somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মামুন রেজওয়ান
আরব্য উপন্যাসের সেই মরুচারী যে সত্যান্বেষণে জীবন উৎসর্গ করে। সেই উপন্যাসের চরিত্র নিজের ভিতরে লালন পালন ও প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এই পথচলা।

Double Standard: সমস্যা শুধু ইসলাম!!

০৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা মুসলিমরা "ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্র" টার্মটা কিভাবে অনুভব করি বা এর বৈধতা অবৈধতা নিয়ে কি ধরনের মনোভাব আমাদের? এই টার্মটাই বা কাদের তৈরী? কারা এই টার্মটা চর্চা করে? মুলত বস্তুবাদী চিন্তাভাবনায় বিশ্বাসের অধিকারীরা এই টার্মটা খুব ফলাও করে হাইলাইট করে। তাদের খুব বড় একটা স্বার্থ জড়িয়ে আছে এর পিছনে। যাইহোক ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চাকারী দেশের কয়েকটা ঘটনা দেখে আসি চলুন।

যে রাস্ট্রগুলো ধর্মনিরপেক্ষ হিসাবে নিজেদেরকে মহান ভাবতে চায় তাদেরই কিছু কথা। এরা প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদেরকে তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়ে থাকে!! হা হা হা।
এরা মহান, মানবাবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এরা আমাদের আদর্শ!! আহা আহা।
বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না আপনার চোখে পানি আসতে বাধ্য। এরা কিসুন্দর শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে ইরাকে, সিরিয়ায়, গাজাতে। এরা যেন সাদা পায়রা হিসাবে এসেছে এই দুনিয়ায় শান্তির বানী নিয়ে। এরাইতো আমাদের আদর্শ। ইসলাম কি পারবে এরকম উদার হতে?

ঘটনা:-১
ঘটনাটা ২০১৭ সালের। সুইটজারল্যান্ডের এক স্কুল ১২-১৪ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের একসাথে সুইমিং ক্লাশে অংশগ্রহন করার নিয়ম চালু করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নীতি মানতে নারাজ হন তুর্কী বংশোদ্ভূত এক দম্পতি। তারা তাদের ১৪ বছর বয়সী কন্যাকে এই ক্লাশে উপস্থিত হতে দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে। কারন হিসাবে তারা বলে একই সুইমিং পুলে ছেলে মেয়ে একসাথে সুইমিং শিখা ইসলামী শিক্ষায় বৈধ নয়। স্কুল তাদেরকে এক্ষেত্রে বাধ্য করতে পারে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে বহাল থাকে উপরন্ত তুর্কী অভিভাবককে ১৬শ পাউন্ড জরিমানা করা হয়। তুর্কী দম্পতি এতে দমে না গিয়ে সুইস হাইকোর্টে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সুইস হাইকোর্টও তাদের মামলা নাকোচ করে দেন। সর্বশেষে এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে সেই দম্পতি ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটসে (ECHR) যান। ইউরোপিয়ান আদালতের বিচারকরা রায় দেন যে, অভিভাবকদের এভাবে বাধ্য করায় তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে আদালতের মতে, হস্তক্ষেপ হলেও তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে না। [১]



চিত্রর:- গুগল থেকে ডাউনলোডকৃত

ঘটনা:-২
তার কিছুদিন আগে ২০১৬তে একই রকম মামলায় জার্মান আদালতের রায়ে বলা হয়, মুসলিম কিশোরীরা ছেলেদের সাথে সাঁতারের ক্লাশ করতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে কোন অব্যাহতি পাবার অধিকার তাদের নেই। [২]

ঘটনা:- ৩
আরেকটা ঘটনা প্র্থিবীর সবচেয়ে শান্তির দেশ বলে খ্যাত এই সুইটজারল্যান্ডেরই।
২০১৬ সালে সুইটজারল্যান্ডের এক দম্পতিকে ৫০০০ সুইস ফ্রাঙ্ক জরিমানা করা হয়। কারন তাদের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ছেলে স্কুলের মহিলা শিক্ষকের সাথে হাত মেলাতে রাজি হয়নি।
একই ধারাবাহিকতায় মিউনিসিপ্যাল কমিটির সাক্ষাৎকারে বিপরীত লিঙ্গের কারও সাথে হাত না মেলানোর কারনে ২০১৮তে এক মুসলিম দম্পতির নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। [৩]

এগুলোই অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার নমুনা? এটাই যার যার ধর্ম তাকে তা পালন করতে দেওয়ার নমুনা? সাদা চামড়ার নিচের কালো রং কিভাবে বেরিয়ে আসে ইসলামের ইস্যুতে সেটা কি বোঝা খুব কষ্টকর? এটা আদৌ ধর্ম নিরপেক্ষতা নাকি ইসলাম বিদ্বেষ? তবুও আমরা নিজেকে সাদা চামড়ায় পরিনত করার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হব। তবুও আমরা সাদা চামড়ার সংষ্কৃতি নিজের মধ্যে ধারন করতে পেরে গর্ববোধ করব।

সোর্সসমূহ:-
[১]Muslim parents must send children to mixed swimming lessons, court rules, Politicio, November 1, 2017.
[২] Germany's top court rules Muslim schoolgirls must join swimming lessons, Reuters, December 8, 2016
[৩] Swiss ruling overturns Muslim pupil's handshake exception, The Wed 25 May 2016.
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:৪৭
২২টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×