somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যের পথে আরিফ
আমি শিখি একসাথে জিকির জিহাদ, শাহ্জালালের কাছে। তাই কি করে তাগুত হয় পরাভূত, সে আমার জানা আছে। আমি শিখেছি লড়াই, দরবেশ ফকির মজনু শাহর। আমি মানুষের চির-কল্যানকামী, অনুসারী আল্লাহর। আমি শক্তি ভক্তি যুক্তিতে খুঁজি, মুক্তির সন্ধান। বাংলাদেশের মুসলিম আমি, বাঙাল

মরিয়া ও অমর হয় যদি লোকে ঘোষে, বাঁচিয়া কি ফল হবে যদি লোকে দোষে।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাবের এবার এস এসসি পরীক্ষার্থী। জেলার শ্রেষ্ঠ স্কুল থেকে। ১৮৩ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে মেধা তালিকায় সাবের প্রথম। ওর থেকে শোনা একটি স্মরণীয় ঘটনা।
ওদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিকট সব চেয়ে খারাব শিক্ষক হচ্ছে সুবাস স্যার।
ইংলিশ পড়াতেন। মেজাজ খুব কড়া। পড়ায় বা লেখায় কোন ভুল হলেই বেত্রাঘাত। তার কাছে ক্ষমা বলতে কোন কথা নাই। কোন শিক্ষার্থী তাকে ভাল বলত না। খুব খারাপ জানত। অগোচরে তাকে ছাত্ররা বলত নমো, টাউক্কা, গুবাস ইত্যাদি।
সকলেই তাকে ভয় পেত। তার বিরুদ্ধ সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার মত সাহস কারো নেই। শাসনের ব্যাপারে হেড স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ারও কারো সাহস হয় না। মৌখিক দিলেও হেড স্যারে কোন একশন নেন না। কারন, তিনিও সুবাস স্যারের ছাত্র।কোনদিন অসুখ হয়না। বেড়াতে যেতেন না। ছুটি নেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। এর মানে তার ঘন্টায় রেষ্ট পাওয়ার সুযোগ নাই।
তিনি যেহেতু পড়া আদায়ে কঠোর, তাকে একটা সহজ
সাবজেক্ট দিলেইতো ছাত্ররা নিস্তার পায়। হেড মাষ্টার তাও করেন না। একদিন ছাত্রদেরআনন্দের মহেন্দ্রক্ষন এসে গেল। মুহূর্তের মধ্যে সংবাদ ছড়িয়ে পরল, স্যারের চাকরী মেয়াদ শেষ। সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে সুখের সুবাতাস বইতে লাগল। সবার মুখে হাসি। একদিন ক্লাশে নোটিশ পড়ে শোনান হলো,২৫ ডিসেম্বর ইংরেজী স্যার সুবাস বাবুর বিদায় অনুষ্ঠান।
হেড স্যার প্রত্যেক
ক্লাশে গিয়ে ইংরেজী স্যারকে উপহার প্রদানের জন্য সবাই যেন ধার্যকৃত চাঁদা আদায় করে, এ জন্য বলে গেলেন। শিক্ষার্থীরাও স্যারের বিদায়ের খুশীতে দ্রুত চাঁদা পরিশোধ করল। বিদায়ী দিবসের তিন দিন আগ থেকেই সুবাস স্যার চোখে কালো চশমা পরে স্কুলে আসতেন ক্লাশে পড়াতেন আর চশমার নীচ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত। ছাত্ররা এ অশ্রুর মর্ম বুঝতে পারেনি। তবে কোন কোন ছাত্র স্যারের চোখে পানি দেখে তারাও কাঁদত। নির্ধারিত দিবসের আগের দিন স্যার প্রত্যেক ক্লাশেই গেলেন। কিন্তু কোন ক্লাশেই কিছু পড়ালেন না। শুধু কাঁদলেন আর কাঁদলেন। সাবেরদের দশম শ্রেণীতেও পুরো এক প্রিয়ডের সময় পরিমান স্যার কাঁদলেন। এতদিন পর সকল শিক্ষার্থী আজ যেন বুঝতে পারল, তাদের এক কঠোর দায়িত্ববান অবিভাবক বিদায় নিচ্ছে। পিতৃসম শ্রদ্ধেয় ইংরেজী শিক্ষক সুবাস স্যার আর ক্লাশে আসবেন না।
কোন দিন পড়া শিক্ষা দিতে বেত্রাঘাত করবেন না। পুরো ক্লাশের শতাধিক সন্তান যেন পিতার মৃত্যুর যন্ত্রনার মত আঘাত অনুভব করল। কেউ কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে শিক্ষাগুরুর পদযুগলে লুটিয়ে পরল। শ্রেণী কক্ষে শুধু
কান্নার ধনি। কিসের আওয়াজ তা দেখতে এলেন এসিষ্ট্যান্ট হেড স্যার। তিনিও কেঁদে ফেললেন।
নির্ধারিত দিন এসে গেল। অনুষ্ঠান শুরু হলো। সচিব,ডি সি, এ ডি সি, এম পি, টি এন ও, মেজিষ্ট্রেট, চেয়ারম্যান, প্রিন্সিপাল, প্রফেসর, ডাক্তার, ডক্টর, শিক্ষক এ রকম উচ্চ- নিম্ন নানান শ্রেণীর ব্যক্তিদের গাড়ীতে স্কুল মাঠ প্রায় অর্ধেক পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এরা অনেকেই সুবাস স্যারের ছাত্র। অতিথীবৃন্দ
স্যারের গুনের
প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার
এবং কৃতিত্ব মূলক
বক্তব্য দিলেন। তবে,
না কেঁদে কেউ বক্তব্য
দিতে পারেননি।
সকল শিক্ষার্থি বৃন্দ এসব
দৃশ্য দেখে, আর
শুনে স্যারের
প্রতি আকৃষ্ট হতে লাগল।
তাদের
দুষ্ট মস্তক তাঁর সাধনার
সম্মুখে অবনত হলো। এ
শিক্ষক এত বড় কিছু
তা হাড়ে হাড়ে টের
পেল।
স্যারের
মুখে বিদায়ী কিছু
কথা শোনার জন্য
সবাই উদগ্রীব।
সর্বশেষে বক্তৃতা দিতে দাড়ালেন
আমাদের সর্বাধিক
প্রিয় ইংলিশ স্যার।
স্যার কেবল ঐ
দিন ই
কাঁধে একটি গামছা আনলেন।
চোখে কালো রংএর
চশমা, কাঁধে গামছা।
বীরেত ন্যায়
দাড়ালেন।
কেননা তিনি অনেক
বড়র শিক্ষা গুরু।
একি স্যার
যে কথা বলছেন
না। কেন? কালো চশমার
নীচ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝড়ছে।
কথা বলতে চান।
পারছেন না। কিছু
বলতে শুরু
করতে নাকরতেই
কান্নারা এসে থামিয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত
কান্নারাই জয় লাভ করল।
স্যারকে চেয়ারে বসান
হলো। এতক্ষন
গামছা দিয়ে চোখ আর
নাক মুছতেন। এবার
সে গামছা দ্বারা চেহারা ঢেকে শিশুদের
মত
কাঁদতে লাগলেন।
অনুষ্ঠানের হলরুমে শুধু
কান্না।
বন্ধুরা!
চোখ মুছে ফেল। আসল
কথা শোন।
একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
একজন অবিভাবক
বিদায়ে যদি এমন
হৃদয়স্পর্সী দৃশ্যের
অবতারনা হয়। হবেইতো,
হওয়াটাই
স্বাভাবিক।
বরং না হওয়াটা অস্বাভাবিক।
তাই না?
তাহলে একটা রাষ্ট্রের
অবিভাবকের
বিদায়ে নাগরিকগণ
অবশ্যই ব্যথাতুর হওয়ার
কথা। যেমন সাউথ
আফ্রিকার প্রয়াত
রাষ্ট্রপতি নেলসন
ম্যানডেলার মৃত্যু। কিন্তু,
আমাদের দেশের
অবিভাবকদের
অবস্থা যেন
ভিন্ন। দেশ স্বাধীন
হওয়ার পর এপর্যন্ত
রাষ্ট্রের একাধিক
প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী,
এমপি মারা গেছেন ।
তাদের
মৃত্যুতে জাতি শোকে মুহ্যমান
হয়নি। আপামর
জনসাধারণ শোকাতুর
হয়নি।
এইতো সেদিন
মারা গেলেন যুবরাজ
আরাফাতুর
রহমান কোকো। কই
পাবলিকতো কাঁদলনা!
যুবরাজ তারেকুর রহমান
ক্যাকোও মহান
মহিয়ানের অমোঘ
বিধি অনুযায়ী একদিন
মারা যাবেন। দেশের
নাগরিকদের মন
মানসিকতায় বুঝা যায়
ব্যথিত হবে না। অপর
রাজপুত্র সজিব ওয়াজেদ
জয়। তিনিও একদিন এ
ধরায় থাকবেন না।
জাতি তাঁর জন্য কতদূর কষ্ট
পাবে তাও যেন একটু একটু
বুঝা যায়।
ভেবেছিলাম, কোকোর
মৃত্যুতে হরতালতো বন্ধ
হবেই। অবরোধও অন্তত:
দু'দিনের জন্য হলেও বন্ধ
রাখার
ঘোষনা দিবে তাঁর
মাতা। অন্তত
জাতি স্মরণ রাখত। নাহ,
ভাবনা ঠিক হয়নি।
অতএব,
আমাকে সহ সকল মুসলিম
ভাই-বোনদেরকে বলব,
এমন জীবন গঠন
করি যাতে মৃত্যুর
পরে হাসব,
জীবিতরা আমার জন্য
কাঁদবে। এমন জীবন যেন
না হয় যে, আমার মৃত্যুর পর
কেউ ইন্না লিল্লাহ
বলেনি।
বরং কতেকে বলেছে আলহামদু
লিল্লাহ।
"এমন জীবন তুমি কররে গঠন,
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×