somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ব্ল্যাকহোল" সম্পর্কে নিখুঁত তথ্যগুলো আল-কোরআনে কিভাবে এলো?- তা সত্যিই ভাবায়

২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ব্ল্যাকহোল" সম্পর্কে নিখুঁত তথ্যগুলো আল-কোরআনে কিভাবে এলো?- তা সত্যিই ভাবায়
মহাজগতের অসীম বিস্তৃতিতে আবিষ্কৃত এক বিষ্ময়কর নাম "ব্ল্যাকহোল"। বাংলায় বলা হয় "কৃষ্ঞগহ্বর"। যে নামেই ডাকা হোক না কেন- বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়েই এটির আসল পরিচয় ফুটে ওঠে। আল-কোরআনে সরাসরি এটির নাম উল্লেখ করা হয়নি বটে। কিন্তু স্বয়ং স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এমন একটি বিশেষ সৃষ্টি সম্পর্কে শপৎ করেছেন এবং এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন যার সাথে "ব্ল্যাকহোল" বা "কৃষ্ঞগহ্বর"-এর বৈশিষ্ট্যের মিল দেখলে সত্যিই বিস্মিত হতে হয়। সর্বাধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি “হাবল টেলিস্কোপ”- এর সহায়তায় মহাকাশের যে সমস্ত চমকপ্রদ তথ্য উদঘাটিত হচ্ছে সেগুলোর সাথে প্রায় ১৪৫০ বছর পূর্বে নাযিলকৃত আল-কোরআনে প্রদত্ত বিজ্ঞান বিষয়ক ঐশী তথ্যগুলোর যে অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষকে ভাবিত ও অভিভূত না করে পারে না। “পবিত্র কোরআনে” মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ইংগিতের সাথে এগুলোর সমন্বয় সৃষ্টির সাথে সাথে আমার নিজস্ব কিছু বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশই এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। প্রকৃত খবর মহাজ্ঞানী মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন।

বর্তমানে মহাকাশে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত আবিষকৃত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যাদির আলোকে এ বিষয়ে অতি সংক্ষেপে ধারণা দেয়া হলো-

Black holes can be divided into several size categories:
Supermassive black hole-
Intermediate-mass black holes
Stellar-mass black holes
Micro black holes

*দৈনিক ইনকিলাব- ৬ মে ১৯৯৮ইং-(পৃথিবী পাশে বিরাট ব্ল্যাকহোল-এর সন্ধান লাভ) - রয়টারস- গত ১৪ মে নাসা জানায়, হাবল মহাশুন্য টেলিস্কোপ বিশাল সেন্টারাস তারকাপুঞ্জের মাঝখানে একটি ব্ল্যাকহোল-এর ছবি তুলেছে। পৃথিবী থেকে এক কোটি আলোকবর্ষ দূরে ব্ল্যাকহোল - এ এক অভূতপূর্ব ছবিতে তারকা জন্মের এক ভয়ঙ্কর অগ্নিঝড় প্রত্যক্ষ করা গেছে।

*দৈনিক ইনকিলাব- ২০ জুন ১৯৯৮ইং-(৩৭০০ আলোকবর্ষ বিস্তৃত ধূলি চাকতি আবিষকৃত) - রয়টারস - সুদূর তারকাপুঞ্জের মাঝখানে এক ব্ল্যাকহোলকে ঘিরে মহাশুন্যে বিরাট আকৃতির চক্রাকার টুপির মত একটি ধূলি চাকতি দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। গত ১৮ জুন হাবল মহাশুন্য টেলিস্কোপ থেকে এই ছবিটি প্রেরণ করা হয়। ধূলির এই চাকতি ব্যাসার্ধে প্রায় ৩৭০০ আলোকবর্ষ বিস্তৃত। এটি অতি প্রাচীনকালের তারকাপুঞ্জের সংঘর্ষজনিত ফলশ্রুতি হতে পারে। মহাশুন্য বিজ্ঞান টেলিস্কোপ ইনস্টিটিউট হাবল ছবি বিশ্লেষণ করে।তাদের মতে, এই চাকতিটি গঠিত হবার পর কয়েক কোটি বছরে এই ব্ল্যাকহোল তাকে গ্রাস করে। এই ব্ল্যাকহোল ৩০০ সূর্যের সমাহার। এটি তারকাপুঞ্জ এনজিসি ৭০৫২-এর মাঝখানে। এটি পৃথিবী থেকে ১৯ কোটি ১০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে।

এ পর্যন্ত মহাকাশ বিজ্ঞানের গবেষণায় যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে সংক্ষেপে তা হলো- যে সব তারকার ভর সৌর-ভরের ৮ গুণের কম থাকে, অন্তিমদশায় সেইসব সংকোচনশীল তারকার কেন্দ্রের ভর চন্দ্রশেখরের সীমা অর্থাৎ ১.৪ গুন সৌর-ভরের নিচে থাকে এবং সেগুলো 'শ্বেতবামন' হিসেবে স্থতি লাভ করে। যে সব তারকার ভর সৌর-ভরের ৮ গুণের বেশী থাকে, অন্তিমদশায় সেগুলো সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হতে পারে। যেসব সুপারনোভার সংকোচনশীল কেন্দ্রের ভর চন্দ্রশেখরের সীমার উপরে কিন্তু ১.৪ থেকে ৩ গুণ সৌর-ভরের মধ্যে থাকে সেগুলো 'নিউট্রন' তারায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু এগুলোর ভর যদি ৩ গুণ সৌর-ভর অপেক্ষা বেশী হয় তবে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা এবং সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্তপ্রায় 'ব্ল্যাকেহালে' পরিণত হয়।

*(কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশুমহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা) এবং (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) - থেকে সংগৃহিত তথ্য অনুসারে:- সূর্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন বেশি ভরসম্পন্ন কোন তারকা কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিস্ফোরিত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণ পদার্থ নিক্ষেপ করার ফলে নিজের ভর এর চেয়ে নিচে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু সব সময় এরকম ঘটে না। কোনও কোনও তারকা অতি ক্ষুদ্র হয়ে যায়। ফলে তাদের মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রগুলো আলোককে বাঁকিয়ে সেই তারকাতেই আবার ফিরিয়ে আনে, কোনও আলোক বা কোনও কিছুই সেখান থেকে পালাতে পারে না। এই তারকাগুলো কৃষ্ণগহ্বরে রূপান্তরিত হয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকে কণিকা উৎসর্জন হলে এর ভর ও আকার স্থির হারে হ্রাস পায়। ফলে আরও অধিক সংখ্যক কণিকার ছিদ্রপথে নির্গমন সহজ হয় এবং ক্রমবর্ধমান হারে চলতে থাকে, যতক্ষণ না কৃষ্ণগহ্বরটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত মহাবিশ্বের সমস্ত কৃষ্ণগহ্বরই এভাবে উবে যায়। এই মহাবিশ্বে হয়ত বেশ কিছু সংখ্যক অধিকতর ক্ষুদ্র কৃষ্ণগহ্বর ছড়িয়ে আছে যেগুলো তারকা চুপসে গিয়ে সৃষ্টি হয়নি। এগুলো সৃষ্টি হয়েছে উত্তপ্ত ঘন মাধ্যমের অত্যন্ত উচ্চ চাপগ্রস্ত অঞ্চল চুপসে যাওয়াতে। কোয়ান্টাম ক্রিয়া সাপেক্ষে এই “আদিম কৃষ্ণগহ্বর” গুলোর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কোন তারকা কৃষ্ণগহ্বরের খুব কাছাকাছি এলে তার নিকটতর ও দূরতর অংশে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের পার্থক্যের জন্য তারকাটি ছিন্ন হয়ে যায়। এর অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য তারকা থেকে যে সমস্ত বায়বীয় পদার্থ নির্গত হয় সবই গিয়ে পড়ে ঐ কৃষ্ণগহ্বরে। কৃষ্ণগহ্বর থেকে যা বেরিয়ে আসে সেটি কিন্তু সেখানে যা পড়ে তার থেকে পৃথক। শুধুমাত্র শক্তিটা একরূপ থাকে। কৃষ্ণগহ্বর থেকে কণিকা এবং বিকিরণ নির্গত হলে এর ভর হ্রাস পায়। ফলে এটি আরও ক্ষুদ্রতর হয় এবং কণিকাগুলো দ্রুততর গতিতে বাহিরে প্রেরিত হয়। শেষ পর্যন্ত এর ভর শুন্যে পরিণত হয়ে কৃষ্ণগহ্বরটি সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। যে বস্তুগুলো কৃষ্ণগহ্বরের ভিতরে পড়ে সেগুলো তাদের নিজস্ব ক্ষুদ্র একটি শিশু-মহাবিশ্বে চলে যায়।

আল-কোরআন-
সূরা ওয়াকিয়া -(56.Al-Waqia // The Event)-সূরা নং-৫৬, আয়াত নং-৭৫ ও ৭৬
(৫৬:৭৫)-ফালা - উক্বছিমু বিমাওয়া- ক্বি‘ইন নুজূম।
{মাওয়াকিউন -অর্থ- পতিত হওয়ার স্থান -‘কোরআনের অভিধান’-মুনির উদ্দীন আহমদ-৩৪০পৃষ্ঠা}
(৫৬:৭৫) অর্থ:- আমি শপথ করছি নক্ষত্রসমূহের পতিত হওয়ার স্থানের।
(56 : 75)=Then I swear by the place where the stars are fallen down.
(৫৬:৭৬)- অ ইন্নাহূ লাক্বাছামুল লাও তা’লামূনা ‘আজীম।
(৫৬:৭৬)- অবশ্যই এটা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।
(56 : 76)= And if you know that is mighty oath.
সূরা তাকভীর-(81.At-Takwir // The Overthrowing)-সূরা নং-৮১, আয়াত নং-১৫ ও ১৬
(৮১:১৫)- ফালা - উক্বছিমু বিল খুন্নাছিল
{খান্নাছুন -অর্থ- যেসব তারকা গোপন হয়ে যায়-‘কোরআনের অভিধান’-মুনির উদ্দীন আহমদ-১৮৪পৃষ্ঠা}
(৮১:১৫) অর্থ- আমি শপথ করি - গোপন হয়ে যাওয়া তারকা বা নক্ষত্রের,
(81 : 15)=Then I swear by the hiding stars;
(৮১:১৬)- জাওয়া- রিল কুন্নাছ।
(৮১:১৬) অর্থ-যা অদৃশ্য হয়ে প্রত্যাগমণ করে।
(81 : 16)=Which become invisible and then coming back.

আলোচনা-
আমরা বিজ্ঞানের সহায়তায় অবগত হয়েছি যে, কোন তারকা কৃষ্ণগহ্বরের খুব কাছাকাছি এলে তার নিকটতর ও দূরতর অংশে মহাকর্ষীয় আকর্ষণের পার্থক্যের জন্য তারকাটি ছিন্ন হয়ে যায়। এর অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য তারকা থেকে যে সমস্ত বায়বীয় পদার্থ নির্গত হয় সবই গিয়ে পড়ে ঐ কৃষ্ণগহ্বরে। সুতরাং আল-কোরআনের (৫৬:৭৫) নং আয়াতে নক্ষত্রসমূহের পতিত হওয়ার স্থান বলতে যে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর -কেই বোঝান হয়েছে তা সহজেই বুঝে নেয়া যায়। এরপর আবর (৫৬:৭৬) নং আয়াতে যেহেতু কৃষ্ণগহ্বরের বৈশিষ্ট্যধারী স্থান অর্থাৎ নক্ষত্রসমূহের পতিত হওয়ার স্থানকে নিয়ে মহাশপথ করা হয়েছে। সুতরাং ‘আদিম কৃষ্ণগহবরগুলো’ অল্লাহতায়ালার আদেশে অনেক আগেই সৃষ্টি হয়ে গেছে। (৮১:১৫) নং আয়াতে প্রদত্ত বক্তব্যে (খান্নাছুন -অর্থ- যেসব তারকা গোপন হয়ে যায়) সম্ভবত দুটি বিষয়ের প্রতি ইংগিত দেয়া হয়েছে:- প্রথমত কোন নক্ষত্র যখন (নব) কৃষ্ণগহ্বরে রূপান্তরিত হয় তখন তা থেকে বিপরীত কনিকা উৎসর্জনের ফলে এর ভর হ্রাস পায় এবং অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে ক্ষুদ্রতর অবস্থায় বিরাজ করে অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় বা গোপন হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত কোন নক্ষত্র কৃষ্ণগহ্বরের আওতায় এলে তা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং এর সমূদয় পদার্থ সহ নক্ষত্রটি কৃষ্ণগহ্বরে পতিত হয়। ফলে এটিও দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় অর্থাৎ গোপন হয়ে যায়। (৮১:১৬) নং আয়াতে সম্ভবত এই ইংগিত দেয়া হয়েছে যে, যেহেতু কৃষ্ণগহ্বর থেকে কণিকা নির্গমনের ফলে অবশেষে এর ভর শুন্য হয়ে যায় অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে যায় বা এর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়। সুতরাং যে নক্ষত্রটি (সূর্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি ভরসম্পন্ন) কৃষ্ণগহবরে রূপান্তরিত হয় এবং যে নক্ষত্রটি কৃষ্ণগহবরে পতিত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, এরা উভয়েই অবশেষে অদৃশ্য শক্তিরূপে এই মহাবিশ্বের কোন অজ্ঞাত অঞ্চলে (তথাকথিত শিশু-মহাবিশ্বে) প্রত্যাগমণ করে ( to return back)|

যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাকাশে ব্ল্যাকহোলের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তা হলো এটির প্রচন্ডতম ধ্বংসাত্মক আকর্ষণ ক্ষমতা। কারণ এগুলো এতই সংকুচিত হয়ে ক্ষুদ্রতর অবস্থায় থাকে যে এদের অবস্থান নির্ণয় করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এদের প্রচন্ডতম আকর্ষণ ক্ষমতার আওতায় আসা ধ্বংসপ্রাপ্ত নক্ষত্রগুলোর ছিন্ন ভিন্ন দশা ও পতন প্রবাহ দেখে পতনমুখি স্থানে আকর্ষণকারী কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি নির্ণয় করা সহজ হয়। আল-কোরআনে এই তথ্যটিও উল্লেখিত হয়েছে-

আল-কোরআন-
সূরা নাযিয়াত -(79.An-Naziat // Those Who Drag Forth)-সূরা নং-৭৯,আয়াত নং-১, ২ ও ৩
(৭৯:১)- অন্না-যি‘আ-তি গ্বারক্বাওঁ
{এখানে (নাযিআতি) শব্দটি (নাযউ’ন) থেকে উদ্ভুত, অর্থাৎ কোন কিছুকে উৎপাটন করা(গারক্বান) ও (আগারাকান) এর অর্থ কোন কাজ নির্মমভাবে করা -“পবিত্র কোরআনুল করীম”-(বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর)-মূল:-“তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন” -১৪৩৪ পৃষ্ঠা--।
{নাযউ’ন = (অর্থ) উৎপাটন করা, নামিয়ে আনা, পদচ্যুত করা ইত্যাদি -‘আল-কাওসার’-(আরবী বাংলা অভিধান)-মদীনা পাবলিকেশন্স। }
(৭৯:১) অর্থ- শপথ তাদের, যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে বা পদচ্যুত করে বা নামিয়ে আনে।
(79 : 1)= By those who extract or dismissed or bring down severely/vehemently,
(৭৯:২)- অন্না - শিত্বা-তি নাশতাওঁ ,
{এখানে, নাশতুন = (অর্থ) বন্ধন খোলা বা (মুক্ত করা) - ৩৫৬পৃষ্ঠা এবং নাশিতাতুন = (অর্থ) বাঁধন যারা খুলে দেয় - ৩৪৫পৃষ্ঠা - ‘কোরআনের অভিধান’ - মুনির উদ্দীন আহমদ।}
(৭৯:২) অর্থ:- এবং যারা বাঁধন খুলে বন্ধন মুক্ত করে দেয়।
(79 : 2)= And those who loosen the binding and then set free from all ties of the world.
৭৯:৩)- আছ্ছা-বিহা-তি ছাবহা,
[এখানে, সাবেহুন =(অর্থ) সন্তরণকারী
সা-বেহা-তুন =(অর্থ) তারকা -(আল-কাওসার)-মদীনা পাবলিকেশন্স।]
(৭৯:৩) অর্থ- শপথ, সন্তরণকারী তারকাসমূহের,
(79 : 3)=I swear by the swimming stars,

আলোচনা-
এরপূর্বে (৫৬:৭৫) নং আয়াতে নক্ষত্রসমূহের পতিত হওয়ার স্থান হিসেবে যে স্থানের ইংগিত দেয়া হয়েছিল, এবার (৭৯:১) ও (৭৯:২) নং আয়াতে এসে সেই স্থানের প্রকৃতি অর্থাৎ তা চিনবার উপায় সম্পর্কে ইংগিত দেয়া হলো। এই আয়াত দুটিতে আল্লাহতায়ালা তাঁর এমন ধরনের বিশেষ সৃষ্টিকে নিয়ে শপথ করেছেন যার সাথে ব্ল্যাকহোলগুলোর প্রচন্ড শক্তি ও ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের বর্ণনায় আমরা দেখেছি যে, ব্ল্যাকহোলগুলোই বিশালকায় কোন নক্ষত্র সহ গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সব কিছুকে তাদের আওতায় পেলে প্রচন্ড আকর্ষণে টেনে নিয়ে গতানুগতিক কক্ষপথের (৭৯:২) বাঁধন থেকে মুক্ত করে দেয় অর্থাৎ নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে (৭৯:১) পদচ্যুত বা উৎপাটন করে নির্মমভাবে নামিয়ে আনে। এর ফলে অবশেষে সেগুলো সূরা ওয়াকিয়ার (৫৬:৭৫) নং আয়াতে বর্ণিত নক্ষত্রসমূহের পতিত হওয়ার স্থান -এ পতিত হয়। বিজ্ঞানীরা যে স্থানের নাম দিয়েছেন ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে - এখানে আমি (শপথ তাদের, যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে বা পদচ্যুত করে বা নামিয়ে আনে) এবং (যারা বাঁধন খুলে বন্ধন মুক্ত করে দেয়) এই বাক্য দুটির মধ্যে 'তাদের' এবং 'যারা' এই শব্দ দুটি দ্বারা কেন ব্ল্যাকহোলকে নির্দেশ করলাম? আমরা জানি যে, প্রায় সকল ভাষায় কোন একটি শব্দের খুব কাছাকাছি বেশ কয়েকটি অর্থ হতে পারে। তবে সেই শব্দটি কোথায় কিভাবে ব্যবহৃত হলো সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

এ বিষয়টি বুঝতে হলে ৭৯ নং সূরারই ঠিক তার পরের (৭৯:৩) নং আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

দেখা যাচ্ছে (৭৯:৩) নং আয়াতে (শপথ, সন্তরণকারী তারকাসমূহের) সন্তরনকারী তারকাসমূহের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানের বর্ননায় আমরা দেখেছি যে, তারকাগুলোই পরবর্তীতে কৃষ্ণগহ্বরে রূপান্তরিত হয়।

সুতরাং এই (৭৯:৩) নং আয়াতটি থেকে নিশ্চয় এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, (৭৯:১) ও (৭৯:২) নং আয়াতে শপৎ তাদের ও যারা শব্দ দ্বারা আসলে বিশেষ কিছু তারকার দিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পূর্বে ভাবা হত যে, ব্ল্যাকহোল থেকে কোন কিছু- এমনকি আলোকও বেরিয়ে আসতে পারে না। আর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এগুলোর নাম দেয়া হয় ব্ল্যাকহোল অর্থাৎ অন্ধকার গহ্বর বা কৃষ্ণগহ্বর। কিন্তু পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের আলোকে জানা যায় যে, (কৃষ্ণগহ্বর এবং শিশু-মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা)-মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ-১২ অধ্যায় -কৃষ্ণগহ্বরগুলোকে যত কৃষ্ণবর্ণ বলে প্রচার করা হয় আসলে গহ্বরগুলো তত কৃষ্ণ নয়। কারণ কণাবাদী বলবিদ্যার অনিশ্চয়তার নীতি অনুসারে, একটি কণিকা যদি কৃষ্ণগহ্বরে থাকে তাহলে এর দ্রুতি আলোকের দ্রুতির চেয়ে বেশী হওয়া সম্ভব। এর ফলে অনেক বেশী সময় লাগলেও পরিনামে কণিকাটি কৃষ্ণগহ্বর থেকে পলায়ন করতে পারবে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো বিজ্ঞানের দেয়া নাম ‘ব্ল্যাকহোল’ সম্পর্কে ১৪৫০ বছর পূর্বে আল-কোরআনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হলেও এই "ব্ল্যাক অর্থাৎ কৃষ্ণ”- বৈশিষ্ট্যটির বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। কারণ ব্ল্যাকহোলের স্রষ্টা সর্বজ্ঞ মহান অল্লাহপাক ভালভাবেই জানেন যে, ব্ল্যাকহোলগুলো প্রকৃত অর্থে ব্ল্যাক অর্থাৎ কৃষ্ণ নয়

পবিত্র কোরআনে এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই যা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছুদিন পূর্বেও মানুষ যে সমস্ত তথ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে ছিল, জ্ঞান সাধনার ফলে তার অনেকটাই আজ সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। এভাবে অল্লাহতায়ালা বার বার প্রমাণ করে দেখান যে, আল-কোরআনে প্রদত্ত বৈজ্ঞানিক ঐশী তথ্যগুলো যেমন সত্য, ঐশী আইন-কানুনগুলোও তেমনই অকাট্য ও সত্য এবং সর্বকালেই কল্যাণকর। মহান স্রষ্টা চান, বিশ্বাসী মানুষেরা যেন এইসব ঐশী তথ্য সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণাব মধ্য দিয়ে আধুনিক আবিষ্কারগুলোকে যাঁচাই করে নিয়ে প্রকৃত সত্যের সন্ধান লাভ করতে পারে এবং আল্লাহর মহত্ব ও করুণার কথা স্মরণ করার সাথে সাথে একমাত্র তাঁরই কাছে মাথা নত করে।
বাকী অংশ পড়তে চাইলে নিচে ক্লিক করুন-
তারকা থেকে ব্ল্যাকহোলে রূপান্তর- এই তথ্যটি কিরূপে আল-কোরআনে এলো? সত্যিই অবাক লাগে!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৫০
১০৮টি মন্তব্য ৯৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৩৯



লেথাল ইঞ্জেকশন এবং ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ডের ধারায় পরিবর্তনের পথে ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা । নতুন প্রস্তাবনায় বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ বা ফায়ারিং স্কোয়াডে দণ্ড কার্যকর করার আইনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

নোভা কেন আত্মহত্যা করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৩



মেয়েটার নাম নোভা।
বিদেশে থাকে। নোভা বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার আগ্রহ নিয়ে এসেছে। কিন্তু তিন মাসের জন্য এলেও, অল্প কয়েকদিন থেকে চলে গেছে। এই দেশ তার ভালো লাগে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে বাজিয়ে দেখছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২৬



দেশের অবস্হা দেখে মনে হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা ঠিক আগের মতো শক্তিশালী নন; দেশের ইসলামিক দলগুলো এই ধরণের সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। ইসলামিক দলগুলো শেখ হাসিনার পক্ষে কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বাংলাদেশ বলছি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৮ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬



প্রিয় দেশবাসী,
কিছুদিন যাবত অত্যন্ত বেদনা নিয়ে লক্ষ্য করছি ভাস্কর্য বনাম মূর্তি নিয়ে সবাই আলোচনা করছেন সমালোচনা করছেন। কেউ ধর্মের পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ আধুনিকাতার পক্ষ নিচ্ছেন, কেউ হয়তো শিল্পমনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মায়াময়

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:২৯

এ পৃথিবীটা বড় মায়াময়!
উদাসী মায়ায় বাঁধা মানুষ তন্ময়,
অভিনিবিষ্ট হয়ে তাকায় প্রকৃতির পানে,
মায়ার ইন্দ্রজাল দেখে ছড়ানো সবখানে।

বটবৃক্ষের ছায়ায়, প্রজাপতির ডানায়,
পাখির কাকলিতে, মেঘের আনাগোনায়,
সবখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×