কিণ্ডারগার্টেন স্কুল। ক্লাশ ফাইভ। ছেলেটি সমাপণী পরীক্ষায় ফেল করেছে। মেয়েটি নিউ ফাইভ। ছেলেটি মেয়েটিকে ভালোবাসে। কঠিন ভালোবাসা। তার তিনজন বন্ধু নিয়ে মেয়েটিকে উত্যক্ত করে। মেয়েটি সাড়া না দেওয়ায় একদিন চড় কষায়। অত:পর ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কাটে। আর হাত কাটার পরেই ঘটনা সবার নজরে আসে। এটি মোটেও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কারণ, এই ঘটনার পরে ইশকুলে রীতিমত একটা চিরুনি অভিযান চালানো হয়। বেরিয়ে আসে একাধিক ঘটনা। ক্লাশ এইট, নাইন ও টেন এর ছেলেদের স্মার্টফোনে পর্ণোগ্রাফিক কনটেন্ট। শুধু ছাত্ররা নয়, পর্ণোগ্রাফি পাওয়া যায় ছাত্রীদের মোবাইল সেট আর ট্যাবেও। দু’জন ফিজিক্যাল অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করে। পুরো ঘটনায় ইশকুল কর্তৃপক্ষ আর অভিভাবকরা প্রবল ধাক্কা খান। যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কাউন্সিলিং, গাইডেন্স আর ছাত্রছাত্রীদের এক্টিভিটিজ মনিটরিংয়ের।
সন্তানের হাতে মোবাইল সেট, ট্যাব বা ল্যাপটপ তুলে দিচ্ছেন। প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হচ্ছে শিশুকাল থেকেই। কিন্তু সে মোবাইল সেট, ট্যাব, ল্যাপটপ কি কাজে ব্যবহার করছে পর্যবেক্ষণ করছেন কি!
ইউটিউব আর ইন্টারনেটে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের সংবাদ কতোটা আর মিডিয়ায় আসে! এই সকল ভিডিও ব্যবহার হয় ব্ল্যাকমেইলের অস্ত্র হিসেবে। মাঝে মাঝে আত্নহত্যার ঘটনাও ঘটে। আপনার সন্তান ব্ল্যাক মেইল করছে বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছে না তো! সন্তানের সাথে মিশুন, সময় দিন, এই মিশা আর সময় দেওয়ার অভাব পূরণের মতো কোনো গ্যাজেট আজও আবিষ্কার হয়নি।
স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মিচ্যুয়াল সেক্সে অভ্যস্ত হলে তাদের জন্যই শারীরিক এবং মানসিকভাবেই চরম ক্ষতিকর। অথচ নিয়ন্ত্রণহীনতা সেদিকেই যাচ্ছে। আর এই আচরণে ইন্ধন যোগাচ্ছে হিন্দি-মারাঠি ছবির রগরগে প্রেম দৃশ্য এবং পর্ণোগ্রাফি।
বেশ কিছুদিন আগে একজন শিশু সাহিত্যিক হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন পর্ণোগ্রাফি নির্মাণের অভিযোগে। পর্ণোগ্রাফি নির্মাণ এদেশে বন্ধ হয়নি, বরং বেড়েছে। এছাড়া হিডেন ক্যামের কারুকাজ তো আছেই।
প্লিজ! সোচ্চার হোন। কারণ, আপনার মেয়ে সন্তানটির মতো ছেলে সন্তানটিও নিরাপদ নয়। নিরাপদ আছেন এই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নীরব থাকবেন না। নগরে আগুন যখন লাগে তখন দেবালয়ও রক্ষা পায় না।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

