somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুখোশ উন্মোচনের সাক্ষী

০৬ ই নভেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যেকদিন গড়ে তিনজন করে ফিলিস্তিনবাসী বাস্তুচ্যুত হয়। Statista এর তথ্যমতে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ফিলিস্তিনি নাগরিকের আহতের সংখ্যা ৯২৫৩ জন। [চিত্রঃ-১] অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন, শুধুমাত্র বোমার আঘাত বা ইসরাইলি সৈন্য দ্বারা। এটা শুধুমাত্র কিছু সংখ্যা যা পশ্চিমা মিডিয়া এনেছে, বুঝতেই পারছেন কি পরিমান ছাকুনি পার হয়ে এই ডাটা এসেছে যাতে আমেরিকা , ইসরাইল নাখোশ না হয়। যাইহোক আপনাকে বললাম, এক বাবা আজকে তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে দাফন করতে গিয়েছেন। যে কিনা বোমার আঘাতে মারা গেছে। এই তথ্যটা আপনি জানলেন, বুঝলেন সেখানে বোমা নিক্ষেপ হচ্ছে বা কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু অনুভব কি করতে পারছেন? পারবেন? আমি বা আপনি কখনও এই ব্যাথা অনুভব করতে পারবেননা যতদিন না পর্যন্ত আপনার বাড়ি থেকে আপনাকে উচ্ছেদ করা হবে এবং আপনারই চোখের সামনে দখলদার আপনার সন্তানকে বোমা মেরে নিহত করবে। এটা আজকে থেকে নয়। এটা শুরু হয়েছে ১৯১৭ সাল থেকে। আর সেটেলমেন্টের চিত্র দেখবেন? বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের মাত্র ৬% জায়গা ইহুদিদের থাকার জন্য তৎকালিন সরকার অনুমোদন দিয়েছিল, সেই পরিমান এখন কত জানেন ৭৬%। অর্থাৎ এখন ইহুদীরা ৭৬-৭৮% স্থান তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে। [চিত্রঃ-২] বাকী যে জায়গাটুকু আছে এটাও কিন্তু ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রনে নেই। গাযা স্ট্রিপ আনুমানিক ৩৪৫-৩৫০ স্কয়ার কিলোমিটার শুধুমাত্র হামাসের নিয়ন্ত্রনে তাও চারপাশ দিয়ে অবরুদ্ধ। আর ওয়েস্ট ব্যাংক বা পশ্চিম তীর ইহুদী নিয়োজিত মাহুমুদ আব্বাসের আন্ডারে যেখানে সকল আইন চলে ইহুদীদের তথা ইজরাইলের। আপনি কিভাবে আশা করেন, একটা সম্পূর্ন দেশ প্যালেস্টাইন শত বছরের অধিক সময় ধরে শুধু নির্যাতিতই হচ্ছে, আরও স্পেসিফিকভাবে বলতে গেলে ১৯৪৮ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় ৭৫ বছর ধরে নিজের ভুমি ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যেই পবিত্র ভুমি হাজার হাজার বছর ধরে মুসলমান শাসনের আওতাধিন ছিল, সেটা এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে? যেখানে বায়তুল মুকাদ্দাস, যেখান থেকে আমাদের প্রানের নবী (সাঃ) মিরাজে গিয়েছিলেন, যেটা দখল করেছিল ওমর (রাঃ), সালাহুদ্দীন আইয়ুবি (রহঃ), যেটা ছিল উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানি খেলাফতের রাজত্বে, যেখান থেকে ইসা (আঃ) পুরো বিশ্ব জয় করবেন, শাসন করবেন।


চিত্রঃ১
আপনি এখন বসে বসে হামাসের আক্রমন করা ঠিক হয়নি, হামাসের এই স্ট্র্যাটিজি অনুসরন করা উচিৎ ছিল, রাস্ট্রীয়ভাবে আক্রমন করা দরকার ছিল বলে যে, পরামর্শ বা ফতোয়া বিতরন করছেন এটা কাকে খুশী করার জন্য? হাসপাতালে বোমা মারার পর কিভাবে আপনার মুখ দিয়ে এধরনের উপদেশ বের হয়? ২০১৮ সাল পর্যন্ত গাজা স্ট্রিপে নিহতের একটা জরিপ দেখানো হয়েছে।[চিত্রঃ-৩] এই ২০২৩ সালেই প্রায় ৬০০০+ মারা গেছে যার মধ্যে ২৭০০+ শিশু। এটা এখনও চলমান।


চিত্রঃ২
এত কথা বলছি কেন? আমি, আপনি দো’আ ছাড়া কিছুই করতে পারছিনা বা পারবনা। কিন্তু সত্যিটাতো জানা উচিৎ। আপনার সন্তানকে এটাতো বলুন যে, এই জেরুজালেম, এমনকিসামসহ ইউফ্রেটিস পর্যন্ত এমনকি পুরো বিশ্ব তোমাদের বাব দাদারা শাসন করেছিল। এই পবিত্র ভুমি প্যালেস্টাইন হাজার বছর ধরে ইসলামি শাসকের নিয়ন্ত্রনে ছিল। আপনার প্রজন্মকে সত্যটাতো বলুন। নিজেতো অন্তত অনুভব করার চেষ্টা করুন কেন আমরা সব হারালাম? কিভাবে সব ফিরে পাব? নিজেকেতো প্রস্তুত করুন। আপনি কিভাবে আশা করেন শুধুমাত্র শুক্রবারে নামায পড়া মুসলিমের হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন? ২৫-৩০ বছর ধরে এই বিজ্ঞান, সেই চারুকলা, সেই ভার্সিটিতে পড়ে হাজার ডিগ্রী অর্জন করে কোর’আন পড়তে না পারা, নিজের ইতিহাস না জানা মুসলিমদের হাতে আল্লাহ বিজয় দিবেন? কখনও না।


চিত্রঃ৩
নিচের কিছু শব্দ, স্থান, সময় যেগুলো সব প্যালেস্টাইনের সাথে কানেক্টেড।
ইবরাহীম (আঃ), ইসহাক (আঃ),কেনান (সাম), ইয়াকুব (আঃ) বা ইসরাইল (আঃ), ইউসুফ (আঃ), ইউনুস (আঃ), সোলায়মান (আঃ), মুসা (আঃ), ইউসা ইবনে নুন, আমালেকা ট্রাইব, তালুত, দাউদ (আঃ), জালুত, রোম, নেবুচাদ নিজার, ইরাকের বাবেল শহর, বনী ইসরাইল, যাইয়োনিস্ট, ঈসা (আঃ), ইসমাইল (আঃ), মক্কা, (বনু জহরুল ট্রাইব), মুহাম্মদ (সাঃ), বনু কুরাইযা, বনু নাজির, বনু কিনানা, ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) সহ পরবর্তী চার খলিফা, উমাইয়া খিলাফত, আব্বাসী খিলাফত, ওসমানি খিলাফত, ফরাসি বিপ্লব, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড-ব্যাসেল ১৮৯৭, বেলফোর ডিক্লারেশন- ১৯১৭, ১৯৪৮ (রাস্ট্র ঘোসনা) ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২৩ রাত ১১:৫৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কখনোই ধন-সম্পদের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধের কথা বলে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:০৪



আমি পুরো কুরআন পড়েছি, এবং এখন পর্যন্ত যত দূর প্রিয় নবীজীর পথ শিখেছি, তা থেকে জানি যে, ইসলাম কখনোই আক্রমণ করার কথা বলে না। ইসলামের শেষ নবী (সাঁ)-এঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম শেখানোর সুযোগ পেলে কি শিখাবেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৯:৪০








কিছুদিন আগে নানু মারা যাওয়ায় জানাযারর সময় নিয়ে সমস্যা হলো,তা ছিলো ঐ দিনই বাড়ির খুব পরিচিত মুখও ক্যান্সারে অনেক মাস যুদ্ধ করে মারা যায়।মাঠ যেহেতু একটাই,পরে ঠিক হলো সকাল ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×