somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবর

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দুনিয়ার সমস্ত উত্তাপ উৎসব সমস্ত আয়োজন সাঙ্গ করে আমার শেষ আশ্রয় হয়েছিলো কুটিপাড়ার কবরস্থানের ওই শান্ত স্নিগ্ধ নরম মাটিতে।
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো।

দুনিয়ার সমস্ত হাসি-কান্না,পাপ-পূণ্য,
যুদ্ধ -সংগ্রামের দৈনন্দিন পাট চুকিয়ে কুটিপাড়ার কবরস্থানের ওই প্রগাঢ় প্রশান্তিদায়ক মাটিতে শেষ জায়গাটি হয়েছিলো আমার।
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো।

কুটিপাড়ার ওই কবরস্থানে শুয়ে আছে
শত বছর বয়সী পিতামহ-প্রপিতামহ
শুয়ে আছে সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতক
যৌবন টগবগে কত যুবক
ওদের পাশে সবার মত আমারো দিন শেষে একটা শেষ আশ্রয় ছিলো।
ঝড়-বৃষ্টি-সুনামি
রোদ-খরা-কুয়াশা যাই হোক
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো।

আমি মরে পচে গলে গেলেও সাড়ে তিন হাত মাটির ওই কবরটা শুধু মাটির ঢিবি ছিলো না
পরিবারের কাছে চার কোণা ওই কবর ছিলো অনেক আবেগের অনেক আবেশের।
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো।

আমি মরে পচে গলে গেলেও পড়ে থাকা নির্জীব হাড়গুলো আমার স্ত্রী-সন্তান,পরিজনের কাছে ভালোবাসার শেষ চিহ্ন হয়ে জেগে ছিলো
দিন শেষেতবু এই কবরটা ছিলো।

কত মুসুল্লির দোআ ও সালামে চারকোণা এই কবরটি রহমতের আলোয় আলোকিত থাকতো!
দুনিয়াতে
আমার উপস্থিতি
আমার অস্তিত্ব
আমার কর্মের শেষ স্মারক বিন্দু ছিলো কুটিপাড়ার ওই কবরস্থানটি।
কবরে শুয়ে প্রিয়জনের স্মৃতিতে আমি জীবনের মতই
বেঁচে ছিলাম
প্রাসঙ্গিক ছিলাম
অম্লান ছিলাম।
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো।

দুনিয়া স্বার্থপর জানা ছিলো
কিন্তু এতোটা নিষ্ঠুর জানা ছিলো না।
দুনিয়া অর্থ বোঝে জানা ছিলো
কিন্তু এতোটা লোভী জানা ছিলো না।

কোন এক অভিশপ্ত অমাবস্যার রাতে এই দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষগুলো আমার কবরের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিলো;
এই দুনিয়ার সবচেয়ে অবিশ্বাসী মানুষগুলো
দুটো টাকার জন্যে, দু পয়সা লাভের জন্য কবর থেকে আমার হাড়গুলো চুড়ি করে নিয়ে গেলো!
এই দুনিয়ার সবচেয়ে হৃদয়হীন মানুষগুলো
একটু ভালো থাকার জন্য, একটু স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্য মৃত হাড়গুলোকেও পাচার করলো!
আমার স্ত্রী সন্তানের
শেষ সম্বল
শেষ স্মৃতি
শেষ ভালোবাসাটুকুন এক রাতেই নাই করে দিলো!

দুনিয়া ভংগুর জানা ছিলো
কিন্তু এতোটা দেওয়লিয়া জানা ছিলো না।
দুনিয়া চোখবোজা জানা ছিলো
কিন্তু এতোটা বোধহীন জানা ছিলো না।

দুনিয়ার সমস্ত উত্তাপ উৎসব সমস্ত আয়োজন সাঙ্গ করে আমার শেষ আশ্রয় হয়েছিলো কুটিপাড়ার কবরস্থানের ওই শান্ত স্নিগ্ধ নরম মাটিতে।
দিন শেষে তবু এই কবরটা ছিলো …

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×