আজ এক ভাঙ্গা জুটি কে নিয়ে লিখতে বসেছি। দেশের রাজনীতি আর অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে মানুষ আমার এই লেখা পড়ে গালাগাল করলেও অবাক হবার কিছু নাই। কিন্তু হাতে নাই কাজ – তো পেইন দেয়ায় লেগে যাই। আমি জানি এই লেখা পড়ে অনেকেই পেইন পাবে। অনেকে মজাও পাবে আর অনেকে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করবে।
কাহিনী আমার চোখের সামনে ঘটা। হাই ভোল্টেজ – লো অ্যাম্পিয়ার কাহিনী । আমাকে বলতে পারেন গল্পকার। মূল মানুষ গুলোর নাম নিব না। আর মানুষ গুলো সবই দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রকম সাবজেক্টে পড়ুয়া।
যখন মোরা সবাই স্কুলে যাই তখন থেকে শুরু। ছেলে মেয়ে একসাথে পড়ি। আর বাচ্চা কালের ভালবাসা। ছেলে ধপাস করে পড়ল মেয়ের প্রেমে (ইনফ্যাচুয়েশন) আর মেয়ে দেয় না পাত্তা। ছেলে বেক্কল টাইপের (শুধু প্রেমের ব্যপারে) একটা জোট নিয়ে চলে যার প্রতিটি মেম্বারের মাথা নষ্ট। বিটলা পোলাপানের তো আর স্কুলে অভাব নাই কিন্তু ভুলেও কেউ কোনদিন এই মেয়েকে বিরক্ত করতে সাহস পায় নাই। যাই হোক মাঝে বিশাল ইতিহাস।
ছেলে ভয়ানক রকম ব্রিলিয়ান্ট কিন্তু নাম্বার পায় কম। কারন তার হাতের লেখা ডাক্তারদের মত আর স্পীড গরুর গাড়ির মত। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছেলে এ গ্রেড পাইয়া তো মহা খুশি। কিন্তু মাথায় পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল । কারন মেয়ে এ+ পাইছে। ছেলে এখন ছারখার। কলেজে আইসা তো অবস্থা আরো খারাপ। কিন্তু সব স্যার আর পোলাপান এর কাছে সে খুবই ভাল । যাই হোক উচ্চমাধ্যমিকেও ছেলে যথারীতি ডাক্তার সুলভ লেখার জন্য ডাল মারল। মেয়ে এ+ পেল। তখন মরণ কামড় দিল ছেলে। সকল সঙ্গী ত্যাগ করে ঢাকায় এসে এমন এক পরিবেশে পড়ল যেখানে ৮ জন মানুষের পুরো সপ্তাহের বাজার খরচ হল ৩৫০/- । সারা রাত ফোন আর তাস খেলা। মেয়ে তো ঐসময় পাংখা লাইফ কাটাচ্ছে। আরেক ছেলের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফোন , ডিজুস আড্ডা সব চলছে।
এল ভর্তি পরীক্ষা। ইংরেজী অংশ দাত ভাঙ্গা কঠিন। পরীক্ষা দেবার পর সব পোলা-মাইয়া তো সিউর মোদের চান্স ঠেকায় কে। ঐদিকে পোলা তো আল্লারে ডাকে। ঐ যে বলছিলাম না , ভয়ানক ব্রিলিয়ান্ট ! MCQ তে বস পরীক্ষা দিয়া পোলা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইয়া গেল। এখন তো সে আরো দিশেহারা , মেয়ে চান্স পায় নাই। অবশেষে মেয়ে চান্স পাইল অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এইবার কাহিনী শুরু। ফোনালাপ .... ফেসবুক চ্যাট .... । অবাক বিষয় পোলা না মেয়ে ই আগে নক করে। আলাভোলা ছেলেটার মাথাটা চিবিয়ে খায় রাত ভর চ্যাট , মেসেজ আর ফোনে। দুই মানব–মানবী দুজন দুজন কে ভালবাসত কিন্তু কেউই কাউকে বলত না । সামাজিক বাধা আর ভয় দুজনকেই কুকড়ে খাচ্ছিল। যদি কেউ না বলে তখন কী হবে। থাক সম্পর্ক বেচে থাক।
৩ বছর চলল এই কাহিনী , মাঝে বিশাল ইতিহাস। তার জীবনে আরেক ছেলের আগমন। ছেলে মরিয়া জানতে কে সেই পোলা। ছেলে জানতেও পারে। এক পর্যায়ে মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এদিকে ২ টা রিলেশন। দিশেহারা মেয়ে ছেলে কে বলে “ তুমি অপেক্ষা কর। আমি জানাব। “
মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল । কার সাথে ? আরে ২ জনের কেউই না। এ এক নতুন মুখ। দেখতে সুদর্শন এবং সেই রকম পয়সাওয়ালা। অন্যদিকে ছেলে মাস তিনেক ভবঘুরে জীবন কাটিয়ে এখন সুস্থ স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছে । আর বছর দুই পর হয়ত দেশের সেরা কোন প্রতিষ্ঠানে বিশাল অংকের বেতনে কোম্পানিকে লীড দেবে।
শেষকথা : ছেলের তো কোন পাপ আমি দেখি না। মেয়ে তাকে বলেছিল অপেক্ষা করতে। সে চলে যাবে এ কথা তো বলেও যেতে পারত। কেন বলে নি ? তার মনে কী ভয় ছিল। ছেলে তার নতুন সংসারে আগুন লাগাবে ? এরকম কিছুই হবে না । সেই ছেলে আজও প্রার্থনা করে মেয়ে সুখী হোক। মেয়েও কী তাই করে ? নাকি প্রার্থনা করে ছেলেটা মরে যাক যাতে সে সংসারে সুখী হয়।
ছেলের একটাই প্রশ্ন – মেয়ে এত বছর সম্পর্ক রাখল , এত কথা বলল , অপেক্ষা করতে বলে জবাব না দিয়ে কেন চলে গেল। তবে কী বিয়ের জন্য আর্থিক সচ্ছলতাই জরুরী ? আবেগ , স্নেহ , মায়া-মমতা , ভালবাসা এসবের কোন মূল্যই নেই ?
আমি উত্তর দিতে পারিনি , আপনারা পারলে তার কথার জবাব দিন।
মোরাল অব দি স্টোরি :
সমবয়সী কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক করতে নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

