
প্রায়ই খায়রুল আহসান ভাইয়া আমাদের পুরোনো পোস্টগুলো পড়েন। সাথে কমেন্টগুলোও খুব খুঁটিয়ে পড়েন ভাইয়া।পুরোনো পোস্টে ভাইয়ার কমেন্টের সূত্র ধরে উত্তর দিতে গিয়ে চোখে পড়ে যায় কত শত ফেলে আসা মুখ মানে ব্লগের নিকগুলো আর সাথে কত শত স্মৃতি। আমিও মাঝে মাঝে তখন কমেন্টগুলো পড়ে চলে যাই সেই সব হাসি আনন্দ গানের ভেলায় ভেসে যাওয়া দিনগুলিতে। যদিও সে সব দিনে বন্ধু শত্রু মিত্র কোনো কিছুরই অভাব ছিলো না। সবচেয়ে যেটা ছিলো গ্রুপিং। নানা দলের সাথে নানা মতানৈক্য। হা হা যাইহোক ২০১৩ সালের এক পোস্টে গিয়ে হাজার হাজার কমেন্টের মাঝে চোখে পড়ে গেলো কিছু নিক। কেমন আছে কোথায় আছে তারা আজ?
তার আর পর নেই এই নিকের পিছে যাকে ভেবেছিলাম সে হয়ত ছিলো না। হয়তবা এটা সুলতানা আপুর নিক ছিলো। আপু একজন আর্টিস্ট ছিলো, ছিলো প্রাইমারী স্কুলের টিচার। অসাধারণ সব গল্প লিখতো। গল্প প্রতিযোগীতায় পুরষ্কারও পেয়েছিলো একবার। আমার সাথে যৌথ গল্পও আছে। ফেসবুকে ছিলো আপুটা। হয়ত এখনও আছে। তবে কোথাও আর দেখিনা তেমন। নিজেও খুব অনিয়মিত হয়ে পড়েছি।
রেজওয়ানা আলী তনিমা। এই আপুটার নিকের পাশের ছবিটা আমার কাছে এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। কিন্তু কখনও আপুকে জিগাসা করা হয়নি। কোথায় আছে কেমন আছে আপুটা জানিনা।
নিসঙ্গ গ্রহচারি এই নিকটা আমার পছন্দের ছিলো কারণ এটা আমার একটা প্রিয় সায়েন্স ফিকশনের বই।
জেন রসি । কত শত দিন রাত দুপুর সন্ধ্যা কেটেছে ভাইয়ার সাথে। গল্পে গানে হাসি তামাশায় এবং ষড়যন্ত্রে হা হা হা ।
স্বপ্নচারী গ্রানমা । ভাইয়াকে মনে পড়ে। কবিতা লিখত ভাইয়াটা। ফেসবুকেও ছিলো একটা সময়।
ঐ পোস্টে কমেন্টে এই কবিতাটা পেলাম। আমাদের সামনে এইচ এস সি থেকে ডক্টর হয়ে যাওয়া পিচ্চি ভাইয়াটা। কত শত ঝগড়া বিবাদ মনোমালিন্য তারপরেও প্রিয় হয়ে থাকা .....
আমি সাজিদ বলেছেন: এখন তুমি কোথায় আছো
কেমন আছো
পত্র দিয়ো, আপি পত্র দিয়ো…
০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০০০
লেখক বলেছেন: পত্র দেবো?
কি বলো সব আবল কথা
তাবল ভাবনা...
পত্র দেবো?
কোন ঠিকানায়?
দখল তোমার বাড়ির উঠোন
তোমার আকাশ
এক চিলতে খোলা জানলা
বদ্ধ এখন...
পেরেক ঠুকে
কফিন বাক্স যেমন থাকে
ভেতরে তার অতৃপ্ত কোনো
প্রেত্মাতা বাস..
মুখ দিয়ে তার ঝরছে আগুন
গলগলিয়ে বিষাক্ত সাপ
হলহলিয়ে আসছে ভেসে
নারে বাব্বা ভয় পাই
সেই ক্লেদাক্ততা
দূরেই থাকি
অনেক দূরে
সাত সাগর আর তেরো নদীর
ওপার হতে
পড়বে মনে.......
এই কবিতার কারণ ভাইয়াই জানে। আমিও জানি। শুধু সবার সামনে বললাম না আর কি।
ইমন কুমার । এই ভাইয়া একজন শিশু নৃত্যশিল্পী ছিলেন।
অদ্ভুত_আমি । এই ভাইয়াটও একজন শিল্পপ্রেমী।
হুপফূলফরইভার একটা সময় খুব একটিভ ছিলো। এখন মনে হয় জীবন যুদ্ধে ভুলেই গেছে এই ব্লগটাকে।
বড় বিলাই । অতি সহজ সরল ভালোমানুষ আপুটাও একদিন রাগ করে চলে গেছিলো ব্লগ ছেড়ে।
কস্কি । এই যে অতি প্রিয় মহা রসিক ফান লাভিং ভাইয়াটা একদিন কি জন্য যে রাগ করলো আমার উপর আর আসলোই না। সে যে চলে গেলো বলে গেলো না, কোথায় গেলো ফিরে এলো না, তাই আপন মনে বসে আছি কুসুম বনেতে .....
রাতুল_শাহ । এই ভাইয়াও জীবন যুদ্ধে আজ ব্যস্ত সৈনিক। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে জবে ঢুকে গেলো। তবে ভাইয়ার সাথে আমার মহা রাগের এটা স্মৃতি আছে। ফেসবুকে তার সাথে আমি লুডু খেলতে গেছিলাম। আমি কখনও বলতে গেলে হারতামই না। সেই আমি একের পর এক হারতে লাগলাম ভাইয়ার সাথে। এমন রাগ লাগছিলো। পরে অনেকবার হারার পর ভাইয়া বললো এতবার হারবার জন্য আপনাকে অভিনন্দন!! সেই রাগ আমার এখনও যায় না। মাঝেমাঝেই মনে পড়ে।
কামরুল হাসান শািহ । অনেক মজার একজন মানুষ ছিলো। কোথায় হারিয়ে গেছে জানিনা আজ।
আরমিন। খুব সুন্দর এই আপুটা মনে হয় একবার কোনো পত্রিকায় মডেল হয়েছিলো। আমি তো তাকে দেখে মুগ্ধ এবং মুগ্ধ!!
ইখতামিন । পিচ্চু এই ভাইয়াটার উপর খুব রাগ করেছিলাম আমি একবার। ভাইয়াটা মনে হয় অনেক কষ্ট পেয়েছিলো!! সেই রাগ আর এখন একেবারেই নেই। কোথায় আছে ভাইয়াটা কে জানে?
শত রুপা । খুব ভালোমানুষ এই আপুটাকে দেখলেই আমার মনে পড়তো - তোমাকেই যেন ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার ......
তন্ময়০১৩ । এই ভাইয়া কোথায় আছে আজ জানিনা। তবে ভাইয়াকে নিয়েও অনেক অনেক স্মৃতি আমার।
বৃতি অসাধারণ মেধাবী আর প্রিয় একজন মানুষ। তার নাম আর আমার নাম পাশাপাশি রাখলে অনেকেই ভাবতে পারে আমরা বোন কিনা ......
জেনারেশন সুপারস্টার একটা সময় অনেক একটিভ ছিলো ভাইয়াটা। আমার ধারনা ভাইয়াটা অনেক পুচ্চি কেউ ছিলো!
অন্ধ দাঁড়কাক কবিতা লিখতো ভাইয়া। তবে নিকের ছবিটা বড়ই অদ্ভূত ছিলো!
সায়েদা সোহেলী আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর ব্লগ আপুনি। আমি তার পেন্সিল স্কেচ করারও ট্রাই করেছিলাম। জীবন যুদ্ধে মহা ব্যস্ত আপুনিটা। আপুনির শ্বাসুড়ি নাকি তাকে দেখে বলেছিলো এক্কেবারে স্বরস্বতী দেবীর মত আপুনিটা! :
বটবৃক্ষ~ বিড়ালপ্রেমী উচ্ছল ও আমাদের সবার প্রিয় এই আপুটাও একদম হারিয়ে গেছে ব্লগ থেকে। ফেসবুকেও নীরব হয়ে গেছে। অথচ এই ব্লগের পাতায় একদিন কতই না সরব ছিলো এরা।
আজ আমি কোথাও যাবো না। কিন্তু চলে গেছে আপু। কোথায় গেছে জানা নেই ....
অদৃশ্য । কবিতা লেখা ভাইয়াটা অদৃশ্য হয়ে গেছে।
তোমাদের কি একটাবারও মনে পড়ে না!! এই ব্লগটাকে!!! যেখানে একটা সময় কত শত কলরব তুলেছিলে তোমরা সবাই ........ যাইহোক এই ব্লগ আজ প্রায় জনশূন্য। তবুও দু একজন মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে যায় আজও। তারা পড়বে কি পড়বে না এই লেখা জানিনা। তবে যে দু'চারজন আজও একটিভ আছেন তাদের জন্য আমার এই লেখাটা। অনেকদিন যাবৎ কোননো জ্ঞানগর্ভ লেখা দেওয়া হয়নি। করুণাধারা আপুনি বলে আমি নাকি অনেক ফাঁকিবাজ হয়ে গেছি তাই ভাবলাম এই লেখাটা রেখে দেই ব্লগের পাতায় ......
যদি জানতেন আমার কিসের ব্যথা- সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার

আমি সব সময় আনন্দে থাকতে চেয়েছি। জাগতিক দুঃখ, বেদনা, কষ্ট এসব কিছু দূরে ঠেলে দিয়ে আনন্দে মেতেছি। খুব ছোট ছোট আনন্দকে অনেক বাড়াবাড়ি রকমের রুপ দিয়েছি। কি করবো আমি? আমার তো ছোট্ট একটা ফুল এঁকে ফেল্লেও সেই ফুলটার দিকে সারাদিন তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।একটা ক্রাফ্ট বা একটা গান বা নাচের অযথা অকারণ মহা প্রিপারেশন নিতে থাকি। এক একটা দিন আলু ভর্তা ভাত খেলেও ফাইভ স্টার স্টাইলে সাজাতে বসি টেবিলটাকে। তারপর খানাপিনা ছেড়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখেই আমার আনন্দ! হা হা হা
সোজা কথায় তিলকে তাল করা যে বাঙ্গালীর স্বভাব তাই আমি করি বা ইজি কাজে বিজি থাকি সদা ও সর্বদা। কি করবো? আমার যে সব নিজেই করতে ইচ্ছা করে। সব মানেএমন না যে পাহাড়ে উঠা না বা রোজ রোজ পার্কে হেঁটে জিম করে ঐশ্বরিয়া হতে চাওয়া। আমার ইচ্ছা করে কাউকে খুব সুন্দর করে গান গাইতে শুনলে তেমন গাইতে, নাচতে দেখলে তেমন নাচতে, আঁকতে দেখলে বা কবিতা পড়তে দেখলে তেমনটা করতে।

এসব নিয়ে বিজি থাকা বা মেতে থাকা সে কিন্তু আমার আজীবনের স্বভাব। সেই খুব ছোট্ট থেকেই। আর একটা জিনিস জেনে গিয়েছিলাম এই নিজের কাজে আর নিজের মাঝে আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে শেখা এটা জাগতিক কষ্ট ব্যথা বেদনা ও দুঃখভোলা গান...... এভাবেই ছিলাম অনেকটা বছর। হঠাৎ কয়েক বছর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলাম আর এত দ্রুত অসুস্থ্য হয়ে পড়লাম যে ডক্টর অবাক! সেই প্রথমে আমাকে জানালো আমি নাকি ডিপ্রেশনে আছি। সে কথা শুনে আমিও তো অবাক! বলে কি ডক্টর! আমার মত এত আনন্দে ভাসা মানুষের আবার ডিপ্রেশন! আমি তো মনে মনে ডক্টরকে এই মারি তো সেই মারি!
হসপিটালাইজড হয়ে গেছিলাম সেবার। তবে দুদিনের মাঝেই আমার আবার সুস্থ্য হয়ে উঠতে শুরু করলাম। আর সারাক্ষন ইজি কাজে বিজি এই আমি কি হসপিটালে শুয়ে থাকতে পারি কোনো ইজি কাজ ছাড়া! কিন্তু কি করা ! হাতে স্যালাইন আটকানো। শুয়ে থাকতেই হবে। তাই ইউটিউবে হাসির নাটক দেখতে শুরু করলাম! আর হাসতে হাসতে চোখে পানি। শুয়ে শুয়ে লিপস্টিক ফেসপাউডার লাগাই! ডক্টর আর নার্সেরা আমাকে দেখে অবাক! হসপিটালে এ কোন পাগল আসলো ভেবে হয়ত! যখন সেজেগুজে শুয়ে শুয়ে এসব হাসির নাটক দেখে হাসতাম মানে হাসতে হাসতে মরতাম! তখন নার্সেরা এসে হা করে তাকিয়ে থাকতো! বলতো এমন রোগী তো জীবনে দেখিনি..... হা হা হা এছাড়াও ওদের খাবার নিয়ে ওষুধ নিয়ে আমি তো ওদেরকে তটস্থ করেছি .... সত্যি বলতে ইচ্ছে করে করিনি...... ওদের আসলেও দোষ ছিলো অনেক অনেক।

যাইহোক আমি এতটা বড় হওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো অসুখে ভুগিনি।একটু আধটু জ্বরজারি, গলা বসা আর এলার্জী ছাড়া। সেই আমির হঠাৎ পায়ে ব্যথা শুরু হলো। প্রথম দিকে ততটা পাত্তা দেইনি । কারণ কয়েক বছর আগেও হাতে ব্যথা হয়েছিলো যা পরে ঠিক হয়ে গেছিলো। কিন্তু এই ব্যথাটা ছিলো যেন শরীর অচল করা। নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না আমি। শুরুটা হয়েছিলো প্রথমে বাচ্চাদেরকে নাচ শিখাতে গিয়ে। কিন্তু চুড়ান্ত হলো দু একদিন পরে যেন হার্ট এটাকের মতন আমার পা এটাক হলো। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না আমি! নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো। ডক্টরের কাছে গিয়ে ধরা পড়লো রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস।রিউমাটোলোজিস্ট, ফিজিও থেরাপী আরও কত কি..... এই রোগ নাকি লাখে একটা না কোটিতে একটা এমনই এক বিরল রোগ! যার চিকিৎসা আছে কিন্তু উপশম নেই.... শুধুই ম্যানেজ করে চলতে হবে আজীবন..... সেই জীবনটা টিকিয়ে রাখাও আমার ভয়ংকর ঝামেলার। হেন করো তেন করো কত কি!
আমি তখন সেই বিষয়ে পড়াশোনা, ভাবনা চিন্তা করে অস্থির! ডক্টর, ফিজিও থেরাপিস্ট তারাও বললো আমি নাকি আসলেই একটা বেসম্ভব রকম অস্থির প্রাণী! আরে বলে কি!! আমি যদি অস্থির হতাম তাহলে কি শান্ত হয়ে এত এত ছবি আঁকতে পারতাম! আমি যদি অস্থির হতাম তাহলে কি এত এত শান্ত হয়ে মনের রাগ, দুঃখ, বেদনা, সবচাইতে বাড়াবাড়ি কিছু মানুষের আচরণ সহ্য করে হাসিমুখে সব সামলে সংসার, চাকুরী করে যেতে পারতাম!! আমি যদি অস্থির হতাম তবে কি জীবনের নানা ক্ষেত্রে সেই শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে আজ এই পর্যন্ত যা যা মুখ বুজে সহ্য করে নিয়ে সাফল্যময় জীবন কাটাচ্ছি সে সব একটাও পারতাম! মোটেও না .... কখনো না!!!!!!!!!!!!
ডক্টর এসব কিছুই শুনলেন না। আমার বেড়ে ওঠা,পারিপার্শ্বিকতা, চাকুরী ক্ষেত্র! এসব নিয়ে শুনলেন, জানলেন। সেসব আমি অপকটে বলতে বলতে আমি কখনও হাসি, কখনও কাঁদি। ডক্টর টিস্যু এগিয়ে দেন। হা হা হা । সে যাইহোক তিনি আমাকে মেডিটেশন, ইয়োগা এমন কি সাইকো থেরাপী সাজেস্ট করলো!! আমার রাগ দুঃখ ক্ষোভের কথা শুনে কোমল কন্ঠে বললেন, ক্ষমা করে দেওয়া যায় না? হা হা হা ক্ষমা!!! রবিঠাকুরের কবিতা মনে পড়ে-
ক্ষমা কোথা মনে মোর।
করেছ এ নারীচিত্ত কুলিশকঠোর
হে ব্রাহ্মণ। তুমি চলে ষাবে স্বর্গলোকে
সগৌরবে, আপনার কর্তব্যপুলকে
সর্ব দুঃখশোক করি দূরপরাহত ;
আমার কী আছে কাজ, কী আমার ব্রত।
আমার এ প্রতিহত নিষ্ফল জীবনে
কী রহিল, কিসের গৌরব? এই বনে
বসে রব নতশিরে নিঃসঙ্গ একাকী
লক্ষ্যহীনা। যে দিকেই ফিরাইব আঁখি
সহস্র স্মৃতির কাঁটা বিঁধিবে নিষ্ঠুর;
লুকায়ে বক্ষের তলে লজ্জা অতি ক্রূর
বারম্বার করিবে দংশন। ধিক্ ধিক্ ,
কোথা হতে এলে তুমি, নির্মম পথিক,
বসি মোর জীবনের বনচ্ছায়াতলে .....
রবিঠাকুরের বিদায় অভিশাপ কাব্যে দেবযানীর মনের কথাগুলিই যেন আমার কথা। আমার চেপে রাখা দুঃখ কষ্ট, ব্যথা, বেদনা বা ক্ষোভের গোপন গল্প! যা কোনো কচের জন্য নহে। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে গিয়ে যেসব নেগেটিভ, টক্সিক মানুষদের সাথে দেখা হলো, অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও কাটাতে হলো বা হচ্ছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস তাদের সাথে... তাদের জন্য....
এই বনে
বসে রব নতশিরে নিঃসঙ্গ একাকী
লক্ষ্যহীনা। যে দিকেই ফিরাইব আঁখি
সহস্র স্মৃতির কাঁটা বিঁধিবে নিষ্ঠুর;
লুকায়ে বক্ষের তলে লজ্জা অতি ক্রূর
বারম্বার করিবে দংশন। ধিক্ ধিক্ ,
কোথা হতে এলে তুমি, নির্মম পথিক,
বসি মোর জীবনের বনচ্ছায়াতলে ..
আমাদের জীবনে মানে সবার জীবনেই আসে এই সব নির্মম পথিকেরা তথা নেতিবাচক মানুষেরা। কখনও পরিবারের মাঝে, কখনও শ্বশুরকূলে, কখনও বা আমাদের পেশাগত জীবনে। যারা নিজেদের জীবনে নিজেও জ্বলে, অন্যদেরকেও জ্বালায়। দেবযানী ক্ষমা করতে পারেনি তার প্রেমিক প্রবর দেবতা কচকে । আর আমরা বুকের গহীনে ক্ষমা না করে চলি জীবনে চলার পথে দেখা হওয়া এইসব টক্সিক মানুষদেরকে। এই সব টক্সিক মানুষদের সাথে চলতে গিয়ে মানে মুখ বুঁজে চলতে গিয়ে একদিন সেইসব তিক্ত অভিজ্ঞতা আর সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মানেই দুঃসহ স্মৃতি মানে স্মৃতির কাঁটা। দেবযানীর বুকের মাঝেও বিঁধেছিলো যেমন তেমনই আমাদের বুকেও গেঁথে থাকে বিঁধে থাকে......... আর তা থেকেই মানে মনের এই সব স্মৃতির কাঁটা, চেপে রাখা রাগ, ক্ষোভ বিরক্তি বা দুঃখই মন চেপে রাখে কিন্তু চেপে রাখে না শরীর। নানা রকম রোগ ব্যধি বেদনা হয়ে বেরিয়ে আসে তা একটা সময়.......

এসব আমি জানতাম না । কিন্তু জানতে হলো নিজের স্বার্থেই- এই রকম অসুখও আছে নাকি দুনিয়ায়। মনের অসুখ যা শরীরে উপসর্গ হয়ে দেখা দেয়। এই মন ও শরীরের আত্মিক যোগাযোগ অসুখের নাম সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার যা মন ও শরীরের অদৃশ্য সংযোগে দাঁড়িয়ে থাকে। আসলে আমাদের মন এবং শরীর একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। অনেক সময় আমরা যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা কষ্ট অনুভব করি, তা সরাসরি শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। এই ধরনের অবস্থাকেই বলা হয় সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার।
এটা এমন একটি অবস্থা যেখানে শারীরিক লক্ষণগুলো মূলত মানসিক বা আবেগজনিত কারণের ফলে তৈরি হয় বা বাড়ে। এর নাকি আরও একটা নাম আছে, সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার বা সোমাটাইজেশন ডিসঅর্ডার বা কনভার্সন ডিসঅর্ডার নামেও পরিচিত। বাপরে!!! এই মনের ব্যথাই রুপ নেয় শাররিক নানা সমস্যায় যেমন প্রচন্ড মাথাব্যাথা কিংবা পেটব্যথা, ক্লান্তি , পেশী ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্যালপিটিশন, হাই ব্লাড প্রেশার, এলার্জী, একজিমা, অনিদ্রা, অমনোযোগ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, অবসাদ বা দুর্বলতা ইত্যাদি।
আগেই বলেছি মানসিক কষ্ট, দুঃখ, রাগ, ক্ষোভ চেপে রাখাই এসব রোগ বৃদ্ধির কারণ তারপরও বলছি সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডারের কোনো একক কারণ নেই। এটি সাধারণত বিভিন্ন মানসিক ও আবেগীয় কারণের সম্মিলিত প্রভাব।যেমন
আমাদের ভেতরে অনেকেরই ভয় ও উদ্বেগ খুব বেশি কাজ করে। ভয়, নিরাপত্তাহীনতা বা বাইরের হুমকির অনুভূতি শরীরে স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
অতি আবেগী মানসিক যন্ত্রণা বা অমীমাংসিত মানসিক কষ্ট। যেমন প্রত্যাখ্যাত হওয়া, সম্পর্ক ভাঙা বা ট্রমা। এসব শরীরে উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব। মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন বৃদ্ধি পায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
জীবনের চলার পথে আমরা নানা রকম শকিং পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে যাই। যেমন প্রিয়জনের মৃত্যু, পরিবার পরিজন এবং প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক ভাঙা, দীর্ঘদিনের চাপ এই ঘটনাগুলো সাইকোসোমাটিক সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে ক্ষনস্থায়ী সমস্যার সাথে সাথে দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডারের ধরণ বা ধাঁপগুলো এমন হতে পারে-
১. ডিপ্রেসিভ (বিষণ্নতা) ব্যাধি- মেজাজ পরিবর্তন,ঘুম ও ক্ষুধার সমস্যা, শক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি
২. উদ্বেগজনিত ব্যাধি- এংজাইটি - অযথা ভয়, অস্থিরতা, দীর্ঘস্থায়ী টেনশন ইত্যাদি
৩. সোমাটাইজেশন ডিসঅর্ডার- এতে মানসিক সমস্যার কারণে গুরুতর শারীরিক উপসর্গ তৈরি হয়, যা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে।
সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন থেরাপী, এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ, লাইফস্টাইল চেঞ্জ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন,স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস...
ছোটবেলায় একটা কথা শুনেছিলাম মন ভাঙ্গা আর মসজিদ ভাঙ্গা একই অপরাধ আর আজ জানছি মন ভাঙার কষ্ট ও চেপে রাখা রাগ,ক্রোধ,ক্ষোভ শরীর ও মনের উপর লুকানো প্রভাব ফেলে। কাছের মানুষ যখন কোনো কারণে আমাদের মনে আঘাত দেয়, তখন শুধু মনই খারাপ হয় না এর প্রভাব পড়ে পুরো শরীরের উপর। অনেক সময় এই অনুভূতিকে আমরা হালকাভাবে নেই, কিন্তু বাস্তবে এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে, দীর্ঘদিন রাগ চেপে রাখার অভ্যাসও ধীরে ধীরে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
অনেকেই মনে করেন, “মন ভাঙা” শুধুই একটি আবেগীয় বিষয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক কষ্ট আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে গ্রহণ করে যেন তা শারীরিক ব্যথা। তাই কারও কথায় আঘাত পেলে বুকের ভেতর চাপ বা ব্যথা অনুভব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘদিন রাগ চেপে রাখার যে ক্ষতি তার মূল্য শরীরকে দিতে হয়। আমরা মনে করি রাগ প্রকাশ করলে সম্পর্ক নষ্ট হবে, মান সন্মান যাবে তাই চুপ থাকি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন রাগ চেপে রাখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসল দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি,হজমের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ রাগ জমতে জমতে একসময় মানসিক সমস্যারও সৃষ্টি করে, যেমন অ্যাংজাইটি, বিষন্নতা, প্যানিক অ্যাটাক ইত্যাদি।
যাইহোক রাগ দুঃখ ক্ষোভকে দমনের কিছু উপায় আছে। রিয়াকটিভ না হওয়া, ঠান্ডা মাথায় বুঝানো বা নিজের কথা বলা, মেডিটেশন বা এক্সারসাইজ.......
তবে হ্যাঁ নেতিবাচক,হিংসুটে, গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল, নিজে পারেনা তাই অন্যেরটা সহ্য হয়না, টক্সিক সমাজের কিট কিছু মানুষেরা কোনো কিছুতেই সোজা হয় না..... যেই লাউ সেই কদুই থেকে যায়। তাদের জন্মই হয়েছে বেয়াদপী করার জন্য, অন্যকে ছোট করা, হিংসা করা, বড়াই করা, তুই মনু আর আমি হনু এমনটাই ভাবা তাদের কাজ..... ইচ্ছা করে এক থাপ্পড়ে তাদের দাদার নাম ভুলায় দিতে। কিন্তু না আমরা তা করি না কারণ আমরা ভদ্দরনোক!
আর তাই ক্ষোভ, রাগ, দুঃখ চেপে রাখি যা আমাদের শরীর ও মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলে আমাদেরকে অসুস্থ করে তোলে। কিন্তু নিজের ভালো থাকার দায়িত্ব নিজের। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে, সুস্থ থাকতে হবে আর টক্সিক পিপলদের মুখে ঝাঁটা মেরে মনের আনন্দে ভাসতে হবে!

আমার ইজি কাজে বিজি থেকে ইদানিং কালের কিছু ইজিবিজি কাজকর্মের ছবি জুড়ে দিলাম আর হ্যাঁ এই যে ফোটোশপে করা কাভার পিকচারটাও আরেক ইজিবিজি কাজের নিদর্শন!!!
তবে চিন্তায় আছি এত কিছু জানা বুঝার পরে রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ চেপে না রেখে কেউ বেয়াদপী করলেই ........ দেবো নাকি চিরকালের জন্য আমার সাথে করা সকল বেয়াদপী, অসভ্যতা ঘুচিয়ে জনমের মত!!!!!!!
https://my.clevelandclinic.org/health/diseases/21521-psychosomatic-disorder
https://www.ogmagazine.org.au/20/3-20/psychosomatic-disorders/
https://www.news-medical.net/health/Psychosomatic-Disorder-Treatment-Options.aspx
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



