গত শনিবার বিদ্যাসাগর রচনাসমগ্র পড়ছিলাম।
যত পড়েছি, ততই বিস্মিত হয়েছি। শিক্ষাপদ্ধতি বিষয়ে তার অসাধারণ চিন্তা আমাকে বাকরুদ্ধ করেছে।
একটা অজ পাড়াগাঁয়ে জন্মান লোক শিশুশিক্ষা বিষয়ক বইতে সহজ সরল ভাষায় গ্রহ-নক্ষত্রের কথা, নানা ধাতব ও অধাতব পদার্থের কথা, বিজ্ঞানীদের জীবনী লিখছে।
না, শুধু কোপারনিকাস, গ্যালিলিও বা নিউটনের কথা নয়। এমন অনেকের জীবনী তিনি আলোচনা করেছেন বর্তমান কালেও বিজ্ঞান শিক্ষার উচ্চতর বিভাগেই যাদের সম্পর্কে পড়ান হয়।
ক্যারোলাস লিনিয়াস এমনি একজন বিজ্ঞানী।
কেতাদুরস্থ পোশাকে সজ্জিত, স্মার্টফোনে অতিস্বচ্ছন্দ যুবসমাজকে যদি প্রশ্ন করা হয় জীববিদ্যায় লিনিয়াসের গুরত্ব কী?
তাহলে একটা বড় অংশই চোখে অন্ধকার দেখবে।
অথচ, 1820 সালে পরাধীন দেশের গন্ডগ্রামে জন্মান এই লোকটি কিন্তু জানতেন।
জাতিভেদ, হিন্দুয়ানি, বাঈনাচ, বাবুকালচারের ঘুণে ভরা সমাজে বড় হয়েও কী করে জানতেন তা আমার কাছেও পরম বিস্ময়।
বিস্ময় আরো বাড়ে যখন দেখি, সেই সময়ে জন্মেও শিশুদের নীতিশিক্ষার জন্য ঈশ্বরবিশ্বাস কে কোন গুরুত্বই দেননি।
বোধোদয় বইতে ঈশ্বর বিষয়ে প্রথমে একটি শব্দও লেখেননি। পরে ইংরেজ আধিকারিকদের চাপে ঈশ্বর বিষয়ে লেখেন।
তাও মাত্র সাড়ে চার লাইন !!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

