somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'মানবিকতার অসাধারণ এক অনূভুতির সন্ধান'

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু প্রশ্ন করি....
১.কারও কন্ঠে কৃতজ্ঞতা দেখেছেন?
২. কারও চোখের তারায় 'বাবা আল্লাহ তোমার ভাল করবে' এই লেখাটা ফুটে উঠতে দেখেছেন।
৩.কোন বৃদ্ধের চোখে ছলছল করতে থাকা আনন্দ দেখেছেন?
৪.কোন শিশুর হৃদয়ে আনন্দের বাণ বয়ে যেতে দেখেছেন?

প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার আগে নিজের কিছু কথা বলা জরুরী।
আমাদের ক্যাম্পাসে সবে ৩য় বর্ষে পদার্পণ করেছি তখনকার কথা।
হঠাৎ আমাদের ক্যাম্পাসের একটা সংগঠনে রক্ত সংগ্রহ এবং ডোনেট করার দায়িত্ব পেলাম। রক্তের গ্রুপ B+। সেদিন থেকে আমি উপরোক্ত অনূভুতিগুলোর সাথে পরিচিত। কিভাবে?
একদিন ঘুমিয়ে আছি দুপুর তিনটার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এল। 'আপনি মামুন বলছেন? আমার এক ব্যাগ বি পজেটিভ রক্ত লাগবে। অন্তু ভাই আমাকে আপনার নম্বর দিয়েছে।' প্রচন্ড মেজাজ গরম হল কাঁচা ঘুমটা ভেঙে যাওয়ার দরুন। কিন্তু নিজেকে শান্ত করে বললাম, 'আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। আমি জানাচ্ছি কল দিয়ে।' তখনকার মত ঘুম শেষ। আমার ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট লিস্ট থেকে বি পজেটিভ ডোনার খুঁজতে লাগলাম। চার পাঁচজনকে ফোন দেওয়ার পর এক ব্যাগ রক্ত জোগাড় সম্ভব হল, আমার জুনিয়র ব্যাচের একটা ছেলে রক্ত দিবে।

আমি আধা ঘন্টা পর সেই অপরিচিত নম্বরে ফোন দিয়ে বললাম 'আপনার জন্য এক ব্যাগ রক্ত জোগাড় করতে পেরেছি। অমুক আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।'
তখন ঐ প্রান্তের কন্ঠে যে কৃতজ্ঞতা দেখেছি সেটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটা পাওয়া।সেদিন একজন বিপদে পড়া মায়ের মুখে শুনেছিলাম 'বাবা আল্লাহ তোমার ভাল করবে' বাক্যটি। আনন্দে কান্না করতে থাকা মায়ের কন্ঠে এই বাক্য শুনে নিজেকে মানুষ বলে মনে হয়েছিল। নিজেকে নিজে বলছিলাম মামুন দেখ তোর মত অচেনা অজানা একটা ছেলের জন্য অচেনা অজানা এক মা আল্লাহর কাছে হৃদয় থেকে দো'আ করছে। মায়ের দো'আ কখনও বৃথা যায় না। আমার এই কথাটা খুব বেশী বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছিল সেই মুহুর্তে।

হুম সেই সংঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকে উপরে প্রশ্ন করা সবগুলো অনূভুতির সাথে আমি পরিচিত। যারা সেবামূলক সংগঠনে কাজ করা কষ্ট মনে করেন তাদের সাথে আমি একমত। আমার কাছেও কষ্টই মনে হয়। এখানে নিজের বলে কিছু নেই, সব অন্যের। আমার ফ্রেন্ডরা মাঝে মাঝে জিজ্ঞাস করে কি লাভ এত খাটাখাটি করে। তখন আমি মুচকি হাসি। মনে মনে বলি দিনশেষে যখন ঘুমাতে যাই তখন সেই মায়ের দো'আর কথা স্মরণ করি আর নিজেকে একবারের জন্য হলেও মানুষ বলে মনে হয়। আর এই অনূভুতিগুলোই সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।

সংগঠনটির নাম অনির্বান। আমার ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আর্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত একটি সংগঠন। এই সংগঠন আমাকে দিয়েছে মানুষের আনন্দের সাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ। মানুষের চোখে আমার জন্য সৃষ্টি হওয়া কৃতজ্ঞতা দেখার সুযোগ। এই পাওয়াগুলোই কি যথেষ্ট নয় এক ক্ষুদ্র জীবনের সকল আনন্দকে ছাপিয়ে আত্ম তৃপ্তির মৃত্যুর জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:৪৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×