somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডলফিন, নীলতিমি ও একটি থিসিস পেপার

১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(১)
ভেজা বারান্দায় দৌড়ানো সহজ কথা নয়। সেটাই করতে হচ্ছে শুভকে। এমনিতেই পাঁচ মিনিট দেরী হয়ে গেছে।থিসিস পেপারটা শুভ স্যার কে দেখাতে পারবে তো? এমনিতেই রশিদ স্যার যে রাগী!

এসব ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল শুভ। হঠাৎ পা পিছলে গেল।কিছুটা স্পীডেই দৌড়াচ্ছিল শুভ।তাই পড়ে গিয়ে ভাল ব্যথা পেল সে।কাপড়চোপড় আগেই ভিজে গিয়েছিল। এখন আরো খারাপ হল কাপড়ের অবস্থা। যাই হোক শুভ একটু ঠিক হয়ে নিক।এই সুযোগে আপনাদের সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দেই।

শুভ ক্লাসের লাস্টবয়।পরীক্ষাতে ফেল করা সে মোটামুটি একটা নিয়মে পরিণত করেছে। প্রতিদিন সে ২/১ টা আছাড় খাবেই খাবে।আজকে অবশ্য এটাই তার ১ম আছাড়।নদী ও সমুদ্রের পানি শোধন নিয়ে তার একটা প্লান আছে। সেটাকে সে থিসিস বলে।কিন্তু কেউ এর গুরুত্ব দেয় না।বলে ইউনিভার্সিটিতে না পড়লে থিসিস লেখা যায় না।

(২)

রশিদ স্যারের রুম থেকে যখন বের হল শুভ তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। শুভর মুখটা অন্ধকার। ‘গোবেট’, ‘গাধা’, ‘ইচড়েপাকা’ ইথাদি অনেক কথাই শু্নতে হয়েছে তাকে। পরীক্ষায় দশ বিষয়ের ছয়টিতেই ফেল করেছে সে। ‘থিসিস’ দেখা তো দূরের কথা স্যার উল্টো রশিদ স্যার ওকে ওর পরীক্ষার খাতাগুলো দেখিয়েছে আর বলেছে ‘স্কুলের পরীক্ষাতে পাশ করতে পার না আর ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের মত থিসিস লেখো? কালকের মধ্যে তোমার বাবা মাকে ডেকে আনবা।নইলে তোমাকে স্কুল হতে বের করে দিব’।
শুভ গ্রামের ছেলে। মন খারাপ করে গ্রামের দিকে রওনা হল সে।


(৩)
নদীটা পেরুলেই গ্রাম। রাত অনেক হয়ে গেছে।নদী পারুবার জন্য নৌকা পেতে ভালই সময় লাগল ।অঘটনটা ঘটল ওই পাড়ের কাছে যেয়ে।

কোন কিছুর সাথে ধাক্কা লেগে নৌকাটা দুলে উঠল ভীষণভাবে।অনেকেই পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। কিন্তু শুভর শেষ রক্ষা হল না।থিসিসপেপার সহ শুভ পড়ে গেল নৌকা থেকে। হাত থেকে পড়ে গেল থিসিস পেপারটি। কিন্তু শুভর হাতে রয়ে গেল এর শেষ দুটি পৃষ্ঠা।

(৪)
থিসিসটা উদ্ধার না করে নদী হতে ওঠার কোন কোন ইচ্ছা ছিল না শুভর।কিন্তু মাঝি ভাই নদীতে নেমে এক রকম জোর করেই তাকে উপরে তুলল আর বাসায় দিয়ে আসলো।

পরীক্ষার রেজাল্ট শুনে বাসায় ছোটখাটো একটা তোলপাড় হয়ে গেল। অন্য কেউ হলে পানিতে পড়ার কারণে কিছুটা সহানুভূতি হয়ত পেত। কিন্তু শুভর জন্য আছাড় খাওয়া, পানিতে পড়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়।প্রচুর পরিমাণ বকা খাওয়া সত্ত্বেও যখন ঘুমাতে গেল সে সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ল। কারণ থিসিসের কাজ করতে গিয়ে গত কয়েক রাত ঘুম হয়নি বললেই চলে।

(৫)
একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙল শুভর।সে যেখনে নদীতে পড়েছিল ঠিক সেখানে একটা ডলফিন। ডলফিনটা যেন তাকে ডাকছে।ঘুম ভেঙে গেল শুভর। সে যেন একটা নতুন আশা দেখতে পেল।

(৬)
মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে শুভ দৌড় লাগালো নদীর দিকে।কিন্তু কোন ডলফিন সে দেখতে পেল না। হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে আসল সে।




(৭)
স্কুল থেকে শুভকে ৩ মাস সময় দিল। এতদিন বাসায় বসে পড়ালেখা করে পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।বাসায় বসে পড়ালেখা করার অনেক চেশটা করছে সে।কিন্তু কোন পড়াই মাথায় ঢোকে না তার।মাথায় শুধু নদী- সমুদ্র আর থিসিস পেপার। আর প্রতিদিন সেই একই স্বপ্ন। ডলফিন।প্রতিদিন সকালে সে ছুটে যায় নদীর তীরে।কিন্তু কোন ডলফিন সে দেখে না। এভাবে কেটে গেল তিনটি মাস।হঠাৎ এক সকালে দেখা হয়ে গেল তার ডলফিনের সাথে।
(৮)
ডলফিনকে শুভ জিজ্ঞেস করল, তার থিসিস পেপারের কথা সে জানে কিনা। ডলফিন বলল আমার সাথে চল সাগরের নীচে নীলতিমির দেশ নীলপুরীতে।সেখানে তোমার থিসিস পেপার তুমি ফেরত পাবে।

(৯)
নীলতিমির দেশটা অদ্ভুত।সমুদ্রের নীচে অনেক পাহাড়।পাহাড়ের চূড়োতে-ঢালে –পাদদেশে নীলতিমিদের বাসা।পাহাড়গুলোর পাশে সমতল ভূমিতে নীলতিমিদের ইউনিভার্সিটি।সেখানে চশমা পড়া অনেক নীলতিমি লেখাপড়া করে।

ডলফিন শুভকে নিয়ে গেল ছোট্ট নীল তিমি নিলুর বাসায়।নীলুও ইউনিভার্সিটির ছাত্র।ডলফিন বলল আজ নীলুর বাসায় থাক।কাল তোমাকে নিয়ে যাব প্রফেসরের কাছে।তার কাছে আছে তোমার থিসিস পেপার।

নীলুর সাথে ভারী ভাব হয়ে গেল শুভর।নীলু সমুদ্রবিদ্যার ছাত্র।নীলু আর শুভ অনেক কথা বলল।নীলুর কাছ থেকে সমুদ্রবিদ্যার অনেক কিছু শিখল শুভ।

(১০)
দুরুদুরু বুকে প্রফেসরের রুমে ঢুকল শুভ। প্রফেসর সাহেব শুভকে অনেক সন্মান দিলেন। আপ্যায়ন করলেন নিম্ফু ফলের জুস দিয়ে। তারপর নিয়ে গেলেন ল্যাবরেটরিতে।সেখানে এক বিশাল মেশিন দেখতে পেল শুভ।প্রফেসর তাকে বললেন তোমার থিসিসটা আমরা পেয়েছি। সে অনুযায়ী পানি শোধনের এই মেশিন আমরা বসিয়েছি। কিন্তু তোমার থিসিসের শেষ দুটি পৃষ্ঠা ছিল না। তাই আমরা এই মেশিন অন করতে পারছি না।

শুভ মেশিনটা অন করে দিল। আর দেখতে দেখতে পৃথিবীর সব দূষিত পানি শোধিত হয়ে গেল।

পরিশিষ্ট

শুভর বাবা মা – রশিদ স্যার – মাঝি ভাই সবাই জানে শুভ পানিতে পড়ে মারা গেছে।আসলে শুভ এখন থাকে নীলপুরীতে।নীলুর সাথে সমুদ্রবিদ্যা পড়ে নীলপুর ভার্সিটিতে।ছুটির দিনগুলোতে বাচ্চাতিমিদের পড়ালেখা করায় সে। এভাবেই তার দিন কেটে যাচ্ছে আনন্দে
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৮:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×