somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্পর্ক

০৬ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সম্পর্ক অনেকটা সমুদ্রের বেলাভূমির মতো। চিরস্থায়ী নয়। নাম থাক আর নাইবা থাক কালের ঢেউ এসে সব সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়। আবার ওপারের ডাক এলে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে একা একা পাড়ি জমাতে হয় সম্পৃক্ত আমাদের। জগতের সব সম্পর্কের নাম দেয়া যায়না। কিছু কিছু সম্পর্কের নাম দিতে গেলে অন্য অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়। অনেক সামাজিকতা উলট পালট হয়ে যায়। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া চড়ুইপাখিটি কাতরাতে কাতরাতে বিদ্যুৎ খুঁটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে। এই দৃশ্য কি এক অদ্ভুত সম্পর্কের বাঁধনে আমার মনকে মেঘলা করে দেয়।

হে আমার বিনিসুতোর বাঁধন, চলো আমাদের একযুগ একসাথে পথচলাকে সম্পর্ক নামক শব্দের ফ্রেমে বন্দি করি। সব কাঁচের দেয়াল ভাঙি। জড়িয়ে পড়ি সম্পর্কের ঠুনকো খেয়ালে।

এই তো সেদিন চোখ বরাবর প্রখর রোদ্দুর আটকাতে হাত উঁচিয়ে যখনি কপাল ঢাকছি।পরক্ষনেই আমার মুখোমুখি দাড়ায়ে তুমি।আরো একটু আমার পানে ঝুঁকে বললে তুমিই নাকি আমার ছাতা। তাহলে কি তুমি আমার রোদ বৃষ্টির ছাউনি ? আচ্ছা,আজ থেকে আমাদের সম্পর্কের নাম দিলাম "রোদ বৃষ্টির ছাউনি"।

তোমার কনুই ভাজে ভর দিয়ে নির্ভয়ে পথ চলি।আমার বাম কব্জিটা শক্ত করে ধরে রাস্তা পার করলে। তাহলে কি তুমি আমার নির্ভরতার আশ্রয় ? তবে হে, আমাদের সম্পর্কের আরেকটা নাম হতে পারে"নির্ভরতার আশ্রয়"।

শিল্পী জহির আহমদ এর "কত রাত আমার ভেসেগেছে আঁখিজলে, কত দিন আমার কেটে গেছে বিফলে" এই গানটা গুন গুন করে গাইতে প্রায়ই। আগাগোড়া কষ্টে মোড়ানো গানটা শুনলেই, তোমার তরে অদ্ভুত এক মায়া হত আমার।কোন সম্পর্কের বাধনে আমার ভিতরবাড়ি তখন দুমড়ে মুচড়ে যেত বলতে পারো? তাহলে কি আমরা পরস্পরের ব্যাথা দেখার আয়না? তাহলে আমাদের সম্পর্কের নাম হতে পারে "আয়না"।

হাটি হাটি পায়ে পায়ে তুমি আমায় আলোর সন্ধান দিয়েছো। জীবনের সুপথ, কুপথ,ঘুরপথ সবই চিনিয়েছো। আমার শৈশবে যখন শুধু হাফ প্যান্ট পরে রাস্তাঘাটে,বাড়ির উঠনে খেলতাম।তখনই তুমি আমার চোখে মুগ্ধতা খু্ঁজে পেয়েছো।।আমার চোখে আবিষ্কার করেছো তোমার তরে টান। সেই থেকে পথ চলা।তাহলে কি তুমি আমার প্রথম মুগ্ধতা? তাহলে আমাদের সন্পর্কের নাম হোক "মুগ্ধতা"।

আমার অবুঝ আবদার মেটাতে কতবার তুমি কলেজ পড়ুয়া ছাত্র হয়েছো। বয়সের ব্যবধান ঘুচিয়েছো। তাহলে কি তুমি আমার বায়না মেটানোর মেশিন? ঠিক যেন তুমি আমার "জাদুর মেশিন"।

জীবন তোমাকে নির্দয়ভাবে ঠকিয়েছে। বিবেকের দায়ে তুমি নিজেকে মৌলিক সুখ থেকে বঞ্চিত করেছো। আমি, তুমি আর উপরওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না এসব।বিশ্বাস করো, তুমি পুরোটাই মানুষ। শুধুমাএ পুরুষ নও। প্রবলভাবে আমি এই মানুষটির সান্নিধ্য চাই। তাহলে কি তুমি আমার প্রথম তৃষ্না?

তুমি বলতে আমার বিয়ের পর ব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে প্রতি সপ্তাহে আমার শশুর বাড়ি যাবে । আমার পতির সাথে বসে আমার রান্না খাওয়ার স্বপ্ন তোমার। তাহলে কি তুমি আমার অলিখিত ভবিষ্যৎ এর কান্ডারি? তবে আমদের সম্পর্কের নাম দিলাম" জীবন তরীর কান্ডারি"।

আব্বার চিরবিদায়ের সেই রাএিরে আমি হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। তুমি পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছো,আর কাঁদিস না পাগলী, আমি ও কি মরে গেছি? তাহলে কি তুমি আমার ব্যাথা লাঘবের মলম? তবে আমাদের সম্পর্কের নাম " ব্যাথা নিরাময়ের মলম"।

কোন সম্পর্কের হাতছানিতে তুমি আমায় সুখি করেছো।আমার সঙ্গি না হয়ে ছায়া হয়েছো।আমাকে আগলে রেখেছো।আমায় উপযুক্ত পাত্রস্থ করতে চেয়েছো।শুধু এই আমার টানে আমাদের দায়িত্ব নিয়েছো।তাহলে কি তুমি আমার ইহকালের অভিভাবক?

আচ্ছা,মধ্য রাতে আমার নাম্বার ওয়েটিং পেলে তুমি পাগল পাগল হতে কেন? আমার মুখ দেখলে কেনই বা তোমার ক্লান্তি দূর হত? তাহলে কি আমিই তোমার সুখ পাখি? তবে তাই, আমরা দুজন দুজনার "সুখের নীড়"।

ছেলে বন্ধুদের সাথে বাহিরে ঘুরতে বা খেতে গেলে আমার নিজেকে চোর মনে হতো।তোমার সামনে পরলে আমায় গুলি করে মারতে জানি।তাহলে কি তুমিই আমার উদ্বিগ্নতা? তাহলে সম্পর্কের নাম দিলাম "উদ্বিগ্নতা"।

আমার হুমায়ূন,মাসুদ রানা প্রিয়।তা নিয়ে তোমার কত ভয়।এসব পড়ে পড়ে আমি নাকি অসংযত সম্পর্কে জড়িয়ে যাবো।তাহলে কি তুমি আমার সংযত বাধন ছিলে?তবে তাই, আমাদের সম্পর্কের হোক "সংযত বাধন"।

এইতো সেদিন যখন আমার পাত্র, অথবা পাত্রের আমায় ঠিক পছন্দ হচ্ছিলনা।খুব আপন করে বলেলে , সব বাদ দাও।দেখতো, এই আমায় দিয়ে চলবে না তোমার? আমি সম্মতি জানালাম।সব পিছুটান মেলে ধরলে।অশ্রুভারাক্রান্ত মনে বললে। আমি নাকি তোমার কাছে ততটা ভালো থাকবো না। যতটা ভালো থাকবো দূরে থেকে তোমার কাছে থাকলে।এজন্যই কি আমায় ভালো রাখতে, আজ তুমি দূর আকাশের তারা হয়ে গেলে? তুমিই ঠিক, দেখ,আমি আজ কত্ত ভালো আছি,একটুও কাঁদি না,আমার সব অনুভুতি, কান্না তুমি নিয়ে গেছো।

হঠাৎ একটা ফোনকল আমায় নিস্তব্ধ করে দিল।সেদিন আমার আহাজারীতে একজন সাংবাদিক যখন আমাকে জিঙ্গেস করলেন,আমি তোমার কে হই? তোমার লাশের সামনে বসে বলার মতো আমাদের সম্পর্কের একটা নাম ও খুঁজে পাইনি।বলতে পারিনি আমাদের বিনিসুতোর বাধনের কথা।

তুমি কি ওপার থেকে দেখতে পাচ্ছ?আমি বান ডেকে যাওয়া বর্ষায় ভিজছি।সাথে আমার " তুমি ছাতা "নেই।আমি আজ জীবনের যাঁতাকলে পৃষ্ট।আমার "নির্ভরতার আশ্রয়" তুমি নেই।আমি বেদনায় নীল হয়ে গেলেও তা দেখার "আয়নাটা"নেই। আজ আমার ব্যাথা কমানোর "প্যানাসিয়া" সেই তুমি ঔষধটাই নেই।

জানো,আমি আর আজকাল কোন কিছুতেই মুগ্ধ হইনা।আমার আর আগের মতো ব্যাথা নেই, তৃষ্না নেই,ক্ষুধানেই। মাথার উপর ছায়া নেই।তিরিক্ষি সূর্য আমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিলেও, কেউ জানবেনা,কেউ দেখবেনা।কে জানে হয়তোবা তুমিও!!!।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:৪১
১৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×