somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যের পথে আরিফ
আমি শিখি একসাথে জিকির জিহাদ, শাহ্জালালের কাছে। তাই কি করে তাগুত হয় পরাভূত, সে আমার জানা আছে। আমি শিখেছি লড়াই, দরবেশ ফকির মজনু শাহর। আমি মানুষের চির-কল্যানকামী, অনুসারী আল্লাহর। আমি শক্তি ভক্তি যুক্তিতে খুঁজি, মুক্তির সন্ধান। বাংলাদেশের মুসলিম আমি, বাঙাল

কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় নিহত এক কিশোরীর চিঠি !

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইশা নাইমা তাসনিন, ৩ ফেব্রুয়রি ২০১৫.
বাবা নুরুজ্জামান পভলু ও মা মাফরুহা বেগমের সঙ্গে কক্সবাজার থেকে যশোর ফিরছিলেন। ভোররাতে কুমিল্লায় তাদের বাসটিতে পেট্রল বোমা ছোঁড়ে অবরোধকারীরা। পভলু প্রথমে জানালা দিয়ে মাফরুহা বেগম কে ছুড়ে ফেলতে পারলেও মাইশা এবং নিজে জীবন্ত পুড়ে মৃত্যু বরণ করেন।
প্রিয় ম্যাডাম,
আমার এই পা দুটিতে যখন আগুন লাগে তার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম ভাঙলো আগুনের ছ্যাঁকায়। পায়ের মোজা খুলতে খুলতেই আমার সাড়া শরীর জ্বলে উঠলো। প্রিয় ম্যাডাম আপনি কি জানেন কি অপার্থিব কষ্ট ও যন্ত্রণা তখন আমার সারা শরীর জুড়ে? আমার শরীর পোড়া গন্ধ তখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। অদুরেই দেখি বাবা সারা শরীরে আগুন নিয়ে ছুটে আসছেন আমার দিকে সন্তানের গায়ের আগুন নেভাতে। কিন্তু সর্বনাশা আগুন তারও সর্বস্ব গ্রাস করে নিয়েছে। আমি চিৎকার করছি ‘বাবা বাচাও বাবা বাচাও’। বাবা জ্বলতে জ্বলতে দাড়ানো থেকে বসে পড়লেন। তার গতি শ্লথ হয়ে গেলো। বাসের মাঝখানের জায়গাটি অপ্রশস্ত। এই পথ ধরেই তিনি হামাগুড়ি দিয়ে আমার দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসতে থাকলেন। প্রিয় আপসহীন ম্যাডাম আপনি কি ‘ঘোস্ট রাইডার’ সিনেমাটি দেখেছেন?
আপনি কি দেখেছেন সন্তানকে রক্ষা করতে সারা শরীরে আগুন লাগা এক বাবা ঘোস্ট রাইডারের মত আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। দেখেছেন কী কখনও জীবিত একজন মানুষ জ্বলছে আর তার সারা শরীর থেকে মাংস খসে পড়ছে? দেখেছেন কখনও? বাবা আমার দিকে আসছেন ক্ষীণ গলায়
আমাকে কি যেন বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আগুন বাবার মুখের সে কথাগুলো কেড়ে নিচ্ছে। আমি চিৎকার করছি। আগুন আমার পা থেকে উপরের দিকে উঠে আসছে। আমার চোখের সামনে বাবা পুড়ছেন। আমি পুড়ছি। অদূরে চেয়ে দেখি আমার মা বাসের বাইরে চিৎকার করছেন আর তাকে ধরে রেখেছে কয়েকজন। সবাই যেন আমাদের পুড়ে যাওয়াটা নিয়তি হিসেবে মেনে নিয়েছে। আমার সামনেই বাবার মাথা আগুনে গ্রাস করে নিল। মুখ পুড়ে মাংস খসে পড়লো বাসের মেঝেতে। এবার বাবার খুলি পুড়ছে। চোখ পুড়ছে। চোখগুলো থেকে কেমন যেনো আঠালো কালো কালো রস গড়িয়ে পরলো। মাথার খুলিটা যেনো কয়লার আগুনে লাল হয়ে যাওয়া লোহার পিণ্ড। বাবার হাত থেকে সব মাংস পুড়ে খসে পরলো। এখন শুধুই কংকাল। এটাকেও রেহাই দিলো না আগুন। এবার হাড়গোড় ও জ্বলছে আমার বাবার। শেষবারের মত বাবা আমার পায়ের কাছে এসে আছড়ে পড়লেন। বাবা আর পারলেন না। আপনার ফেসবুকের স্ট্যাটাস মেনে নিয়েই তিনি তার মানবীয় সব রূপ হারিয়ে একটি কাঁদার দলার মত আমার পায়ের কাছে ছোট একটি পিণ্ডকায় বলের মত আছড়ে পড়লেন। ম্যাডাম আপনি কি জানেন মানুষকে পোড়ালে ছোট হয়ে যায়? হাত পা মাথা এক জায়গায় হয়ে যায়। আমার এই ছোট্ট জীবনে এ এক নিদারুণ নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতা। বাসের বাইরে মা তখনও আহাজারি করছেন। nদিশেহারা হয়ে বুক চাপড়াচ্ছেন। আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ার মাঝেও আমি এবার চিৎকার করে মাকে ডাকছি ‘মা আমাকে বাঁচাও।’ মা ছুটে আসতে চাইলেও তাকে আটকে রাখছে কয়েকজন। আগুন আমার বুক পর্যন্ত উঠে এসেছে। এতক্ষণ আমি বাবার সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন বাবা একটা পোড়া মাংসের দলা, মাঝখানে উকি ঝুকি মারছে কিছু হাড়গোড়। আমার এত সুন্দর বাবা আজ এক কুৎসিত জড় থকথকে আঠালো পোড়া মাংস পিণ্ড। জ্বলছে আমার সারা শরীর। এখন আমার শরীরে আর কোন যন্ত্রণা নেই। আমি ভাবছি কক্সবাজার সমৃদ্র সৈকতে বাবার স্বপ্নের কথাগুলো। বলছিলেন ‘মা এটা হচ্ছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা এর সদ্বব্যবহার করতে পারিনি। শুধু রাজনীতির হানাহানি আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে বারবার। সাগর পাড়ে বসে আমি শপথ নিয়েছিলাম আমিও রাজনীতি করবো। এই দেশ বদলাতে হলে সবার আগে রাজনীতির ত্রুটিকে বদলাতে হবে। আগুন আমার মাথা পর্যন্ত উঠে এসছে। জ্বলছে দাউ দাউ করে। আমার পোড়া চামড়া খসে পড়ছে কোথাও কোথাও মাংসপিণ্ডও। এগুলো নিয়ে আর ভাববার সময় নেই। মনে পড়ছে বাবার কত স্বপ্ন ছিলো আমাকে নিয়ে সেগুলো সব আমাকে পূরণ করতে হবে। আমার হাতের দুটি আঙ্গুল জ্বলতে জ্বলতেই খসে পড়ে গেলো পায়ের কাছে। পা মানে পুড়ে আঙ্গার হয়ে যাওয়া একটি কাঠ কয়লার খন্ড। আমার হাসি পেল। নিজের মাংস পোড়া গন্ধ নিজেই সহ্য করতে পারছি না। প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে, চোখে রাজ্যের ঘুমে জড়িয়ে আসছে।
প্রিয় নেত্রী আপনার বড় সন্তান তারেক রহমান আর আমার বাবা একই বয়সের। একবার ভাবুন তো এই বয়সে তারেক রহমানের দুই সন্তান জ্বলছে সঙ্গে তারেকও। আর বাসের বাইরে বসে আপনি আহাজারি করছেন। বাতাসে ভাসছে আপনার প্রাণপ্রিয় সন্তান ও নাতনিদের মাংস পোড়া উৎকট গন্ধ। আপনি সহ্য করতে পারছেন না সেই গন্ধ। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানিনা। মায়ের চিৎকারে আমার তন্দ্রা ছুটে গেলো। মা…..আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার বায়নাতেই তোমরা আমাকে কক্সবাজার দেখাতে নিয়েছ।

গঠনাটি কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবতা বিবর্জিত নয় ।
কাউকে আঘাত করার জন্যও নয়। মাইশার পরিবারের
প্রতি গভীর সমবেদনা ]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×