
চোখ নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।
বাম চোখের নিচের পাপড়ি চুলকায়। এবং হালকা ফুলে ওঠে। এ পর্যন্ত তিনবার চোখের ডাক্তার দেখালাম। ফলাফল শূন্য। যে ক'দিন ওষুধ খাই, চোখে ড্রপ দেই এবং মলম দেই, সেক'দিন ভালো থাকি। এরপর সেই চোখের নিচের অংক চুলকায়। হালকা ফুলে ওঠে। এছাড়া ছোট লেখা পড়তে পারি না। তার জন্য চশমা আছে। চশমা পড়লে ছোট লেখা পড়তে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু চোখের নিচের অংশ চুলকায়। এবং সামান্য ফ্যলে যায়। ভালো করে খেয়াল করলে, ফোলা ভাব দেখা যায়।
মূলত ডায়বেটিস হওয়ার পর থেকেই চোখের সমস্যা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে অল্প সময় ঘুমাই। গড়ে ৫ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। কিন্তু একজন মানুষের কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এদিকে হাঁটাহাটি করা হয় না। হুহু করে ওজন বাড়ছে। এখন আমি ৮৬ কেজি। বুঝতে পারছি- ওজন কমানো দরকার, টানা এক ঘন্টা হাঁটা দরকার, চিনি খাওয়া একদম বাদ দেওয়া দরকার। খাওয়া দাওয়া কমানো দরকার। সিগারেট খাওয়াও বাদ দেওয়া দরকার। তাহলেই আমি সুস্থ হয়ে যাবো। সবই তো বুঝি। কিন্তু মানতে পারি না।
হুট করে যদি অন্ধ হয়ে যাই!
আমার দাদা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন- চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছেন না। অর্থ্যাত অন্ধ। মনে হচ্ছে আমারও দাদার মতো অবস্থা হবে। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখানো হলো। ফলাফল শূণ্য। কলকাতা গেলেন, তবুও দাদা আর চোখে দেখতে পেলেন না। ৩৫ বছরে দাদা অন্ধ হলেন। বাকি জীবন অন্ধ হয়ে কাটালেন। তার সঙ্গী ছিলো একটা রেডিও। সব সময় কানের কাছে রেডিও ধরে রাখতেন। দেশ বিদেশের খবর শুনতেন। মাঝে মাঝে বিকেলে পদ্মা নদীর পারে হাঁটতে বের হতেন।
দাদা জানেন না আমি দেখতে কেমন ছিলাম।
দাদা আমার চোখে মুখে হাত বুলিয়ে দিতেন। বলতেন কি রে নাক তো লম্বা হয় নাই। নখ এত বড় কেন? দাদা ছিলেন জমিদার প্রকৃতির মানুষ। তার কথা পোশাক আকাশ চালচলন একদম জমিদারদের মতোন। আমি দাদাকে নিয়ে বিকেলে হাঁটতে বের হতাম। একদিন নদীর পাড় দিয়ে হাঁটছি। বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। আকাশে মেঘ করলো। চারপাশ অন্ধকার হয়তে গেলো। আমি রাস্তা হারিয়ে ফেললাম। দাদা বললেন, ভয় নাই। আমি আছি। চল আমার সাথে। অথচ দাদা অন্ধ। কিন্তু আমাকে ঠিকই বাড়ি নিয়ে এসেছিলেন।
আমি একটা স্বপ্ন দেখলাম-
স্বপ্নটা দেখে মনটা ভীষন খারাপ হয়েছে। স্বপ্নে আমি অন্ধ হয়ে গেছি। আমার কন্যা ফারাজা আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছে। আমি মেয়ের হাত ধরে হাঁটছি। ফারাজা চারপাশের দৃশ্যের বর্ননা দিচ্ছে। এত নিখুঁত ভাবে বনর্না দিচ্ছে, আমি যেন সব দেখতে পাচ্ছি। অনুভব করতে পারছি। হঠাত আকাশে মেঘ জমেছে। ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে। ফাজ্জা বলল, বাবা আমি তো পথ হারিয়ে ফেলেছি। আমার ভয় লাগছে। আমি বললাম, ভয়ের কিছু নেই। চল আমি তোকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




