ানস। ইটন কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের দল। ওইদিন মাঠে নামা এগারোজনের ভেতর ছিলেন একজন ব্যারনেট, একজন ল্যাটিন ভাষার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×