যারা ডেসটিনি করেন তাদের কোনো অভিযোগ নেই অথচ পত্রিকাগুলো কেঁদে মরছে
গত এক সপ্তাহ ধরে 'সত্যের সন্ধানে নির্ভীক' দাবিদার পত্রিকাটি ডেসটিনি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে যেসব সংবাদ পরিবেশন করে আসছে তা যে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক সেটা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। গত সোমবার একটি বেসরকারি টিভিতে এ নিয়ে টকশো পাঠকের কাছে বিষয়টি আরো খোলসা হয়ে গেছে। ওই পত্রিকা সাংবাদিকতার নামে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করে পাঠকের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
কোনো প্রকার অপপ্রচার চালিয়ে ডেসটিনির মতো গণমানুষের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা যাবে না_ তা এখন সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে। নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে খুলনা বিভাগের সর্বত্র ডেসটিনির অফিসগুলোতে আগের মতোই কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। যেসব পত্রিকা ধারাবাহিকভাবে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করছে তাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে জনমনে।
গতকাল সারাদিন খুলনার মানুষের কাছে ওই টকশো ছিল 'টক অব দ্য টাউন'। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় এই প্রতিবেদক প্রেসক্লাব খুলনায় বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের সঙ্গে টকশোটি উপভোগ করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক মন্তব্য করেন, 'এতদিন পত্রিকাগুলো ডেসটিনির বিরুদ্ধে যে সব সংবাদ পরিবেশন করেছে সেগুলো নিতান্তই অমুলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তারা টকশোটি উপভোগ করতে করতে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে যেখানে সরাসরি ডেসটিনির সঙ্গে লেনদেনে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, সেখানে পত্রিকাটি কিভাবে মূল প্রতিবেদন করল 'বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেসটিনির সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন করা যাবে না।' এটা তো সাংবাদিকতার এথিক্স বিরোধী কর্মকা-। ওই পত্রিকার কাছ থেকে এসব কর্মকা- আশা করা
যায় না। এ সময় উপস্থিত সিনিয়র একজন সাংবাদিক মন্তব্য করেন, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি যদি সমবায় অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কেন হস্তক্ষেপ করবে? আর যদি শুধু সদস্যদের মাঝে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকে তবে শেয়ারবাজারেই বা কেন ডেসটিনিকে তালিকাভুক্ত হতে হবে? ডেসটিনির পুঁজি বাড়লে তাতে দেশের ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে এটা অর্বাচীন কথাবার্তা। এর আগে যে শেয়ারবাজার থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেল, তদন্ত কমিটি গঠিত হল, তখন তো কেউ ডেসটিনিকে দোষারোপ করেনি। এখন কেন করছে?
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, যারা ডেসটিনি করেন তাদের কোনো অভিযোগ নেই অথচ পত্রিকাগুলো কেঁদে মরছে। বিষয়টি 'যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই' অবস্থার মতো হয়েছে।
যারা টকশোটি দেখেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট যখন প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করছিলেন তখন এক পর্যায়ে আলোচ্য পত্রিকার পক্ষে উপস্থিত সাংবাদিক চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে হাস্যকর প্রশ্ন করেন_ 'ডেসটিনি কেন সংবাদ সম্মেলন করছে না?' সাধারণ মানুষের প্রশ্ন_ যে রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো প্রকাশ করেনি তা নিয়ে এত মাতামাতি কেন। এটি ভেবে দেখা দরকার। তবে কি ডেসটিনি গ্রুপের সফলতা কোনো মহল বিশেষকে ঈর্ষান্বি্বত করছে? ডেসটিনির কোনো কর্মকা-ে জড়িত নেই খুলনার এমন একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডেসটিনিকে বলেন, ডেসটিনি যদি কোনো অনিয়ম করে থাকে তবে তার যথাযথ তদন্ত হোক। কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন তাদের মাঝে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো মানে হয় না। এটি একধরনের নৈতিক অপরাধ। এ ধরনের চিন্তা চেতনা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




