
এই সিরিজের মূল চরিত্র "হেনরি ইন্ডিয়ানা জোনস জুনিয়র" এর ভূমিকায় অভিনয় করেন আমার পছন্দের একজন অভিনেতা "হ্যারিসন ফোর্ড" (Harrison Ford)।
মুভি সিরিজের মূল চরিত্র হেনরি ইন্ডিয়ানা জোনস জুনিয়র, যার ডাক নাম "ইন্ডি"। সে পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্বের (Archaeology) একজন অধ্যাপক। অধ্যাপনার সাথে সাথে ইন্ডি একজন দুঃসাহসী ট্রেজার হান্টার। সে পৃথিবীর প্রাচীন ও রহস্যময় সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, পৌরাণিক বস্তু এবং গুপ্তধন উদ্ধারের জন্য বিপজ্জনক সব অভিযানে বের হয়। অভিযানে বের হলে তার পরনে থাকে লেদার জ্যাকেট, কোমরে ঝুলানো চাবুক আর মাথা থাকে কাউবয় হ্যাট।
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজে মোট পাঁটি সিনেমা বের হয়েছে। এছাড়া একটি টিভি সিরিজও আছে।
১। Raiders of the Lost Ark
.jpg)
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের প্রথম সিনেমা Raiders of the Lost Ark, এটি ১৯৮১ মুক্তি পায়।
সিনেমার পটভূমি ১৯৩৬ সালের। হযরত মুসা (আঃ) এর ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সিন্দুক "আর্ক অব দ্য কোভেন্যান্ট" (Ark of the Covenant) উদ্ধার করা নিয়ে সিনেমার মূল কাহিনী। হিটলারের নাৎসি বাহিনী বিশ্বাস করে, এই সিন্দুকটি যার দখলে থাকবে তার সেনাবাহিনীকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। তাই তারা এটি হন্যে হয়ে খুঁজছে। মার্কিন সরকার এই খবর পেয়ে ইন্ডিয়ানা জোন্সকে দায়িত্ব দেয় নাৎসিদের আগে যেকোনো মূল্যে সেই পবিত্র সিন্দুকটি খুঁজে বের করার জন্য।
২। Indiana Jones and the Temple of Doom
.jpg)
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের দ্বিতীয় সিনেমা Indiana Jones and the Temple of Doom, এটি ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায়।
এটি সিরিজের দ্বিতীয় কাহিনী হলেও কাহিনীর টাইম লাইন হিসেবে এটি প্রথম সিনেমার সময়ের আগে কাহিনী বা Prequel কাহিনী। এই সিনেমায় ইন্ডিয়ানা জোন্স ভারতের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে সে দেখতে পায় সেখানকার ঠগীবাহিনী যারা আসলে নিষ্ঠুর তান্ত্রিক গোষ্ঠী, তারা গ্রামের শিশুদের বন্দি করে নিয়ে গিয়ে বিশেষ একটি খনিতে শিকল দিয়ে বেঁধে কাজ করাচ্ছে। তাছাড়া ঠগীবাহিনী সেই গ্রামের একটি অতি পবিত্র অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন পাথর চুরি করে নিয়ে গেছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে সব শুনে ইন্ডিয়ানা জোন্স তাদের কথা দেয় এবং ঠগীবাহিনীকে ধ্বংষ করে দিয়ে সেই শিশুদের মুক্তকরে আনে এবং সেই অলৌকিক পাথরটিকেও গ্রামে ফিরিয়ে দেয়।
৩। Indiana Jones and the Last Crusade
.jpg)
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের তৃতীয় সিনেমা Indiana Jones and the Last Crusade, এটি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায়।
এই সিনেমায় ইন্ডিয়ানার সাথে যোগ দেন তার বাবা ড. হেনরি জোনস সিনিয়র (এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা শন কনারি)। বাবা-ছেলের এই জুটি যীশু খ্রিষ্টের শেষ নৈশভোজের পানপাত্র "Holy Grail" (যা মানুষকে অমরত্ব দেয়) খোঁজার অভিযানে নামে। নানা বিপদ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত Holy Grail এর কাছে উপস্থিত হয় সকলে।
৪। Indiana Jones and the Kingdom of the Crystal Skull
.jpg)
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের চতুর্থ সিনেমা Indiana Jones and the Kingdom of the Crystal Skull, এটি ২০০৮ সালে মুক্তি পায়।
দীর্ঘ ১৯ বছর বিরতীর পরে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার পটভূমি ছিল কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময়। এবার ইন্ডিয়ানার লড়াই হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের এজেন্টদের সাথে। দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর এক রহস্যময় ক্রিস্টাল স্কাল (স্ফটিকের খুলি) এবং এলিয়েনের অস্তিত্ব এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের এজেন্টরা পিছু লাগে। ইন্ডিয়ানা, তার ছেলে ও স্ত্রীও যোগ দেয় এই অভিযানে।
৫। Indiana Jones and the Dial of Destiny
.jpg)
ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের পঞ্চম সিনেমা Indiana Jones and the Dial of Destiny, এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পায়।
দীর্ঘ ১৫ বছর বিরতীর পরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এই সিরিজের সর্বশেষ এবং হ্যারিসন ফোর্ডের বিদায়ী সিনেমা। ৮০ বছর বয়সে হ্যারিসন ফোর্ড শেষবারের মতো ইন্ডিয়ানা জোনস চরিত্রে পর্দায় আসেন। এই সিনেমাতে বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের তৈরি একটি প্রাচীন ডায়াল বা চাকা খোঁজার লড়াই দেখানো হয়, যা দিয়ে টাইম-ট্রাভেল করা সম্ভব। আর্কিমিডিস এই ডায়ালের ক্ষমার গুরুত্ব বুঝতে পরে ইচ্ছে করেই সেটিকে দুটি টুকরো করে ভিন্ন ভিন্ন যায়গায় লুকিয়ে ফেলেন। লুকানো একটি অংশ ইন্ডিয়ানার হাতে আসে অনেক আগেই। পরে ইন্ডিয়ানা বাধ্য হয় দ্বিতীয় খন্ডটি উদ্ধার করতে।
টিভি সিরিজ

সিনেমার পাশাপাশি এই সিরিজের অধীনে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত "The Young Indiana Jones Chronicles" নামের একটি টিভি সিরিজ প্রচারিত হয়েছিল। সেই সিরিজে ইন্ডিয়ানা জোনসের ছোটবেলা এবং তরুণ বয়সের অ্যাডভেঞ্চারগুলো দেখানো হয়
তথ্যসূত্র : উইকি
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



