somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী আন্দোলন ও আমার চেতনার বৈষম্য!!

০৮ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বিশ্ব নারী দিবস। নারী দিবসের কল্যানে আজ ফেসবুক, ব্লক ও আমার চারপাশের জগতে বেশ তাপ অনুভব করছি। আমার এই পোস্ট পড়ে দয়া করে আমাকে কেউ নারী বিদ্দেষী ভাববেন না। আমি কিছু নারীদের সাথে আমার ভাবনার পার্থক্যটাই তুলে ধররার চেষ্টা করছি মাত্র।

নারী আন্দোলন, নারী পুরুষ সাম্যবাদ, নারী মুক্তি, নারী অধিকার এসব শব্দগুলো আসলেই অধিকাংশ নারীই প্রথম আঘাত করেন পুরুষ জাতিকে তারপর আঘাত করেন ধর্মকে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় এই দু'ই এ তাদের জয়ের পথে সব চেয়ে বড় অন্তরায়।

সেদিন এক পরিচিত আপুর সাথে কথা হলো। তিনি নারী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত। কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন- " নারী সব কিছুতে সমঅধিকার চায়। ঘরে বাহিরে সবকিছুতেই নারীকে দিতে হবে সমান অধিকার। নারী কেন সন্তান প্রতিপালন করবে? নারীকে কেন রান্না করতে হবে? তারা কেন চার দেয়ালে নিজেকে বন্দী করে রাখবে? পুরুষদেরও এসব করতে হবে। সংসারে সকল বিষয়ে নারীর সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে হবে।"

আমি আপুকে বললাম, "আপু সমঅধিকার যদি আসে তবে পুরুষ হিসেবে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হবে না। তোমরা মুখে সমধিকার বলছো কিন্তু সুবিধা গ্রহন করছো পুরুষদের চেয়ে বেশি।"
আপু ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন,"ফালতু কথা বলবি না। আমি হেসে বললাম, "দেখ আপু, বাসে তোমাদের জন্য সংরক্ষিত আসন, সংসদে তোমাদের জন্য সংরক্ষিত আসন, চাকরীতে কোটা! সমধিকার আসলে এসবতো আর থাকবে না। আপু রেগে গিয়ে বললেন, এটা আমাদের অধিকার আর সারাদিন কাইয়িক পরিশ্রম করে পুরুষের চেয়ে কম মজুরি যে মেয়েরা পাচ্ছে , এটা কি?"

আমি বললাম, "আপু, যদি তুমি মজুরির কথা বল তবে তা হবে কাইয়িক শ্রমের উপর। শ্রম যে বেশি দিবে তাঁর পারিশ্রমিক বেশি হবেই। তুমি অফিসিয়াল চাকরির ক্ষেত্রে দেখ, সেখানে কিন্তু যোগ্যতা অনুসারেই বেতন হচ্ছে ।"

আমি আমার সেই বড় আপুর অগ্নি চোখ উপেক্ষা করে বললাম, "আপু, আসলে কি জানো প্রযুক্তির একটা বিশাল উন্নয়ন দরকার। যে উন্নয়নের মাধ্যমে একজন পুরুষ গর্ভধারন করার ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে। তাঁর বুকে জমবে সন্তানের জন্য খাদ্য। একজন পুরুষ প্রকৃতিগত ভাবেই উগ্র। শুধু মানব জাতি নয় প্রকৃতির সকল সৃষ্টির মধ্যেই একই রুপ। ডানা দিয়ে মা পাখি তাঁর সন্তানদের আঁকড়ে ধরে রাখে বাবা পাখি নয়। বাঘ নিজের সন্তান হত্যা করে বাঘীনি নয় কারণ এই মমতা গর্ভে ধারন না করলে আসা অসম্ভব।
আর সমধিকার বলতে তোমরা যাই বোঝাও আমি বুঝি পরিবার একটি সংগঠন। আর কোন সংগঠনেই সর্বোচ্চ ক্ষপমতার অধিকারি দুই জন হতে পারে না। আর তা যদি হয় তবে সে সংগঠন রসাতলে যেতে বাধ্য। সংসার এক পুরুষ বা এক নারিতে হয় না। সংসার মানেই নারী ও পুরুষ। এখানে দায়িত্বের ভাগাভাগি থাকবে। একজন আরেকজনকে সাহায্য করবে। কিন্তু কেন করব কেন করব না! অবস্থা যদি এমনটা হয় তবে সাংঘাতিক। সম্পূর্ন বিষয়টিই কিন্তু আলোচনা সাপেক্ষ।"

আরেকদিনের কথা, নারী অধিকারের প্রসঙ্গ আসতেই আমার এক বন্ধু বলল, " নারী বঞ্চিত হচ্ছে ধর্মের কারনে। পর্দা প্রথা নারীকে বন্দি করার পন্থা।" আমি তাঁকে বললাম, "তুমিই তোমার শ্ত্রু!"
আমার কথা শুনে সে সাপের মতই ফোস করে উঠল। রাগত চোখে আমাকে বলল- কিভাবে বুঝিয়ে বল।
আমি বললাম, "তুমি শার্ট-প্যান্ট পরেছ, চুল ছেলেদের মত ছেটেছ, তুমি চলছো পুরুষদের মত। যদি তুমি নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাও তবে তোমারতো প্রথম নারী হওয়া উচিৎ।"
আমি আরও বললাম, " পর্দার বিধান শুধু নারীদের জন্য নয় ইসলামে পর্দার বিধান আছে পুরুষদের জন্যও। আর তাছাড়া তুমি বঞ্চিত হবার যে দাবি তুলছো আমি যতটুকু জানি ইসলাম নারীর ভরন-পোষনের দায় ভার দিয়েছে স্বামী অথবা পিতার উপর। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে, পিতা, মাতা ও স্বামীর সম্পদের উপর নারীর হক। ব্যাবসা-বানিজ্য থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র পর্যন্ত নারীর বিচরন নিশ্চিত করেছে ইসলাম।"

সে এবার বলল,"ইসলামে যে পুরুষদের জন্য চার স্ত্রী জায়েজ করেছে কই মেয়েদের জন্য চার পুরুষতো জায়েজ করেনি? এটা কি বৈষম্যতা নয়?"
আমি হেসে বললাম, অবস্থার প্রেক্ষিতে চার স্ত্রী পুরুষের জন্য হালাল। যদি এটা মেয়েদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হত তবে কি হতো জানো? এক জমিতে চার ফসলের আবাদ এক সাথে হয় না আর যদি হয় তবে ফসলের গুনগত মান হারিয়ে যায়। যদি তাই হতো তবে একটি সন্তান হতো জারজ! সে কোন শুক্রানুর মিলনের ফল তা নিশ্চিত করা হয়ত দুষ্কর। তালাক হয়ে গেলে সেই সন্তানের ভরণপোষণ হয়ে যেত অনিশ্চিত।

যাই হোক এই তর্ক শেষ হবার নয়। আমি যা বুঝি তা হলো, সাম্যবাদ মানে কাদা ছুড়াছুড়ি নয়। সাম্যবাদ মানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা। আমার মতে নারী আন্দোলনের মূল লক্ষগুলো হওয়া উচিৎ- নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতকরন, নারী নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা, যৌতুক প্রথার উচ্ছেদ, বাল্য বিবাহ উচ্ছেদ, নারীর শিক্ষা নিশ্চিতকরন।

এই আন্দোলনের জন্য কাজ শুরু করতে হবে তৃনমূল থেকে। নারী শিক্ষা বিস্তারে কাজ করতে হবে ব্যাপক। গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের যথা যোগ্য প্রয়োগের মাধ্যমেই এই উদ্দেশ্যগুলো সফল করা সম্ভব। এই দুর্গম পথ নারীর একার পথে পারি দেয়া সম্ভব নয়। এই আন্দোলনে নারীর হাত ধরতে হবে পুরুষদেরও।

এখনো খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে, গৃহকতৃঈর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে গৃহপরিচারিকা, শাশুড়ির হাতে খুন হচ্ছে গৃহবধূ, গৃহবধুর কাছে লাঞ্চিত হচ্ছে শাশুড়ি। এখনও নারী নারীর শত্রু হয়ে রেয়েছে সমাজে।

তাই বলি, আন্দোলনের মূল লক্ষ ঠিক না রেখে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করে কোন লাভ হবে না। যদি পর্দা তুলে দিলেই অধিকার আদায় হয় তবে উলঙ্গ হয়ে পথে নামলেই তো সমাধান হয়ে যেত। নারীকে তাঁর ভাবনা, চিন্তাশক্তি, দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা দিয়েই সব ক্ষেত্রে নিজের শ্রেষ্টত্ব আদায় করতে হবে। পৃথিবীতে পুরুষ রাজত্ব করতে আসেনি। এই জগত পুরুষের কেনা জমিদারীও নয়। শেষ অবধি শুধু একটি কথাই বলতে চাই- নারী ও পুরুষ সম্মিলিত ভাবেই সৃষ্টি করতে পারে একটি সুন্দর পৃথীবির, জন্ম দিতে পারে একটি সুস্থ প্রজন্মের। একক নারী বা একক পুরুষ সব সময় সর্বক্ষেত্রেই শূন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×