somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা জিতেছে। আমার বাসার সবাই আর্জেন্টিনা। বাচ্চা কাচ্চারা সকাল থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে বসে আছে। অপেক্ষা করছে কখন খেলা শুরু হবে। খেলা দেখতে কয়েকজন বাসায় আসবে। খেলা উপলক্ষে রাতে বাসায় রোস্ট পোলাও, গরুর মাংস, টিকিয়া, বোরহানি তৈরি করা হয়েছে। রান্না করেছে ছোট ভাইয়ের বউ। সে যখন দেখলো- আর্জেন্টিনার হেরে যাচ্ছে। সে তখন সবাইকে বলল, খেলা বিরতি চলছে, এখন সবাই খেয়ে নিন। সবাই তার দিকে প্রচন্ড রাগ নিয়ে তাকালো। ছোট ভাইয়ের বউ বলল- আমি জানি আর্জেন্টিনা হেরে গেলে কেউ রাতে খাবেন না। আমি কষ্ট করে রান্না করেছি। তাই আগেই খেয়ে নিন। আমি ছোট করে বললাম, চিন্তা নেই আজ আমরা জিতবো। জিতেই সবাই মিলে একসাথে ডিনার করিব। তুমি দেখো- ফ্রিজে কোক টোক কিছু আছে নাকি।

ফাজ্জা বাসায় নেই। সে তার নানা বাড়ি।
মেয়ে আর আমি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে খেলা দেখিব, এরকমটা ইচ্ছা ছিলো। মানুষের সব ইচ্ছা পূরন হয় না। মেয়েকে ফোন দিলাম। সে ঘুমাচ্ছে। এদিকে মা অসুস্থ মানুষ সে পর্যন্ত খেলা দেখতে চলে আসছে। যখন কোনো শিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর শিশু 'ওয়া ওয়া' করে কাঁদতে থাকে। আমি মায়ের পেট থেকে বের হয়েই বলেছি- 'আ'। আ মানে আর্জেন্টিনা। আ মানে আল্লাহ। আ মানে আওয়ামীলীগও ধরতে পারেন। গতকাল কঠিন খেলা হয়েছে। মিশর ভালো খেলেছে। তবে আর্জেন্টিনা পরিশ্রম করে জিতেছে। বিশ্ববাসী দেখেছে- আর্জেন্টিনার ম্যাজিক। মূলত আর্জেন্টিনা যোগ্য দল। খেলা যখন বিরতি চলছিলো- তখন মিশরের খেলোয়াড়েরা রেস্ট রুমে নাচ গান শুরু করে দিয়েছে। যেন তারা আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়টা হয়তো আল্লাহপাক পছন্দ করেন নাই। খেলা শেষ হয় নাই, এখনই কিসের নাচানাচি! আল্লাহ বলেছেন, হে মানুষ তোমরা মাতব্বরি করো না। নাটাই আমার হাতে।

আমি ভালো ফুটবল খেলতাম।
আমাদের এলাকায় একটা ক্লাব ছিলো- সানরাইজ স্পোটিং ক্লাব। এই ক্লাবে আমি ফুটবল খেলতাম। মাঝ মাঠের খেলোয়াড় আমি। আবার গোলকিপার হিসেবেও আমি অনেক ভালো ছিলাম। ফুটবলে সময় দিলে আমি বাংলাদেশের জাতীয় টিমে খেলার সুযোগ পেতাম। বাংলা সিনেমার নায়ক হলেও আমি ভালো করতাম। সত্য কথা বলি, মনে মনে আমার ইচ্ছা ছিলো বাংলা সিনেমার নায়ক হবো। জিন্স প্যান্ট, বড় কলারওলা লাল শার্ট আর কেডস পড়ে এফডিসি'তে ঘুরাঘুরি করতাম, কেউ ফিরেও তাকাতো না। আমি যদি ব্যবসা করতাম, ব্যবসাতে আমি ভালো করতাম। এক মেয়েকে ভীষন পছন্দ করতাম। তখন আমি মাত্র কলেজে উঠেছি। ভালো লাগার কথা মেয়েটাকে কোনোদিন বলতে পারিনি। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটাকে দেখতাম। দেবী স্বরসতীর চেয়ে মেয়েটা অনেক বেশি সুন্দর ছিলো। একদিন মেয়েটার এক লোকের সাথে বিয়ে হয়ে গেলো। মেয়েটা বউ সেজে আমার বাসার সামনে দিয়ে চলে গেলো! কি কষ্ট! কি কষ্ট! ভীষন কষ্ট পেয়েছিলাম। এতই কষ্ট পেয়েছিলাম যে, ইচ্ছা করেছিলো- খালাসির চাকরি নিয়ে সারা জীবন জাহাজে কাটিয়ে দিবো।

বর্ষাকাল চলছে। এযুগের সব কিছুর সাথে বর্ষাকালটাও বদলে গেছে।
কখন বৃষ্টি হবে, কখন রোদ উঠবে বলা যায় না। আপাতত প্রায় সারাদিনই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি বিরক্তকর। শুনেছি চট্রগ্রামে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। চট্রগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। শুনেছি জেলেরাও মাছ ধরতে পারছে না। ক'দিন ধরে আকাশ মেঘলা, ঢাকায় বৃষ্টিও হচ্ছে কিন্তু গরম কমছে না। রাতে এসি ছাড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ অপচয় আমার পছন্দ না। আসলে কোনো কিছুই অপচয় আমার পছন্দ না। ফাজ্জা বাসায় নেই, কিচ্ছু ভালো লাগে না। ফোন করলেও মেয়ে কথা বলতে চায় না। আবার দেখা করতে গেলে ভীষন খুশি হয়। বলে, বাবা ম্যাজিক দেখাও। আমি মেয়েকে ম্যাজিক দেখাই। হাতের তালুতে একটা কয়েন রাখি। হাতের মুঠি বন্ধ করি। যখন হাতের মুঠি খুলি তখন কয়েন গায়েব হয়ে যায়। বাবার ম্যাজিক দেখে কন্যা ভীষন খুশি হয়, অবাক হয়! তার চোখে মুখে বিস্ময় খেলা করে। তার বাবা দারুন ম্যাজিক জানে! বিষয়টা আমি দারুন উপভোগ করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×