বছরের শুরুটা হয়েছে হইচই দিয়ে। রামপুরার এক ফ্ল্যাটে আমি ও সারা সমস্ত জল্পনা-কল্পনা করে ঠিক করেছিলাম এ বছরে ঢুকবো বাজি ফাটিয়ে। শীতের রাতে উত্তেজনায় গরম লাগছে, তবুও কিছুই করার নাই। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরে পা টিপেটিপে ছাদে উঠলাম দু'জনে। ঘড়ির কাটা বারোর ওপর পড়তেই শব্দ শুরু হলো - আমাদের কাছ থেকে, ও আশেপাশের ছাদের মানুষদের থেকে। নতুন বছরের চিন্তায় তখন পৃথিবী ডুবে আছে। রাতের আকাশের আলোর খেলায় আমরাও মুগ্ধ! ... মুগ্ধতাটা অবশ্য বেশিক্ষন থাকেনি। পরের দিন সকালে দেরি করে উঠার জন্য পেলাম কিছু উপহার (?) বড়দের কাছ থেকে
।
পরের দু'সপ্তাহ খুব ভালো ভাবে কেটেছে। প্রতিদিন সারার সাথে ছাদে সময় কাটাতাম। গভীর রাতে ঘুম না আসলে গানের কলি খেলতাম। তারপর সকালে আমাকে টেনে হিঁচড়ে উঠিয়ে বাসা থেকে বের করা হতো। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে বাসায় ফিরতে ফিরতে বেলা পড়ে যেত। এর মধ্যে নানুবাড়ি গিয়েছি কিছুদিনের জন্য। ওখানেও কিছু স্বপ্নীল সময় কেটেছে। বড় মামারা দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে আমাদেরকে পিজ্জা হাটে খাইয়েছেন। ওখানেও ভীষন মজা হয়েছে। ছয়জন মিলে অনেক রাতে ট্যাক্সি করে ফিরেছি।
তার কিছুদিন পরেই এক বন্ধুর সাথে কথা হলো ফোনে। বন্ধুটাকে কখনোও দেখিনি, গলাও শুনিনি, শুধু কয়েকদিন এমএসএন এ চ্যাট হয়েছে। তার সাথে ফোনে কথা বলার পর একটা নতুন জিনিষ শিখলাম: মানুষকে যতটা চেনা মনে হয়, তারা ততটা চেনা না। বিশ্বাস করতে সময় লাগে। অল্প কয়েকদিনের কথায় বিশ্বাস শক্ত করা উচিত না।
ক'দিন বাদেই আমাদের চলে আসার দিন ছিলো। সকালটা হাসি ঠাট্টায় কাটিয়ে দিলাম। মামাতো-খালাতো ভাইবোনের সাথে শেষ সময়টুকু খুশিতে কাটাতে চাচ্ছিলাম। বিকেলের দিকে বলছিলাম, হয়তো যাওয়ার সময় কাঁদবো না। কিন্তু রেডি হওয়ার পর ছোট খালার সাথে কথা বলার পর হঠাৎ চোখে পানি চলে আসলো। এই মহিলা আমাকে খুব, খুব পছন্দ করে। নিজের মেয়ের মত করে। যতদিন ওখানে ছিলাম, নিজের কাছে রাখতে চাইতো। মাকে যেমন মাঝে মাঝে বিরক্তিকর লাগে, তাকেও লাগতো। মাকে ছেড়ে থাকতে যেমন লাগে, তাকেও ছেড়ে থাকার চিন্তাটা মনে হয় কাছাকাছি ছিলো। আর একবার কান্না শুরু হলে থামা শজ না। ছোট মামা - যে আমাকে একবার বলেছিলো - মেয়েটা একদম কথা বলতে জানেনা (এটার দুঃখ এখনোও যায় নাই (আম্মাআআ)) - যাকে রাগিয়ে দিয়ে মজা পেতাম - তাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললাম। সবার মাঝ থেকে সারাকে বারান্দায় নিয়ে অনেকক্ষন কথা বললাম, কিন্তু অন্যদিনের মত কারও মুখে হাসি ছিলো না। নিচে গিয়ে দেখি আশেপাশের বাসা থেকে উঁকি দেওয়া হচ্ছে, কারণ সবার মাঝে মরা-কান্না চলছিলো
। কোনমতে বিদায় দিয়ে গাড়িতে উঠেছিলাম। তারপর সবকিছু অস্পষ্ট স্মৃতি।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



