somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেকে বলে- ইবাদতের কোন উদ্দেশ্য নাই! আসলেই কি তাই?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকেই বিশেষ করে নাস্তিকরা মনে করে বা বলে থাকে, ইবাদতের কোন purpose বা উদ্দেশ্য নাই। আর তাই তারা প্রায়ই প্রশ্ন করে-
এই ধরনের উদ্দেশ্যহীন কাজ করার জন্য কেন নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং তা ঠিকমত না করলে কেন শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর দেবার আগে প্রথমেই বলে রাখছি যে, আমি যুক্তি-তর্ক বাগীশ বা পন্ডিত ব্যক্তি নই। তাই তর্কের খাতিরে তর্ক নয়, বরং আমি যৎসামান্য যতটুকু জানি ও বুঝি তার মাধ্যমে মত বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করছি।

উত্তর - অর্জন বিহীন জীবন অন্ধকার সম। একজন সাচ্চা নাস্তিককে যেমন নাস্তিকতা অর্জন করতে হয়। তেমনি একজন খাঁটি ধার্মিককেও সব কিছু জেনে বুঝে তা অর্জন করতে হয়। জ্ঞান অর্জন ছাড়া দৃটো পথই সমান। আর একজন আস্তিকের ক্ষেত্রে এই জ্ঞান অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ইবাদত। (ইবাদতের কোন purpose বা উদ্দশ্যে নাই) - এ কথাটা যত বড় পন্ডিতই বলুক না কেন তা মোটেই সঠিক নয়। ইবাদতের purpose (উদ্দেশ্য) হলো:- স্রষ্টার আনুগত্য করার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন এবং সেই সঙ্গে শান্তি প্রাপ্তি ও কল্যাণ সাধন । পূর্ণ ঈমান ছাড়া ইবাদতের এই purpose (উদ্দেশ্য) বোঝা সম্ভব নয়। মহান স্রষ্টা এক আল্লাহতায়ালার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন, ভরসা করা ও সম্পূর্ণরূপে নিজেকে সমর্পণ করাই হলো ঈমানের মূল ভিত্তি। তাই শুধুমাত্র যুক্তি নয়, বরং জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেকের সহায়তায় আপনাকে প্রথমতঃ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে যে, এই মহাবিশ্বের অবশ্যই একজন স্রষ্টা আছেন এবং যিনি মানুষেরও স্রষ্টা। এটি ঈমানের মূল অংশ। এরপর আপনাকে ঈমানের বাকী অংশগুলোকে জানার ও বোঝার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। তাহলেই আপনি পূর্ণ ঈমানদার হওয়ার সাথে সাথে ইবাদতের purpose অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন, ইনশাল্লাহ্। যেহেতু ঈমান ও ইবাদতের সম্পর্ক সরাসরি আত্মার সাথে। সুতরাং শুধুমাত্র যুক্তির উপর নির্ভর করে এগুলোর নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। তবে আল্লাহতায়ালার হেদায়েত পেলে দেখবেন যে, ঈমানের ছোঁয়ায় আপনি অবর্ণনীয় এক আত্মিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠছেন। এর ফলে অন্তরে এমন বোধ ও যুক্তির উদয় হচ্ছে যা ধীরে ধীরে আপনার বিশ্বাসকে অনেক অনেক শক্ত ও পোক্ত করে দিচ্ছে।

একজন ছাত্র স্কুলে ভর্তি হবার কিছুদিনের মধ্যেই স্কুলের নিয়ম-কানুন শিখে ফেলে। এরপর থেকে তাকে সেই সব নিয়ম যথাসম্ভব মেনে চলতে হয়। যেমন শিক্ষক ক্লাশ নেবার সময় ছাত্রদেরকে মন দিয়ে চুপ করে তা শুনতে ও বোঝার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু কোন ছাত্র যদি সে সময় অনবরত কথা বলতে থাকে ও বুঝিয়ে চুপ করতে বলার পরও একই কাজ করতে থাকে তাহলে তো তাকে বকুনি খেতে বা শাস্তি পেতে হবে। এখন কোন নিয়ম ভঙ্গকারী ছাত্র যদি পাল্টা প্রশ্ন করে- স্কুলের নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করলে শাস্তি দেয়া হবে কেন? তখন এই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর কি হতে পারে? আপনিই ভেবে দেখুন। তেমনি মহান আল্লাহতায়ালা, তাঁর প্রেরিত নবী-রসূল ও কিতাবের উপর যখন আমরা ঈমান আনব তখন তো সেই কিতাব ও নবী-রসূলের শিক্ষা ও বিধি-বিধান আমাদেরকে মেনে চলতেই হবে। আর এগুলো মেনে চলাই হলো ইবাদত। ঈমান আনার পর অহংকার বশত বা ইচ্ছাকৃত এগুলো অবহেলা করলে তো শাস্তি পেতেই হবে।

এবার ইবাদত সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই-
ইবাদতের পূর্ণতা প্রাপ্তি নির্ভর করে দুই ধরণের হক আদায়ের উপর-
১/ হক্কুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার হক আদায়।
২/ হক্কুল-ইবাদ অর্থাৎ বান্দার হক আদায়।

দেখা যায় যে, ২ নম্বর হক আদায়ের প্রতি নাস্তিকদের সাধারনত কোন আপত্তি থাকে না। তাদের এই মানবিক গুণটিকে আমি খুবই শ্রদ্ধার চোখে দেখি।

তবে যারা আস্তিক ও নাস্তিক এই দুটোর মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে তারা সাধারনত সঠিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে এবং কর্মের ক্ষেত্রেও ভাল ও মন্দের মাঝে তালগোল পাকিয়ে ফেলে।

অপরদিকে একজন খাঁটি আস্তিককে কিন্তু (১নং ও ২নং) উভয় প্রকার হক আদায়ের প্রতিই যত্নবান হতে হয়। কারণ এ দুটোর যে কোন একটিকে অবহেলা করলে সে বিপথগামী হতে বাধ্য। নামে থাকলেও প্রকৃত অর্থে তখন সে আর মুসলমান থাকতে পারে না।

তাই প্রকৃত মুসলমান হতে হলে যে কাজগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে তা হলো-

১/ ঈমান (অর্থাৎ মহান স্রষ্টা এক আল্লাহতায়ালা, তাঁর ফেরেশতাগণ, প্রেরিত নবী-রসূলগণ, আসমানী কিতাব সমূহ ও পরকালে বিশ্বাস) আনার পাশাপাশি নামাজ, যাকাত, রোজা ও হজ আদায় করতে হবে ।
২/ সেই সাথে আল-কোরআন ও রসূলের (সাঃ) শিক্ষা ও বিধি-বিধান অনুসারে বান্দার (পিতামাতা, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, গৃহকর্মী, এতিম, মিসকীন, ভিক্ষুক, মেহমান, শত্রু ইত্যাদির) হক আদায় করতে হবে এবং প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি কাজকর্ম এমনভাবে সমাধা করতে হবে যেন এর মাধ্যমে সৃষ্টিকুলের সামগ্রিক কল্যাণ ছাড়া অকল্যাণ বা ক্ষতির কারণ না হয়।

২নং কর্তব্যটি একজন নাস্তিক তার নিজের পছন্দ মত যে কোন পন্থায় পালন করতে পারে। একজন প্রকৃত মুসলমান কিন্তু আল-কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন পন্থায় এটি পালন করলে তা আর ইবাদত হিসেবে গন্য হবে না। বরং এর জন্য তাকে ইহকাল / পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে। যেমন একজন নাস্তিক যদি মদের ব্যবসা করে এবং তার লাভের কিছু অংশ অসুস্থ মানুষের সেবায় খরচ করে, তবে সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু একজন মুসলমান এরূপ কাজ করলে তাকে অবশ্যই দোষী সাব্যস্ত করা হবে এবং ইহকালে / পরকালে শাস্তি পেতে হবে। কোনভাবেই বাঁকা পথে নয়, আল-কোরআন ও সুন্নাহর প্রদর্শিত পথে থেকে ন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে সাধ্যমত সৃষ্টিকুলের কল্যাণে খরচ করতে হবে। আর এভাবে চলতে পারলে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই ইবাদত হিসেবে গন্য হবে বলে প্রকৃত মুসলমানগণ বিশ্বাস করে।

ইহকালে একজন নাস্তিক / আস্তিক সৎ কর্মের জন্য পুরষ্কৃত হতে পারে এবং অসৎ কর্মের জন্য ধরা পড়লে আইনের মাধ্যমে তার বিচার ও শাস্তি হতে পারে অথবা আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেঁচেও যেতে পারে। যেহেতু নাস্তিকদের মধ্যে পরকালে সৎ কর্মের জন্য পুরষ্কৃত হবার বাসনা বা অসৎ কর্মের জন্য জবাবদিহিতার বা শাস্তি ভোগের ভয় থাকেনা। তাই সে পৃথিবীটাকেই সকল প্রাপ্তি বা অপ্রাপ্তির সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ভাবতে শেখে। যুক্তির মাধ্যমে নিজেকে কোন অসৎ কর্মের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলেই সে নির্দিধায় তা চালিয়ে যায়। পূর্ণ ঈমানদার নয় এরূপ কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রায়শই একই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বিশেষ করে এমন কিছু ব্যক্তি আছে যারা নিজেদেরকে ইসলাম অর্থাৎ শান্তির অনুসারী হিসেবে দাবি করে, কিন্তু ২নং হক আদায়ের প্রতি তারা মোটেই যত্নশীল না। ঈমানের ঘাটতি থাকায় নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা দেয়ার কারণে নুতন ইজমের উদ্ভব ঘটে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তা অন্ধভাবে এর অনুসরণ করতে শুরু করে তখন শান্তি বিনষ্টকারী ফেতনা-ফাসাদ ঘটতে দেখা যায়। রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যও এই অন্ধ-অনুসারীদেরকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ইহকালে সৎ কর্মের জন্য পুরষ্কার না মিললেও বা পাপ কর্মের শাস্তি থেকে রেহাই পেলেও একজন প্রকৃত মুসলমানের অন্তরে কিন্তু পরকালে পুরষ্কৃত হবার বাসনা বা শাস্তি ভোগের ভয় থাকে। তাই হঠাৎ কোন পাপ কর্মে জড়িয়ে পড়ার পর একজন মুসলমানের জন্য একটি পথই খোলা থাকে। আর তা হলো- যত দ্রুত সম্ভব পাপ কর্মটির জন্য খাঁটি অন্তরে তওবা করে আল্লাহতায়ালার নির্দেশিত পথে ফিরে আসা। এক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালার বিধানের বিরোধী বা বহির্ভূত কোন যুক্তি প্রদর্শনের কোন অবকাশ নেই।

বিঃদ্রঃ - লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য ও সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করা হবে। অপ্রাসঙ্গিক কোন মন্তব্য মুছে ফেলা হবে এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পেশ করলে প্রয়োজনে ব্লক করতে বাধ্য হব।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:৩৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×