
আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল। বিলিভ করেন আর নাই করেন, সাধারণ জনগণের মধ্যে যারা লীগ সাপোর্ট করে, তাদের মধ্যেও অনেকে এই বিপ্লবকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ যদি টের পেত এই বিপ্লবের পেছনে রাজাকার-জাশির হাত ছিল, তাহলে জনগণ কি এই আন্দোলনকে সমর্থন দিত? সমন্বয়কদের দুই বছর আগের গ্রহণযোগ্যতা আর বর্তমানের গ্রহণযোগ্যতা কম্পেয়ার করলেই বিষয়টা বোঝা যায়। আগে এরা লীগের ছত্রছায়ায় ছিল, বিপ্লবের সময় বুঝিয়েছে তারাই একমাত্র দেশপ্রেমিক, এখন জাশির ছত্রছায়ায় থেকে বোঝাচ্ছে পাকিস্তানই যেন তাদের মাতৃভূমি। গণভবনের লুটপাট-এসব রাজাকার জঙ্গিরাই আগে থেকে প্ল্যান করে রেখেছিলো বলে আমি মনে করি। এটা বলতে গিয়েই হঠাৎ আরেক সমন্বয়কের কথা মনে পড়ল। কারফিউ তুলে নেবার পর তিনি লাইভে এসে বেশ উত্তেজিতভাবে হাসিনার পতনের ডাক দিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দেখিনি। তিনি কি বেঁচে আছেন?
এখন আসা যাক জুলাই বিপ্লবের পরের ঘটনা নিয়ে। মাহফুজ আলম ৭ মার্চের ভাষণ ব্যান থেকে শুরু করে শেখ মুজিবের ছবি সমস্ত মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। অথচ মাহফুজ রিসেন্ট টক শোতে মুজিবের বন্দনা করতে বাধ্য হয়েছেন, এখন বলছেন "খেলা শেষ, খোদা হাফেজ।" বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আর হাসিনার বাবা বলে শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করলে, যে কোনো রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশের জনগণের কাছে শেষ পর্যন্ত দেশবিরোধী দল হিসেবেই পরিচিতি পাবে।
হাসিনা পতনের পর ইউনুসের মব পার্টি মুক্তিযুদ্ধকে যখন-যেখানে সুযোগ পেয়েছে, ছোট করে দেখানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানো, মামলা দেওয়া থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা, স্বাধীনতার ভাস্কর্যের ওপর হামলাযজ্ঞ চালানো, মাজার ভাঙ্গার উৎসব - এসব জুলাই জঙ্গিদের দেশপ্রেমের নমুনা। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে এমন কোনো সেক্টর খুঁজে পাবেন না, যেখানে জুলাই জঙ্গিরা তাদের দেশ প্রেমের ছাপ রাখে নাই।
জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে আলোচিত শহীদ হচ্ছেন হাদী। অথচ হাদী বারবার বলেছেন, ৭১ ছিল দেশবিরোধী অ্যাক্টিভিটি এবং জুলাই হয়েছে ৭১-এর ভুলকে ঠিক করার জন্য। বহু চেষ্টা করা হয়েছিল ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এই শহীদের নাম স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার, জনগণের চাপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষের অভিযোগে শাওন ও মাহিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদ মাধ্যমে এক জঙ্গি গর্ব করে বলেছে, সামনে পেলে এদের দুই পা ছিঁড়ে ফেলবে। বাংলাদেশের এসব রাজাকার জঙ্গিদের কাছে '৭১/জাতীয় সংগীতকে অসম্মান করা (সংসদে হাসনাতের অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর সন্মান জানিয়েছিলো), "বঙ্গবল্টু" বলা, স্বজন হারানোর বেদনা "CIDI NA", জিন্নাহর স্মরণসভা করা - এসবই দেশপ্রেমের নিদর্শন - এগুলা কোন ক্রিমিনাল অফেন্স না। কিন্তু "জুলাই CIDI" বললেই সেটা নাকি ক্রিমিনাল অফেন্স হয়ে যাবে। আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণের কাছে - যারা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল এখন তাদের কাছে জুলাই বিপ্লব মানেই "জুলাই CIDI"।
দিনশেষে, সরকারি উদ্যোগে "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস" চালু হলেও ১৯৭১-এর স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের মতো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিবেশ দেখা যায়নি। বরং "জুলাই বিপ্লব" না "ঝুলাই CIDI" সেই বিতর্কই বেশি চোখে পড়ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


