সেই ১৯৯৮ সালের কথা । তখন ৫ম শ্রেণিতে পড়ি ।স্কুল গ্রাম থেকে ১ কিলোমিটার দূরে । স্কুলের নিম্ন শ্রেণিতে পড়ার সময় পাড়ার অনেক সহপাঠী ছিল । সবাই দলবেধে একসাথে স্কুলে যেতাম । কিন্তু উপরের শ্রেণিতে ওঠার সাথে সাথে সহপাঠীর সংখ্যা কমে যাচ্ছিল । শেষতক ৫ম শ্রেণিতে আমরা মোটে তিনজন ছিলাম। দুজনই আবার মেয়ে। একজন চাচাত বোন, অপরজন ফুফু। চাচাত বোনটা ছিল ক্লাসের ফা্র্স্ট গার্ল। সুতরাং তাকে তমিজ করে চলতে হতো। স্কুল যাওয়া -আসার পথে ওরা থাকত কথক আর আমি ছিলাম নীরব শ্রোতা। কখনো মন্তব্য করলেও তা নীরবে অগ্রা্হ্য হতো। কতকথা বলতো ওরা। কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়বে, কবে বিয়া করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোটকাল থেকেই ও ছিল চটপটে, সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতি। হাবলা আমি কেন যেন ওতে মুগ্ধ ছিলাম। এভাবেই ৫ম শ্রেণি সমাপ্ত করলাম। ওরা ভর্তি হল হাইস্কুলে আর আমি চলে আসলাম ঢাকায়। ভর্তি হলাম মাদরাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে। প্রথম দু- তিন বছর সব ভুলেই ছিলাম। বাড়ি গেলে ওর সাথে খুব বেশি দেখাও হত না, কথাও হতো না। কেমন যেনো রক্ষণশীল প্রকৃতির ছিলাম। এভাবে প্রায় ৫ বছর কেটে গেলো। ২০০৪ সালে ও এস এস সি পরীক্ষা্র্থী, আর আমি নবম শ্রেণিতে। একদিন ওরা উঠানে দাঁড়ি্য়ে গল্প করছিলো আর হাসছিলো, ভাবলাম আমাকে নিয়ে হাসছে কারন আমি সে সময় ও দের দিকে আসছিলাম। কাছে এসে যেই বললাম ,না বুঝেই, হাসার কোন সাবজেক্ট হলো। ও ব্যঙ্গ করে আমার প্রতিত্তোর করলো। আমি লজ্জায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করলাম। আর মনে মনে প্রতিগ্ঞা করলাম কোনো দিনো আর ওর সাথে কথা বলবো না। এভাবে ২ বছর কেটে গেল। ২০০৬ সালে ও কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। আমি সবে এস এস সি দিয়ে বাড়ি এসেছি। আমি জুম্মার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ওদের গেটের সামনে দিয়ে আসার সময় ও স্বেচ্ছায় আমার ভালো মন্দ জিগগ্ঞসা করলো, পরীক্ষা কেমন হলো তা জেনে রেজাল্ট কেমন হবে তা জানলো। এভাবে অনেক দিনের দূরত্ব দূর হলো। কিছুদিন পর রেজাল্ট বের হলো ,এ+ পেলাম, এ খবর শুনে ও নাকি আশ্চর্যাম্বিত হয়েছিলো।এরপর ও প্রায়ই দেখা হলে কথা বলতো, আমিও তাই করতাম।ও পড়া লেখার গতি বাড়িয়ে দিলো ফলস্বরূপ এইচ এস সি তে ভালো রেজাল্ট করলো। আমি অনুভব করছিলাম আমি ওর প্রতি কেমন যেনো দুর্বল হচ্ছিলাম, কিন্তু তা প্রকাশের অবকাশ ছিলোনা, কারন নানাবিধ, প্রথমত আর্থিক দিক দিয়ে ওরা উন্নত, দ্বিতীয়তঃ আমি এমন কিছু হইনি যাতে ও আকৃস্ট হবে, আবার পড়া লেখার ক্ষতি হোক তা আমি কখনো চাইনি।সিদ্ধান্ত নিলাম এইচ এস সি পাশ করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই কেবল মনের কথাটা ওকে বলবো। সে মতন আমি পড়ালেখা্য় মনো্যোগ দিলাম। কিন্তু দু্র্ভাগ্য, ২০০৭ সালে যখন আমি ২য় বর্ষে তখন কোনো এক স্কুল টিচারের সাথে ওর বিবাহ হলো। ও সংসারি হলো, আর আমি হলাম বিরহী। সংবাদ শোনার সাথে সাথে আমার হৃদয়ে কেমন যেনো ঝড় বয়ে গেলো। কী আর করার আছে? বলা হলো না ওকে কত্তো ভালো বাসতাম। সত্যি বলছি ওকে এতটাই ভালোবাসতাম যে ওর মতো আজ ও কাউকে খুঁজে পেলাম না যাকে বলা যায় ''ভালোবাসি তোমায়''। অনেক খুঁজেছি, কিন্তু সাদৃশ্য খুঁজে পাই নি তাই বলাও হয়নি মনের কথা। এখনো বাড়িতে গেলে প্রায়ই ওর সাথে দেখা হয়, কথা বলা হয়না। শুধু মরমে মরমে মরি আমি না বলা দু্ঃখটার জন্য। ইচছা আছে হয়তো কোনো দিন বলেই ফেলবো 'নয়নের' নয়নে নয়ন রেখে তোকে বেষম ভালোবাসি আজ ও এবং ...নিরবধি বেসেই যাব। আর এ কথা শুনে ও হয়তো বলবে পাগল, সত্যিই তো আমি ওর জন্য আসলেই পাগল। অথবা বলাই হবেনা মনের কথাটা। ছোটবেলার চপলতা গুলো স্মৃতি হয়ে দেখা দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



