আমার ৭ মাস বয়সী বাবুটাকে কোলে নিয়ে গত সপ্তাহে বাসার পাশে পশু-পাখি বিক্রির দোকানে গিয়েছি। খরগোশ, কবুতর, কোয়েল, টিয়া পাখি দেখে আমার রাজকন্যা খুশীতে আত্মহারা। ও নিজেই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিল খরগোশগুলোকে ছোঁয়ার জন্য।
দোকানের উল্টো দিকেই কবরস্থান। সেখানে চোখ যেতেই দেখি দুই তরুণ একটা ছোট্ট কবর খোঁড়ছে। এত ছোট কবর এর আগে দেখিনি, এক হাতেরও কম হবে। রাস্তা পার হয়ে সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কে মারা গেছে ?
-ওরা জানালো-জন্ম হওয়ার সময়ই ওদের বাবুটা মারা গেছে। তার কবর খোঁড়া হচ্ছে।
কথাটা শোনার পর একটা কেমন যেন ভয়ের স্রোত শীরদাড়া দিয়ে নীচে নেমে গেল। আমার বাবুটাকে বুকে চেপে ধরে সেই কবরের দিকে চেয়ে মনে হল-যদি আমার বাবুটা মারা যেত তাহলে আমার যেমন পৃথীর সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগতো। ঠিক তেমনি কষ্ট বুঝি লাগছে মৃত বাবুটার বাবা-মার।
দাড়িয়ে দাড়িয়ে ওদের কবর বানানো দেখছি আর ভাবছি- কেমন করে থাকবে অবুঝ শিশুটি অন্ধাকার কররের ঘরে ? পৃথিবী দেখার আগেই কবরের অন্ধকার জগৎ যাকে ঘ্রাস করে দিল, কেমন থাকবে সে সেখানে?
সে কি বাবা মাকে খুঁজবে ? খুঁজবে কি মাতৃগর্ভের উষ্ণতা? থাকবে কি পৃথিবীতে ফিরে আসার আকুতি ?
ভাল থাকুন শেষ ঠিকানায় নাম, পরিচয়হীন সেই বাবুটা।
কেমন করে রবে করের ঘরে
ছোট সোনা বাবুটা
জানিনা কে কেমন থাকে পৃথিবীর ঠিকানা শেষে
মরনের পরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




