দুইটি ঘটনা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা স্মরণীয়। একেবারে ছোটবেলার কিছু কিছু স্মৃতি থাকে যা মানুষের মনে আজীবন দাগ কেঁটে রাখে। মানুষ চাইলেও ভুলতে পারে না এরকম কিছু অনুভূতি তৈরি হয় মনের অজান্তে। আমার জীবনে এরকম দু'টি স্মৃতি আছে।
.
প্রথমটি হল জীবনে প্রথম কোর'আন পড়া। একটু বিস্তারিতই বলি। তখন আমার আব্বু নৌ-বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মাদ্রাসার ছাত্র হওয়ার দরুন নিয়মিত ফযরের পর কোর'আন তিলাওয়াত করতেন। পাকিস্তানের নামকরা এক ক্বারির নিকট কোর'আন তিলাওয়াত শিখেছিলেন। আব্বুর তিলাওয়াত এত সুন্দর (মাশা-আল্লাহ) যে, প্রায় আমাদের সামনের বিল্ডিং এর বড় ভাই, আংকেলরা আমাকে জিজ্ঞাস করত," কিরে তোদের বাসায় সকালে রেডিওতে প্রতিদিন কোর'আন তিলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যায়। কে শোনে? আমি মুচকি হেসে বলতাম, "রেডিওতে না, আমার আব্বুই কোর'আন পড়ে।"
যাই হোক আমরা তিন ভাই-বোনকে আব্বু নিয়মিত আরবী বর্ণমালা, তাজবিদ শিখাতেন। আমার সাথে আমার দুই বোনের মৃদু প্রতিযোগিতা হোত সব সময়, কে আগে পড়া দিবে এই নিয়ে।
.

.
এখানে বোখারি শরীফের একটি হাদিস উল্লেখ করি , মহানবী (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ , যে আল-কোর'আন নিজে শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।"
যাই হোক এক সকালে, তখন আমার বয়স সম্ভবত ছয় বা সাত। আব্বু রুমে ঢুকেই বললেন, "আজকে মামুন কোর'আন থেকে পড়বে। ওর আমপারা আর পড়া লাগবে না। "
ঠিক সেই মুহূর্তের আনন্দটা কখনও ভুলবার নয়। যতটা না বোনদের পরাজিত করে আগে কোর'আন পড়া শুরু করার আনন্দ তারচেয়ে বেশী আলাদা একটা আনন্দ লেগেছিল, যেটা বলে বুঝানো যাবে না। আমার কোর'আন পড়ার হাতেখড়ি আমার আব্বুর কাছে। মক্তবে পড়ার সৌভাগ্য আমার হয় নি। তাই বলে মনে কোন আফসোস নেই। এখন খুব কষ্ট হয় যখন পাশের মসজিদগুলো থেকে বাচ্চাদের চিৎকার করে কোর'আন পড়ার আওয়াজ পাই না।
.
আরেকটা স্মৃতি না হয় আরেকদিন হবে......
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



