পুরো বগিতে মাত্র একটি মেয়েই এভাবেই তার মালকিনের পায়ের কাছে সীট ধরে পাটাতনে বসেছিলো। কারণ, সে কাজের মেয়ে। আমরা এমন প্রায়ই দেখি গৃহকর্মীদের কপালে দূপাল্লার একটি সীট কপালে জোটে না। টাকা মানুষের কাছে কি রক্তের ফোটা? কি অদ্ভুত! ভদ্রমহিলা তার সাথে ২১/২২ বছরের ছেলেকে নিয়ে গ্যাট হয়ে সীটে বসে আছেন পায়ের কাছে নিপীড়িত মানবতা। কিছুই বলি নাই, শুধু বলেছি ২৭১ টাকা এতোই বেশি? অথচ সাজসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে যথেষ্ট ধনী। গৃহকর্মীর সাথে কিছু বৈষম্য থাকবেই, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এতোটা কেনো?
আমাদের বাসায় যারা কাজ করে গিয়েছে তাদের সবার বাড়িতে আজ অবধি ঈদের কাপড়, আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যায়। আমার মা নিজে খরচ করে ঘটা করে তিনটা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ওরা মেয়ে না হলেও অনেকটা নিজের মেয়ের মতোই দেখতেন তিনি। আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেনি যে, কোনো মেয়ে আমাদের বাড়িতে কাজ করতে এসেছে অথচ নিজে ইচ্ছায় কাজ ছেড়ে বাড়ি যেতে চেয়েছে। আমার মা কখনও-ই ওদের প্লেটে খাবার তুলে দেননি নিজের ইচ্ছে মতো বেড়ে খায়। আমি একটা চকলেট খেলেও ভাগ করে দিই। কাপড় দেখে অনেকেই ভাবে, ওরা আমার ছোটো বোন। দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় টিভির রিমোর্ট কন্ট্রোল ওদের হাতে থাকে। এগুলো আমি গর্বের সাথেই বলতে পারি।
গৃহকর্মীদের সাথে এসব অমানুষের মতো আচরণ দেখলে আমার মাথা আওলাইয়া যায়। ছবিটি আজ কর্মস্থলে যাবার পথে ট্রেন থেকে তোলা। আমার দু’সিট সামনে ছিলেন তারা। অনুমতি নিয়ে ছবি তুলিনি বলে ক্ষমা চাই। তবে ভদ্রমহিলার ছবি ক্রপ করে দিলাম যাতে চেনা না যায়।
খুব মন খারাপ হয়েছে। মানুষ আমরা, মানুষ কেনো নই? গুরুসদয় দত্ত তো অনেক আগেই তাঁর গানে বলে গেছেন, বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ..




অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

